প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য খুলনার ভোটারদের সঙ্গে শ্রেষ্ঠ তামাশা: রিজভী

0
394

অনলাইন ডেস্কঃ
সদ্য শেষ হওয়া খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য খুলনার ভোটারদের সাথে ‘শ্রেষ্ঠ তামাশা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার(২১ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের ফলেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে খুলনার মানুষের সমর্থন মিলেছে। এই নির্বাচন নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছিলেন তাদের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিকে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, এমন সুষ্ঠু নির্বাচন দেশে কবে হয়েছে?

প্রধানমন্ত্রীর এসব বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী বলেন, ভোটারবিহীন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, খুলনার ভোটারদের সঙ্গে শ্রেষ্ঠ তামাশা। অবৈধ ক্ষমতার দৌরাত্মে ভোটারদের অধিকার বঞ্চিত করে এখন তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করছেন।

তিনি বলেন, ভোটচুরির নতুন মডেলের এই নির্বাচনে খুলনা সিটির অর্ধেকেরও কম ভোটার ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেনি। যারাও গিয়েছেন তারা ভোট দিতে পারেননি। এমন এক নির্বাচন হয়েছে যে নির্বাচনের পর লজ্জায় আজও নির্বাচন কমিশন কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিতে পারেনি।

রিজভী বলেন, যে নির্বাচনে ভোট ডাকাতি ও কারচুপির জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্ব মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে। যে নির্বাচনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জাল ভোট প্রদানসহ নানা অনিয়মের তদন্ত দাবি করছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নয়ন সহযোগি প্রতিষ্ঠানগুলো। যে নির্বাচনে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র বাবার সঙ্গে ভোট দিতে পারে, মরা মানুষ ভোট দিতে পারে, সন্ত্রাসীরা কেন্দ্র দখল করে লাইন ধরে সিল মারতে পারে সে নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় এটাই প্রমাণিত হলো যে, ভোট ডাকাতির হুকুমদাতা সরকারের শীর্ষ নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে আগামী নির্বাচনও হবে খুলনা মডেলে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রমাণ করে তাঁর অধীনে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়া হবে বিরোধী দলগুলোর জন্য আত্মঘাতী।

‘নির্বাচন কমিশন পুরোপুরে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। তারা দলীয় মন্ত্রীদের নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ করতে দেয়নি। নির্বাচন কমিশনের যে রকম নিয়ম, তাতে আমাদের হাত-পা বাঁধা’- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দ্যেশে বলতে চাই নির্বাচন কমিশনে আপনাদের পছন্দের লোকজনদেরকে ঢুকিয়ে আপনারা সুষ্ঠু ভোট যাতে না হয় সেজন্য হাত-পা বেঁধে দিয়েছেন। ইসি খুলনাতে সরকারে এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে মাত্র। ইসি প্রতিষ্ঠান হিসাবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য স্বর্ণালী বাহিনী নন বরং এখন তারা “খাঁচায় পোরা তোতা পাখি”। সরকার তার কর্তৃত্ব সম্প্রাসারণ করে ইসিকে কব্জায় নিয়েছে। খুলনার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ভোট সন্ত্রাসের এক অভিনব নতুন মডেলের নির্বাচন যা বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি খারাপ নজির সৃষ্ঠি করলো। যে নির্বাচনে বিএনপির সমর্থকসহ সাধারণ ভোটারদের অধিকার হরণ করে তাদের হাত-পা বেঁধে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চেপে ধরে আওয়ামী লীগকে জয় আদায় করে দিতে সক্ষম হয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এমপিদের প্রচারণায় অংশগ্রহণ না করার কথা বলছেন, সরকার দলীয় একজন এমপি যিনি প্রধানমন্ত্রীর নিকট আত্মীয়, একটানা পনের দিন সেখানে অবস্থান করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে দিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে কিভাবে খুলনাতে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন তা দেশবাসী দেখেছে গণমাধ্যমের বদৌলতে।

এমপি-মন্ত্রীরা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে না প্রধান মন্ত্রীর দেয়া এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন,’এ বক্তব্য যে কতটা নির্লজ্জ মিথ্যাচার তার আরও একটি উদাহারণ হলো গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে গতকাল গাজীপুরের টঙ্গিতে এক স্থানীয় এমপির বাসায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি’র সভাপতিত্বে এমপি-মন্ত্রীদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড.আব্দুর রাজ্জাক এমপি, কর্ণেল ফারুক খান এমপি, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ (এমপি), ডা. দীপু মনি (এমপি), জাহাঙ্গীর কবির নানক (এমপি), মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী (এমপি), কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধূরী এমপিসহ মন্ত্রী এমপিরা। যা নির্বাচনী আচরণবিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। এ ঘটনায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নিয়ে ক্ষমতাসীন মহলের এক গভীর নীলনকশার বিভৎস আভাস ফুঁটে উঠছে।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান ও ছাত্রদল উত্তরের সভাপতি মিজানুর রহমান রাজ আবারও জিজ্ঞাসাবাদের নামে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এর আগেও অনেকবার তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। তরুণ সমাজকে ভীত করার জন্যই রাজিব ও রাজের উপর এ নির্যাতন। আমি অবিলম্বে তাদের রিমান্ড প্রত্যাহার করে মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন,যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন,সহ-দপ্তর সম্পাদক সম্পাদক মুনির হোসেন,তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।