ফকিরহাটে ভৈরব নদীটি খননের অভাবে বর্তমানে মৃতপ্রায়

0
628

এম জাকির হোসেন, ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি, খুলনাটাইমস:
নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ। এদেশে জালের মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ছোট বড় নদী। আঠারোবেকীর শাখা রুপসা-বাগেরহাট ভৈরব নদী তাদের একটি অংশ। নদীটি রুপসা থেকে উৎপত্তি হয়ে ফকিরহাট উপজেলার বুক ঘেষে বাগেরহাটের যাত্রাপুর নামক স্থানে চিত্রা নদীতে মিলিত হয়েছে। চিংড়ি মাছ চাষ অধ্যুষিত অত্র এলাকার পানি নিস্কাশনের জন্য এ নদীটি হচ্ছে একমাত্র মাধ্যম। জাতীয় নৌ-পথের মধ্যে অন্যতম। এ নদীটি প্রাচীন কাল থেকে বহু মালামাল পরিবহনের স্বাক্ষী হয়ে ভুমি দস্যুদের চর দখলে রক্ত চক্ষুর মধ্যে এখনও কোন মতে বেঁচে আছে। কথিত আছে সকল নদীর মা হচ্ছে এই ভৈরব নদী। আজ থেকে প্রায় ৩০/৩৫ বছর আগে এই নদী থেকে প্রতিদিন অনেক ছোট বড় বিভিন্ন প্রকার পাল তোলা নৌকা, লঞ্চ, ইষ্টিমার মালবাহী ট্রলার চলাচল করত। খুলনা থেকে বাগেরহাটে যেতে এ নৌপথের দুরত্ব¡ মাত্র ১৫ কিলোমিটার, পরিবহন খরচ স্থল পথ থেকে অনেক কম। আগে এ পথে একটি নৌকা বা মালবাহী ট্রলার খুলনা থেকে বাগেরহাটে পৌছাতে মাত্র ৩-৪ ঘন্টা সময় লাগত। বর্তমানে বিকল্প পথ ট্রাক, পিকআপ, নছিমন, ভ্যান সহ বিভিন্ন যানবাহন বেছে নিয়েছে ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নয় বর্তমানে নৌকা চলাচলে একদম অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এর প্রধান কারন হচ্ছে অপ্রশস্ততা ও অগভীরতা। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, একশ্রেনীর স্বার্থানেশ^ী লোকজন নদী দখল করে বিভিন্ন স্থানে নদীর ভেতর ধান, সরিষা সহ বিভিন্ন শাক-সবজী চাষ করছে। একসময় অত্র অঞ্চলের শত শত জেলে এই নদী থেকে জীবিকা নির্বাহ করে থাকত। কালক্রমে তারা অন্য পেশা বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। বেশকিছু জেলেরা জানান, বর্তমানে নদীতে কোন মাছ পাওয়া যায় না। ১৯৯০ সালের আগে একবার এ নদীটি খনন করা হয়েছে। এরপর শুধুমাত্র ফকিরহাট ১৯৯৯ সালে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে এ নদীটি খনন করা হয়েছে। এরপর আর নদী খনন করতে দেখা যায়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, খনন কাজ হলেও কিছু দিনের মধ্যে আগের ন্যায় সেখানে পলি পড়ে ভরাট হয়ে নৌ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ভরাট হয়ে যাওয়া নদীর দু’পাশে ইটের ভাটা, মাছের ঘের, বসতবাড়ী, দোকান ঘর, খোলা পায়খানা নির্মান করে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে নদীটিকে ঠেলে দিচ্ছে দখলকারিরা। ভৈরবের যৌবন ফিরিয়ে আনতে হলে তাঁর দু’ধারে গড়ে উঠা অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা একান্ত প্রয়োজন। তেমনি নদীটি খনন করে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি করা ও নৌ চলাচলের ব্যবস্থা করা। তাহলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। অপরদিকে বন্যা বা ভারী বর্ষণ হলে ভৈরবের দু’কূল ছাপিয়ে প্রায় ৪/৫ হাজার হেক্টর জমির গলদা-বাগদা চিংড়ি ও বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছ চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে ভৈরব নদীটি খনন করা না হলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর আরও বেশী পানিতে প্লাবিত হবে অত্র অঞ্চল সমূহ। এতে ব্যপক ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অত্র অঞ্চলবাসীর প্রানের দাবী অবিলম্বে নদিটি খননের জন্য আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।#