প্রথম টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মুখোমুখি ভারত-নিউজিল্যান্ড

0
56

খুলনাটাইমস খেলাধূলা:
বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আয়োজিত প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শুরু হওয়া ফাইনালে কাল মুখোমুখি ভারত-নিউজিল্যান্ড। প্রায় আড়াই বছর বিভিন্ন দলের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষীক সিরিজ খেলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দু’টি স্থান দখল করে ফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নেয় ভারত ও নিউজিল্যান্ড। প্রথম টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট মাথায় নিতে জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না দু’দল। আর যদি এক ম্যাচের ফাইনালের টেস্টটি ড্র বা টাই হয়, তবে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটনে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল।
নয়টি দলকে নিয়ে ২০১৯ সালের আগস্টে শুরু হয় প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার পাঁচ টেস্টের অ্যাশেজ সিরিজ দিয়ে পথচলা শুরু টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের।
এরপর বিভিন্ন দল নিজেদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে। নিয়মনুযায়ী, প্রত্যক দল ছয়টি করে সিরিজ খেলবে। সেটি দুই থেকে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ পর্যন্ত ছিলো। পয়েন্টের ভিত্তিতে ফাইনাল নির্ধারনের নিয়ম ছিলো। সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়া সেরা দু’দল খেলবে ফাইনাল।
কিন্ত ২০২০ সালের মার্চ থেকে বিশ্বব্যাপি করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য খেলার মত থমকে যায় ক্রিকেটও।
তাই করোনার কারনে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরের বেশ কয়েকটি ম্যাচ ও সিরিজ স্থগিত হয়ে যায়। ফলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনে আইসিসি। পয়েন্টের হিসেব বাদ দিয়ে শতকরা হিসেবে পয়েন্ট টেবিলের নিয়ম চালু করে আইসিসি।
আর শতকরা হিসেবে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট ছিলো ভারত ও নিউজিল্যান্ডের। ভারত ছিলো সবার উপরে। ৬ সিরিজে ভারতের শতকরাতে পয়েন্ট ৭২ দশমিক ২। আর পাঁচ সিরিজে নিউজিল্যান্ডের শতকরাতে পয়েন্ট ৭০।
তাই পয়েন্ট টেবিলের সেরা দুই দল হয়ে প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারত ও নিউজিল্যান্ড।
ছয় সিরিজে ১৭ ম্যাচে ভারতের জয় ১২টিতে, হার ৪টিতে ও ড্র ১টিতে। পাঁচ সিরিজে ১১ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের জয় ৭টিতে। হার ৪টিতে, কোন ড্র নেই।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালকে অনেকেই সীমিত ওভারের বিশ্বকাপ ফাইনালের সাথে তুলনা করছেন। ওয়ানডে বা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের যেমন স্বাদ, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও সেরকম আবহ পাচ্ছেন তারা। ক্রিকেটারদের মনের ভাষ্যও তেমন।
নিউজিল্যান্ডের বাঁ-হাতি পেসার নিল ওয়াগনার ইএসপিএনক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমার কাছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো। আমি কখনও নিউজিল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টিতে খেলতে পারেনি। তাই বিশ্বকাপের ফাইনালও খেলা হয়নি। তাই মনে হয়, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল বিশ্বকাপের মত। শুধু আমার কাছে নয়, দলের সকলের কাছেই এটি অন্যান্য ফরম্যাটের ফাইনালের মত।’
এই আসরের ফাইনাল খেলতে পারাটা সৌভাগ্যের বলে অ্যাখায়িত করেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। তিনি বলেন, ‘আড়াই বছর ধরে বিশ্বের নয়টি দেশ, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেলছে। তাই সকলেরই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন ছিলো। এমন ফাইনালে খেলার সুযোগ পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার এবং সতীর্থরা সেটা জানে।’
