ফিলিস্তিনির কান্না শেষ হবে কবে

0
1010

অনলাইন ডেক্স :

মূলত প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই ইহুদিরা দলে দলে ফিলিস্তিনে আসতে শুরু করে এবং ফিলিস্তিনি ভূমি কেনা শুরু করে। ফিলিস্তিনকে ইহুদিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার সেটাই ছিল প্রথম পদক্ষেপ।
বর্তমানে ইসরায়েল রাষ্ট্র যে ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত, ঐতিহাসিকভাবে সে ভূমি ফিলিস্তিনিদের। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে সমগ্র ফিলিস্তিনি অঞ্চলে মুসলমান, খ্রিষ্টান ও ইহুদিরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতো। তখন ইউরোপজুড়ে ইহুদিদের উপর দমন নিপীড়নের কারণে ইহুদিরা সেখানে নিজেদেরকে অনিরাপদ বোধ করতে শুরু করে। ইহুদিবাদীরা তখন তাদের বসবাসের জন্য ফিলিস্তিনি অঞ্চলকেই সবচেয়ে নিরাপদ মনে করে।

মূলত প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই ইহুদিরা দলে দলে ফিলিস্তিনে আসতে শুরু করে এবং ফিলিস্তিনি ভূমি কেনা শুরু করে। ফিলিস্তিনকে ইহুদিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার সেটাই ছিল প্রথম পদক্ষেপ। এরপর শুরু হলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং যুদ্ধ চলাকালীন ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর জায়নিস্টদের (ইহুদিবাদী) দাবি মেনে ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইহুদিদের জন্য ‘ন্যাশনাল হোম’ করে দেওয়ার অঙ্গীকার করে বসল ব্রিটেন। এ ঘোষণার নাম বেলফোর ডিক্লারেশন।

এ ঘোষণার উপর ভিত্তি করেই ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের কাছে অটোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটার পর তারা ফিলিস্তিন দখল করে নেয়। ফিলিস্তিনের দখল ব্রিটিশদের হাতে চলে যাওয়ার পর আরও বহু সংখ্যক ইহুদি দলে দলে ফিলিস্তিনে এসে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করতে শুরু করে, ব্রিটিশদের সরাসরি অনুমতি ছাড়া যেটা ছিল অসম্ভব। এরপর কয়েক দশক ধরে ইহুদিরা ফিলিস্তিনে অভিবাসন অব্যাহত রাখে। ১৯৩৬ সালে ফিলিস্তিনি জনগণ প্রথমবারের মতো অন্যায় ইহুদি অভিবাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। তিন বছর ধরে চলা সে বিক্ষোভে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়। শত শত ব্রিটিশ ও ইহুদিও সে সময় নিহত হয়। ব্রিটিশরা তখন ইহুদি অভিবাসন কিছুটা কমিয়ে আনে।
ইসরায়েল রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক শুরুর দিনটিকে ফিলিস্তিনিরা পালন করে ‘নাকবা’ বা মহাবিপর্যয়কর দিন হিসেবে। নাকবার ৭০ বছর পেরিয়ে গেলেও ফিলিস্তিনিদের মহাবিপর্যয় এখনো শেষ হয়নি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের হাতে ৬০ লাখ ইহুদির প্রাণ হারানোর (হলোকাস্ট) পর ইহুদিরা আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। তাদের নিজেদের আলাদা রাষ্ট্রের দাবি আরও জোরালো হয়। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পেছনে হলোকাস্টের অন্যতম বড় ভূমিকা আছে। হলোকাস্ট ছিল ইউরোপীয়দের ভুল। অথচ আজও সে ভুলের বোঝা বইতে হচ্ছে নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের। এ ফিলিস্তিনিরা একসময় বাস্তুচ্যুত ইহুদিদের ভাইয়ের স্নেহে নিজেদের ঘরে আশ্রয় দিয়েছিল। অথচ সেই ভাই পরে মালিককেই তার ঘর থেকে উচ্ছেদ করে দিয়েছে। হায়রে ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য!

২০০০ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০০৫ সাল পর্যন্ত চলে দ্বিতীয় ইন্তিফাদা

ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য ছিনিয়ে নিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যার উপর ভিত্তি করে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ইহুদিরা সবসময় বলে আসছে এ ভূমিটি তাদের আদি বাসস্থান এবং তাদের পূর্বপুরুষরা এখানেই বসবাস করতো। তাই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার হিসেবে তারাই এ অঞ্চলের আসল দাবিদার। অথচ আন্তর্জাতিক আইনে এটি সম্পূর্ণ অন্যায় এবং অবৈধ। পূর্বপুরুষদের বসবাস অনুসারে যদি দেশের দাবি করা যেত, তাহলে শ্বেতাঙ্গদের স্থানতো আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা কোথাও হতো না। আর ঐহাসিকভাবেও ইহুদিরা ফিলিস্তিনি অঞ্চলে বসবাস করতো না। যিশুখ্রীষ্ট্রের জন্মের আগে ও পরে মাত্র কয়েকশ বছর ধরে জেরুজালেমে ইহুদি অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে। অথচ মিথ্যা আদি বসবাসের দাবি করে জেরুজালেমের তিন হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্যকে ধ্বংস করে দিতে চায় ইসরায়েল। কবির সুমনের সেই গানের মতো বলতে ইচ্ছা করে ‘কতটা কান পাতলে তবে কান্না শোনা যাবে’।

শুধু ফিলিস্তিন দখল করেই ইসরায়েল ক্ষান্ত হয়নি। বরং জায়নিস্টরা ফিলিস্তিনের দখলকৃত ভূমির সাথে জর্ডান, সিরিয়া ও মিসরের কিছু অংশসহ সমগ্র অঞ্চলেই ইসরায়েল রাষ্ট্রের সীমানা বাড়ানোর কাজে সক্রিয়।

ব্রিটিশদের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুদ্ধ হয় ইহুদিরা। ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভের সময় ইহুদিরা ব্রিটিশদের পক্ষে লড়াই করলেও ব্রিটিশদের এ সিদ্ধান্তে প্রতারিত বোধ করে তারা। ক্ষুদ্ধ হয়ে ইহুদিরা নিজেদের সামরিক শক্তি গড়ে তোলে এবং একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ইহুদিদের বোমা হামলায় দিশেহারা ব্রিটিশরা ১৯৪৭ সালে ফিলিস্তিন ছেড়ে চলে যাবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ফিলিস্তিনের ভাগ্য চলে যায় জাতিসংঘের হাতে। জাতিসংঘ সিদ্ধান্ত নেয় ফিলিস্তিনকে দু ভাগে ভাগ করে ইহুদি ও মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠন করা হবে।

ব্রিটিশরা ফিলিস্তিন ছেড়ে চলে যাবার কয়েক মাস আগে থেকেই গণহারে ফিলিস্তিনি নিধন (এথনিক ক্লিনজিং) শুরু করে ইহুদিরা, কারণ তারা ততদিনে শক্তিশালী অস্ত্রে সজ্জিত। ১৪ মে, ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশরা আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন ত্যাগ করে এবং তাদের কামান, ট্যাংক নিয়ে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র ইসরায়েলে চলে যায়।

কীভাবে ইহুদিরা ফিলিস্তিনিদেরকে নিজেদের ভূমি থেকে বিতাড়িত করেছে, তার বর্ণনা দিয়েছেন ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ থিওডোর কার্টজ।

তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলি সেনারা ফিলিস্তিনি গ্রামগুলো থেকে ১০ জন করে তরুণকে ধরে নিয়ে আসতো এবং সব গ্রামবাসীর সামনে একজন একজন করে গুলি করে মারতো। যাতে গ্রামবাসীরা ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। এভাবে ইসরায়েলি সেনারা ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করতে শুরু করে।’ লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে উচ্ছেদ করে ইহুদিরা ফিলিস্তিনের প্রধান প্রধান শহর ও শত শত গ্রাম দখল করে নেয়। উদ্বাস্তু ফিলিস্তিনিরা পাশ্ববর্তী দেশগুলোতে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

১৯১৭ সাল থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিন ছিল ব্রিটিশদের দখলে। এ সময়ে সে অঞ্চলে ইহুদিদের সংখ্যা ১০ গুণ বেড়ে হয় ৫ লাখ। ১৮ মে ১৯৪৮ সালে ইহুদিরা তাদের নতুর রাস্ট্র ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় এবং সাথে সাথেই ইসরায়েলকে চারদিক থেকে ঘিরে থাকা আরব দেশগুলো ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ইসরায়েলের জনসংখ্যা কম হলেও দেশটি সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রচুর বিদেশি সমর্থন পায়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ছিল অত্যন্ত দক্ষ এবং নিবেদিত। ইসরায়েল ছোট হলেও তাদের সামরিক শক্তি ছিল পাশ্ববর্তী আবর দেশগুলোর সমন্বিত সামরিক শক্তির চেয়েও বেশি। এ যুদ্ধে জিতে ইসরায়েল আবারও ফিলিস্তিনিদেরকে উচ্ছেদ করে তাদের ভূমি দখল করা শুরু করে। ১৯৪৯ সালের এপ্রিল নাগাদ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনের ১০টি শহর ও ৫০০’র বেশি গ্রাম দখল করে নেয়। সাড়ে ৭ লাখ ফিলিস্তিনি ততদিনে ঘরছাড়া হয়ে গেছে এবং নিহত হয়েছে ১৩ হাজার। ১৯১০ এর দশক থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী হয়েছে, আর নিহত হয়েছে প্রায় এক লাখ।

এরপর আসলো ১৯৬৭ সালের যুদ্ধ। ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল তার পাশ্ববর্তী সবগুলো আরব দেশের সাথে একযোগে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। মাত্র ছয়দিনের ব্যবধানে ইসরায়েল পুরো ফিলিস্তিনি এলাকা থেকে শুরু করে সিরিয়া, জর্ডানের একাংশও দখল করে ফেলে। ইসরায়েলি বিমান হামলায় মাত্র দুই ঘণ্টারও কম সময়ে মিসরের পুরো বিমানবাহিনী ধ্বংস হয়ে যায়। এ যুদ্ধের পর ইসরায়েলি দখলদারি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। এখনো প্রতিদিন ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন হচ্ছে আর প্রতিদিন নিজেদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইহুদি বসতি দিনকে দিন বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ একটি রেজুল্যেশন জারি করে যেখানে বলা হয়, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর নির্ধারিত সীমানার বাইরে ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইহুদি বসতি সম্পূর্ণ অন্যায় এবং অবৈধ। এ ইহুদি বসতি মধ্যপ্রচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার প্রধান অন্তরায়।

তখন দুটি মতবাদ দাঁড়িয়ে যায়। অনেক ইসরায়েলি বলছিল তারা মূলত এমন ভূমিতে বসতি স্থাপন করছে যেগুলো খালি ছিল এবং যুদ্ধের মাধ্যমে তারা সেগুলোর দখল পেয়েছিল। কিন্তু তারা বাদে বাকী বিশ্বসম্প্রদায় এটিকে নতুন ইসরায়েলি উপনিবেশবাদ হিসেবেই আখ্যায়িত করছিল। বিশ্বসম্প্রদায়ের আপত্তি ও নিন্দার মধ্যেই প্রতিবছর ইসরায়েলি বসতি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে থাকে। ইসরায়েলি হাউজিং মিনিস্ট্রি পশ্চিম তীরে হাসপাতাল, রাস্তাঘাট স্থাপন করে ও ইসরায়েলের মূল ভূমির সাথে যোগাযোগ তৈরি করে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক নিন্দার মুখে ১৯৯৩-১৯৯৫ সালের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দুই দফা শান্তি চুক্তি হয় (অসলো অ্যাকর্ডস)। প্রথমটি ১৯৯৩ সালে ওয়াশিংটনে ও দ্বিতীয়টি ১৯৯৫ সালে মিসরের তাবায়। এটি ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি আলোচনার একটি ‍উদ্যোগ। এ চুক্তির আওতায় পশ্চিম তীরকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়।

