প্রধানমন্ত্রীর ডাক পেয়ে উচ্ছ্বসিত খুলনা আ’লীগের তৃণমূল নেতারা

0
416

এম জে ফরাজী : দলকে আরও সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করতে খুলনাসহ চার বিভাগের তৃণমূল নেতাদের সাথে আজ শনিবার বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে সকাল ১১টায় আজকের এই বিশেষ বর্ধিত সভার প্রথম পর্বে আলোচনায় থাকবেন ৪ বিভাগের এমপি এবং নেতারা। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সারাদেশে তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ইতোমধ্যেই দলে চাঞ্চল্য এবং স্বতঃস্ফূর্ততা তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের অংশ হিসেবে আজ দ্বিতীয় পর্বের বৈঠকে খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের স্থানীয় নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের টিকেটে জয়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ। মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, দলীয় কাউন্সিলর এবং জেলা পরিষদের সদস্যবৃন্দ এ বৈঠকে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
আ’লীগ সূত্র বলছে, ঐক্যবদ্ধভাবে ‘নৌকা’ প্রতীকের জন্য কাজ করার নির্দেশনা দিতেই তৃণমূলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি সংলাপের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী নির্বাচনে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেবেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের বক্তব্যও শুনবেন। তৃণমূলের আওয়ামী লীগের সমস্যা, তাদের দুঃখ কষ্টগুলো জানবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
সূত্রটি আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল নেতাদের অভিযোগগুলো সরাসরি শুনবেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আগামী নির্বাচনের মনোনয়নের ব্যাপারে। পাশাপাশি তিনি দলে কোন্দল এবং গ্র“পিং বন্ধের জন্য কঠোর বার্তা দেবেন।
এদিকে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাক পেয়ে খুলনা বিভাগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। নেতাকর্মীদের মধ্যে এক প্রকার আনন্দ দেখা গেছে। সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে তৃণমূলের অবস্থা জানানোর সুযোগ পেয়ে অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ইতোমধ্যে বৈঠকে অংশ নিতে ঢাকায় পৌছেছেন ডাক পাওয়া সকল নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে খুলনা মহানগরীর ১৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নূর ইসলাম জানান, ‘আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে অনেকবারই জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি দেখেছি। তবে এবারের প্রেক্ষাপটটা ভিন্ন। এই প্রথম তিনি আমাদের তৃণমূল নেতৃত্বকে গণভবনে ডেকেছেন। তার সাথে সরাসরি দেখা করার সুযোগ পাওয়া অনেক গর্বের বিষয়। যদি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাই তাহলে নিজ এলাকার মানুষের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাবো।’
খুলনা মহানগরীর ১৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী খান বলেন, ‘আমার জীবনের একটি স্বপ্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সানিধ্য পাওয়া। তিনি আমাদের তৃণমূল নেতাদের কথা শুনবেন, বলার সুযোগ দেবেন যা অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের। আমি মনে করি এই উদ্যোগটার ফলে নেত্রী তৃণমূল নেতৃত্বের বাস্তবচিত্র সম্পর্কে আরও অবহিত হবেন এবং আমাদেরকে জাতীয় নির্বাচনের নতুন কোন বার্তা দেবেন।’
কেসিসি’র সংরক্ষিত আসন-৬ (১৬, ১৭ ও ১৮নং ওয়ার্ড) এর কাউন্সিলর শেখ আমেনা হালিম বেবী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বর্ধিত সভায় যোগ দিতে অন্য নেতাদের মতো আমিও ঢাকায় এসেছি। আজ আমি অনেক খুশি, দলীয় প্রধান আমাদের তৃণমূল নেতাদের কথা শুনবেন যা খুবই আনন্দের।’
রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায় থেকে দলীয় প্রধানের ডাক পাওয়া আসলেই গর্বের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সকলের অভিভাবক। তার সাথে সরাসরি দেখা করার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। আমি মনে করি তিনি আগামী নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল নেতাদেরকে কোন নতুন বার্তা জানাবেন।’
রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বুলবুল জানান, ‘আজ আওয়ামী লীগ করে নিজেকে বড় মনে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সরাসরি দেখা ও কথা বলার সুযোগ পেয়ে আমি উচ্ছ্বসিত। আমি যদি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাই তাহলে আমার এলাকা নৈহাটী ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য আরও কিছু করার জন্য সরকার প্রধানকে অনুরোধ করবো। হয়ত ওই সভার মাধ্যমে তিনি আমাদের আগামী সংসদ নির্বাচনের বার্তা দিবেন।’
দিঘলিয়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আফজাল হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। সারাদেশের মতো বদলে গেছে খুলনার চিত্রও। আমি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেলে সরকারের উন্নয়নমূলক চিত্র তুলে ধরবো।’