ফের বৃদ্ধি পাচ্ছে ভোজ্যতেলের দাম বাজার নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিতে হবে

0
42

দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম আবার বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অনেক বাড়তি, এই অজুহাত তুলে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় গত বছরের ডিসেম্বরে পণ্যটির দাম বাড়ানোর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় সমিতি। মন্ত্রণালয় ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছ থেকে এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ চায়। ট্যারিফ কমিশনের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ এবং আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করে গত ১৭ ফেব্রম্নয়ারি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করে। অবাক ব্যাপার, এর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে গত ১৫ মার্চ লিটারপ্রতি আরো ৫ টাকা বাড়িয়ে ১৩৯ টাকা নির্ধারণ করে। তখন খোলা সয়াবিন তেলের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১১৭ টাকা এবং ৫ লিটার বোতলের সয়াবিন তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৬৬০ টাকা। আমরা মনে করি, করোনাকালে সরকারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। কারণ এর মধ্যে চারবার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। করোনা মহামারির মধ্যেই আবাসিক ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট (১ হাজার লিটার) পানির দাম ৫ শতাংশ হারে বাড়িয়েছে ঢাকা ওয়াসা; যা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। পানির দাম বাড়ানো হয়েছে, এবার যদি ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হয়, তা হলে বাড়তি দাম করোনাকালে ভোক্তাদের আয়ের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। মনে রাখতে হবে, ভোজ্যতেলের দাম গত ৯ বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বোতলজাত এক লিটার তেলের দাম ছিল ১০৫ টাকা, সেটা বেড়ে হয়েছে ১৩৯ টাকা। আবারও বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। মূলত দেশের অসৎ ও অতি মুনাফাখোর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে নানা সময়ে নানা অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়ে। বিভিন্ন ধরনের অজুহাত সামনে রেখে বাজার অস্থির হওয়ার বিষয়টি যেমন নতুন নয়, তেমনি কারসাজিসহ নানা কারণেই নিত্যপণ্যর দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও বারবার আলোচনায় আসে। এর প্রভাব পড়ে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে নিম্ন আয়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। তারা ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হলে চলবে না। নিত্যপণ্যের দাম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ভোজ্যতেলসহ বাজার নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিতে হবে। বাজার নিয়ে অতীতে অনেক পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, প্রচুর লেখালেখি হয়েছে, কোনো কাজ হয়নি। বিক্রেতাদের মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা মনে করি, বিক্রেতাদের মানসিকতার পরিবর্তন যতদিন না ঘটবে ততদিন নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির থাকবেই এবং দেশের জনগণও তাদের কাছে জিম্মি থাকবে। মৌসুমভিত্তিক নয়, সারা বছর বাজার মনিটরিং করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের কার্যকর কঠোর উদ্যোগই কেবল পারে জনগণতে হয়রানি ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে এবং এর কোনো বিকল্প নেই।