ফুলবাড়ীগেট রেলক্রসিংয়ে দূর্ঘটনার আশংকা : ঝুকিপুর্ণ ভাবে চলছে যানবাহন

0
378

ফুলবাড়ীগেট (খুলনা) প্রতিনিধি :
খুলনা যশোর অঞ্চলের মধ্যে রেলওয়ের সব থেকে গুরুত্বপুর্ণ রেলক্রসিং ফুলবাড়ীগেট ক্রসিং পয়েন্টটি। যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর দায়িত্বহীনতা বছরের পর বছর ধরে চরম ঝুকিপুর্ণ ভাবে পড়ে রয়েছে। ক্রসিংয়ের ৮টি লিপটন গেটে বেরিয়ারের মধ্যে মাত্র দুটি ঝুকি নিয়ে দায়সারা কাজ চালানো হচ্ছে। বাকী ৬টি দীর্ঘদিন নষ্ট এর মধ্যে একটি গত কয়েকদিন ধরে নষ্ট থাকায় মহাসড়কে কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই যানবাহন এবং পথচারীগণ ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে। ব্যস্থতম ও গুরুত্বপুর্ণ এই রেলক্রসিংয়ে যে কোন মুহুর্তে ঘটে যেতে পারে মারাক্তক দূর্ঘটনা। আশংকা রয়েছে বহু মানুষের প্রাণহানীর ।
সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে, খুলনা-যশোর মহাসড়কের ডাবল লেন সড়কের ফুলবাড়ীগেট রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তার জন্য রাস্তার দুই পাশের দন্ডায়মান ৮টি গেট বেরিয়ার দেখলে মনে হবে মহাসড়কের রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাস্তবে সম্পুন্ন ভিন্ন সবগুলোই এক প্রকার নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। প্রতিটি গেট বেরিয়ার ভাঙ্গা লোহার এ্যাংগেল দিয়ে কোন রকম ঝালাই করা হলেও মাত্র দুটি গেট কোন রকম কাজ করছে অন্যগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

 

সকাল সোয়া ৮টায় মালগাড়ী আসছে দৌড়ে দৌড়ে গেটম্যান মহাসড়কের রেলক্রসিংয়ের ডাবললেন সড়কের মোট ৮টি লিপটন গেট বেরিয়ারের মধ্যে এক পাশের মাত্র দুটি ভাঙ্গা গেট হাতল ঘুরিয়ে ফেলে দিয়ে সড়কের অপর পাশের অন্য লেনের সড়কের উপর জীবনের ঝুকি নিয়ে লাল ফ্লাগ এবং কাপুড় দিয়ে যানবাহন এবং পথচারীর গতীরোধে কাজ করছে। কেহ তার সংকেত মানছে আবার কেহ মানছেনা। বয়স্ক গেটম্যান ইরফান গাজী এই প্রতিনিধিকে বলেন, দূর্ঘটনা ঘটলে গেটম্যানদের দায়ী এবং তারা জনরোশের স্বিকার হয়ে লাঞ্চিত হয় এবং একই সাথে অফিসিয়াল ভাবে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে কিন্তু রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রের ত্রæটির কারণে জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করেও দূর্ঘটনা ঘটলে আমাদের উপর দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তুু যাদের গাফিলতির জন্য দুর্ঘটনা ঘটে তাদের কিছুই হয়না। তিনি আরো বলেন, রেলক্রসিংয়ের মোট ৮টি গেট বেরিয়ারের মধ্যে প্রায় সব কয়টি অকেজো। গেট বেরিয়ারের সাথে সংযুক্ত হুইল চাকা এবং তার মাসের পর মাস নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের একজন কর্মচারী জানান যত সব নষ্ট অকেজো গেট বেরিয়ার তালিপট্টি জোড়া দিয়ে অফিসে বিল করে টাকা নিয়ে অকেজো মাল লগিয়ে দিয়েছে যা কোন কাজে আসছে না। গুরুত্বপুর্ণ এই পয়েন্টে সিগনাল লাইট এবং আধুনিক ক্রসিং ব্যবস্থা প্রয়োজনের পাশাপশি এই গুরুত্বপুর্ণ রেলক্রসিংয়ের জন্য ৬জন গেটম্যান প্রয়োজন হয় তার মধ্যে ৩জন গেটম্যান বর্তমানে পালাক্রমে কাজ করছি।
এ বিষয়ে কথা বলতে খুলনা যশোর অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ সিরাজুল ইসলাম রেলক্রসিংটি গুরুত্বপুর্ণ স্বিকার করে বলেন আজকের মধ্যে অকেজো দুটি গেট বেরিয়ার সরিয়ে ফেলে এক জোড়া গেট বেরিয়ার স্থাপন করা হবে। তিনি আরো বলেন অর্থের সংকটে এখনে ব্যাপোক ভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা।