ফরাসি জাগরণে উরুগুয়ের বিদায় গ্রিজম্যান গোল করবেন আর ফ্রান্স জিতবে না, তা কী করে হয়!

0
481

ফরাসি শাসন চলছেই। সেই শাসনে আর্জেন্টিনার পর বিদায় ঘণ্টা বেজে গেল উরুগুয়েরও। আর ২-০ গোলের দারুণ জয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল ক্রমেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা ফ্রান্স। অন্যদিকে একজন এডিনসন কাভানির জন্য উরুগুয়ে শিবিরে দেখা গেল রাজ্যের হাহাকার। বারবার আক্রমণ করেও ফ্রান্সের জালে বল পাঠানোর মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া গেল না।

৬১ মিনিট থেকেই ফরাসিরা ম্যাচ জয়ের উদযাপন শুরু করে দেয়। ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া, সেটাও অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যানের গোলে। গ্রিজম্যান গোল করবেন আর ফ্রান্স জিতবে না, তা কী করে হয়! ফরাসিদের ফুটবল ইতিহাসেই এমন ম্যাচ নেই। গ্রিজম্যান গোল করেছেন এমন প্রতিটি ম্যাচেই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ীরা।

উরুগুয়ের বিপক্ষে পাওয়া এই জয়টি ফ্রান্সের কাছে অমূল্য, সেটা বলার অপেক্ষাই রাখে না। এই জয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে উঠল ফরাসিরা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিপক্ষে হারের ডেরা থেকেও মুক্ত হলো তারা। বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিপক্ষে এটাই ফ্রান্সের প্রথম জয়। আগের তিন সাক্ষাতে দুটিতে ড্র করলেও ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ২-১ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ফরাসিদের।

লড়াইটা জমবে বেশ, সেটা জানা ছিল। ম্যাচের শুরু থেকেই সেটা দেখা গেছে। প্রথমার্ধে বল দখলের লড়াইয়ে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও উরুগুয়ে সুযোগ বুঝে হানা দিয়ে গেছে। খেলা শুরুর বাঁশি বেজে উঠতেই নিঝনি নভগোরদ স্টেডিয়ামে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ফরাসিরা। যদিও প্রথম আক্রমণটি করে উরুগুয়েই। তাতে অবশ্য ফায়দা হয়নি। সুযোগ তৈরি করেও গোলে শট নিতে পারেননি সুয়ারেজ-স্টুয়ানিরা।

ফ্রান্স বলের দখলে থাকলেও উরুগুয়ে আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকেনি। ১৩ মিনিটে কর্নার কিক থেকে হেড করেন ইনজুরির কারণে ছিটকে যাওয়া এডিনসন কাভানির জায়গায় মাঠে নামা ক্রিসথিয়ান স্টুয়ানি। কিন্তু দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ফ্রান্স গোলরক্ষক হুগো লরিস। ১৫ মিনিটে প্রথম আক্রমণ করে ফ্রান্স। সহজ সুযোগ ছিল। কিন্তু ফাঁকা থেকেও সেটাকে কাজে লাগাতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার করা হেড গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায়।

বল দখলের লড়াইয়ে শাসন টিকিয়ে রাখে ফরাসিরা। ৩৪ মিনিটে ডান পাশ ঘেঁষে চিতার গতিতে ছুটতে থাকেন এমবাপ্পে।উরুগুয়ের ডি বক্সেও ঢুকে পড়েন ফ্রান্সের তরুণ এই স্ট্রাইকার। কিন্তু সঙ্গে কাউকে পাননি তিনি। এমবাপ্পের করা ক্রস থেকে শট নেওয়ার মতো কেউ ছিল না সেখানে।

দুই দলই গতিময় ফুটবল খেলে আক্রমণ করে গেলেও প্রতিপক্ষের গোলমুখে সেভাবে শট নিতে পারছিল না। ৪০ মিনিটে গিয়ে এই কাজটি করলেন ফ্রান্সের অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান। আর প্রথম মিশনেই মিলে যায় গোলের দেখা। গ্রিজম্যানের অসাধারণ ফ্রি কিকে মাথা গুঁজে উরুগুয়ের জালে বল জড়িয়ে দেন ফরাসি ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানে।

পিছিয়ে পড়া উরুগুয়ে চার মিনিট পরই সমতায় ফিরতে পারত। ফ্রি কিক থেকে নেওয়া মার্টিন কাসামেরোর হেড প্রায় জড়িয়ে গিয়েছিল ফ্রান্সের জালে। কিন্তু আবারও লরিস বাধা। অসাধারণ দক্ষতায় ডান পাশে ঝাঁপিয়ে পড়ে দলকে রক্ষা করেন লরিস।

ফ্রান্স গোলরক্ষকের ফিরিয়ে দেওয়া বলে গোলপোস্টের একবারে কাছ থেকে শট নিয়েও সবাইকে হতাশ করেন উরুগুয়ের অধিনায়ক দিয়েগো গোডিন। মাত্র কয়েক হাত দূর থেকে গোডিনের নেওয়া শট বাইরে দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধে আর সমতায় ফেরা হয়নি উরুগুয়ের।

গোল শোধে মরিয়া উরুগুয়ে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায়। তবে এ সময় ফ্রান্সের রক্ষণ গুঁড়িয়ে গোল ছিনিয়ে আনতে পারেনি তারা। উল্টো ৬১ মিনিটে উরুগুয়ে শিবিরে হতাশা নামিয়ে আনেন গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা।

ডি বক্সের বাইরে থেকে গ্রিজম্যানের নেওয়া শট মুসলেরার হাত ফসকে জড়িয়ে যায় জালে। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে উরুগুয়ে।