প্রথম অঞ্চল: এ এলাকায় ফিলিন্তিনিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও সরকারব্যবস্থা জারি থাকবে। এটি পুরো পশ্চিম তীরের ১৮ শতাংশ এবং অধিকাংশ ফিলিস্তিনিদের বসবাস এসব অঞ্চলেই। (চুক্তির এ অংশটি এজন্য গুরুত্বপূর্ণ যে এই প্রথম ফিলিস্তিনিদেরকে প্রথমবারের মতো শাসনক্ষমতা দেওয়া হলো।)

দ্বিতীয় অঞ্চল: এ এলাকাগুলোতে ফিলিস্তিনের সরকারব্যবস্থা বলবৎ থাকবে, কিন্তু এ এলাকাগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে ইসরায়েলের হাতে। অর্থাৎ ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরায়েলি সেনার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হলো। এ এলাকাগুলো পশ্চিম তীরের ২২ শতাংশ।

গাজায় ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের প্রথম গণআন্দোলন শুরু হয় ১৯৮৭ সালে এবং শেষ হয় ১৯৯৩ সালে অসলো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষতির হওয়ার পর। এটি প্রথম ইন্তিফাদা নামে পরিচিত। প্রথম ইন্তিফাদার এ ছবিতে ইসরায়েলি ট্যাংকের দিকে একটি ফিলিস্তিনি শিশুকে পাথর ছুঁড়তে দেখা যাচ্ছে।

তৃতীয় অঞ্চল: এটি পুরোটাই ইসরায়েলি সরকার ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এ অঞ্চলগুলো পশ্চিম তীরের ৬০ শতাংশ এবং পশ্চিম তীরের সব কৃষিজমি ও পানির উৎসগুলো এ তৃতীয় অঞ্চলের আওতায় পড়েছে।

এ চুক্তির ফলে ইসরায়েলিরা পশ্চিম তীরে তাদের বসতি থেকে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে অনায়াসে যাতায়ত করতে পারত। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের রাস্তায় বের হলেওই নানা বাধা ও চেকপোস্টের মুখে পড়তে হতো। দুই পক্ষই এ চুক্তিটি মেনে চললেও তৃতীয় অঞ্চলে ইসরায়েল তাদের বসতি বৃদ্ধি করতেই থাকলো।

এরপর ২০০৫ সালে আবারও বড় ধরনের পরিবর্তন আসলো। গাজায় ইসরায়েলি বসতির উপর ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারন গাজা থেকে সাড়ে ৮ লাখ ইসরায়েলিকে সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি করতে শুরু করলেন এবং সে ধারা এখনো অব্যাহত আছে।

অনেকে ভাবছেন এ সমস্যা সমাধানে দ্বৈতরাষ্ট্র নীতি কার্যকর সুফল এনে দেবে এবং ফিলিস্তিনিদেরকে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ দিবে। কিন্তু পশ্চিম তীরের মানচিত্র দেখলেই বোঝা যাবে এটি দিনকে দিন কতটা কঠিন হয়ে উঠেছে। পুরো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে অাছে। নিচের মানচিত্রের দিকে তাকানো যাক। অসলো শান্তি চুক্তি অনুসারে এটি পশ্চিম তীরের মানচিত্র। মানচিত্রে প্রদর্শিত নীল অংশটি প্রথম অঞ্চল, সবুজ অংশটি দ্বিতীয় অঞ্চল এবং আকাশি অংশটি তৃতীয় অঞ্চল।