প্রিয়াঙ্কা ফুটবল খেললেন রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে

0
448

টাইমস রিপোর্ট:
ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত ও বলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় প্রায় এক ঘণ্টা খেলায় মেতে থাকেন শিশু-কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে। খেলার ফাঁকে তাদের কাছে জানতে চান, তারা এখানে কেমন আছে। জবাবে রোহিঙ্গা কিশোরীরা প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে জানায়, মিয়ানমারের নিজ বাড়িতে গিয়ে এভাবে খেলাধুলা করতে পারলে আরো ভালো লাগত তাদের।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ভারতের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া উখিয়ার বালুুখালী ক্যাম্প-১-এ যান। সেখানে কর্মরত কোডেক ও ইউনিসেফের যৌথ পরিচালিত শিশুবান্ধব কেন্দ্রে অবস্থানকালে তিনি রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া শিশুদের সঙ্গে লুডু, ভাগাডুলি, রান্নাবাটি, রশি নিয়ে লাফালাফি, ক্যারাম, স্বাস্থ্যলুডু, দাবা, পৃথিবী ভ্রমণসহ মাঠে নেমে ফুটবল খেলেন। পরে রোহিঙ্গা শিশু, কিশোর-কিশোরীদের আঁকা বিভিন্ন ছবি দেখেন এবং তাদের অনুভূতি জানতে চান।

বলিউড ও হলিউডের এই অভিনেত্রী মিয়ানমারে সামরিক জান্তার নির্যাতনের কথা জানতে চাইলে শিশুবান্ধব কেন্দ্রের ছাত্রী, মিয়ানমার বলি বাজারের বাসিন্দা খুরশেদা খাতুন (১৪) জানায়, মিয়ানমারে তাদের ওপর অসহনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। তাই তারা সপরিবারে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।

একই গ্রামের মনজুর আলী (১৩) প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে খুব কাছে থেকে জানায়, মিয়ানমার সেনারা তাদের চোখের সামনে মা-বোনকে ধর্ষণ করেছে। গ্রামের লোকজনকে কূপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে। শিশুদের আগুনে নিক্ষেপ করে মেরেছে।

এসব লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা শুনে সাবেক বিশ^ সুন্দরী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে তিনি শিশুবান্ধব কেন্দ্রের কিশোর-কিশোরীদের বলেন, তিনি তার দক্ষতা, ক্ষমতার সার্বিক প্রয়োগের মাধ্যমে ইউনিসেফের পক্ষ হয়ে আর্ন্তজাতিক বিশে^র কাছে দাবি তুলবেন যেন রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারে।

এ সময় প্রিয়াঙ্কা শিশুবান্ধব কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক নাছির উদ্দিন, যোগাযোগ কর্মকর্তা লুৎফুর রহমানের কাছে জানতে চান, এখানে রোহিঙ্গা ছেলেমেয়েরা কী ধরনের সেবা পাচ্ছে।

উত্তরে তারা বলেন, মিয়ানমারে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে এ দেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা কিশোর-কিশোরীদের মাঝে যে আতঙ্ক ছিল, শিশুবান্ধব কেন্দ্রে বিভিন্ন খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের মন থেকে তা দূর করার চেষ্টা হচ্ছে। তারা এখানে স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে পড়ালেখা ও খেলাধুলা করতে পেরে আনন্দ বোধ করছে।

বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা লালু মাঝি বলেন, ‘রাখাইনে শিক্ষার হার কম হলেও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুর সঙ্গে তারা পরিচিত। টিভি, ভিসিডি ও মোবাইল নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন রোহিঙ্গারা। বিশেষ করে ভারতীয় নানা ছবি তারা রাখাইনে থাকতে দেখেছে। এ কারণে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া রোহিঙ্গাদের খুবই পরিচিত মুখ।’

মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের হারিয়াখালী, উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বলিউড অভিনেত্রী। তাকে দেখতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা ভিড় জমায় সেখানে।

সোমবার (২১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বেসরকারি একটি ফ্লাইটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর সড়কপথে তিনি ইনানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ওঠেন। সেখান থেকে বিকাল ৪টার দিকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এ সফরে এসেছেন ইউনিসেফের পক্ষ হয়ে। ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে প্রকৃতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারী অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করছেন এ বলিউড অভিনেত্রী। এর আগে গত বছর প্রিয়াঙ্কা গিয়েছিলেন জর্ডানে, সিরিয়ান শরণার্থী শিশুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রিয়াঙ্কা লেখেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করব এবং সেখানকার সব অভিজ্ঞতা শেয়ার করব ইনস্টাগ্রামে। এ বিষয়টি নিয়ে সারা বিশ্বের মানুষকে এগিয়ে আসা উচিত।’