এমন ফাইনালের শিরোপা জিততে চান নিউজিল্যান্ডের কোচ গ্যারি স্টিড। ফাইনাল নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শিরোপা জয়। শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আমরা এখানে এসেছি এবং নিজেদের প্রস্তুতি ভালোভাবে সম্পন্ন করেছি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্ট ও সিরিজ জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেকখানি বাড়িয়ে রেখেছে। ভারত শক্তিশালি প্রতিপক্ষ। তাদের বিপক্ষে সেরা ক্রিকেটই খেলতে হবে আমাদের।’
ফাইনালের মঞ্চে লড়াইয়ের আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেছে নিউজিল্যান্ড। লর্ডসে প্রথম টেস্ট ড্র হলেও, দ্বিতীয় ম্যাচ ৮ উইকেটে জিতে কিউইরা। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড। সিরিজ জয়ে আইসিসি টেস্ট র‌্যাংকিংএ ভারতকে হটিয়ে শীর্ষে উঠে কিউইরা।
নিউজিল্যান্ডের মত ফাইনালের আগে কোন সিরিজ খেলেনি ভারত। তবে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে এ মাসের শুরুতে ব্রিটেনের মাটিতে পা রাখে বিরাট কোহলির দল। কোয়ারেন্টাইন পর্ব শেষে নিজেদের মধ্যে দু’টি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচও খেলে ভারতীয় দল।
প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে নিজেদের ভালোভাবে ঝালিয়ে নিয়েছে ভারত। ইংল্যান্ডের কন্ডিশন, নিউজিল্যান্ডের জন্য পরিচিত। তাই এই কন্ডিশনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার ইঙ্গিত দিলেন ভারতের সহ-অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে।
তিনি বলেন, ‘টেস্ট ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে প্রত্যেকেই চাইবে সাফল্য পেতে। তবে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেললে জেতার সুযোগ বেশি। ফলের কথা চিন্তা না করে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। শেষ দুই থেকে তিন বছরে যা করে আসছি আমরা, সেটা করলেই কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। ফাইনাল ভেবে যদি এই ম্যাচ খেলতে নামি, প্রত্যেকের উপর বাড়তি চাপ পড়বে। আর পাঁচটি ম্যাচের মত যদি দেখি, তা হলে অনেক নির্ভার হয়ে খেলা যাবে।’
মাত্রই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ে আত্মবিশ্বাসী নিউজিল্যান্ড। কিন্তু আগামী পাঁচ দিন দল কি রকম খেলছে, তার উপর নির্ভর করবে সব কিছু। প্রতিপক্ষকে নিয়ে না ভেবে আমরা কিভাবে ভালো খেলতে পারি, তা নিয়েই বেশি চিন্তা করছি। শেষ তিন-চার বছরের পরিশ্রম লুকিয়ে আছে। ধারাবাহিকভাবে একের পর এক ম্যাচে ভাল খেলার ফল পাচ্ছি। আশা করি, ফাইনালেও একই ছন্দ ধরে রাখতে পারবো।’
ফাইনালে ব্যাটসম্যানদেরই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দিতে হবে বলে জানান রাহানে। তিনি বলেন, ‘দু’দলের বোলিং বিভাগ বিশ্বসেরা। ইংল্যান্ডের পরিবেশে যারা ভাল ব্যাট করবে, তারাই এগিয়ে থাকবে। কারণ, এই আবহাওয়ায় ব্যাটসম্যানদেরই সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। যে দল বেশি রান করবে, তাদের কাছে জেতার সুযোগ অনেক বেশি থাকবে।’
বিশ্ব ফাইনাল, তাই এমন ম্যাচ নিয়ে উত্তেজিত সকলেই। রাহানে বলেন, ‘ফাইনাল নিয়ে প্রত্যেকে উত্তেজিত। এমন ফাইনাল নিয়ে সকলেই স্বপ্ন দেখে। আমরাও দেখেছি। শেষটা শিরোপায় রাঙ্গাতে চাই আমরা।’
ফাইনালের মঞ্চে নামার আগে টেস্ট ফরম্যাটে ৫৯বার মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। এরমধ্যে নিউজিল্যান্ডের জয় ১২ ম্যাচে। ভারতের ২১টিতে জয়। বাকী ২৬ টেস্ট ড্র হয়।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ টেস্টে মুখোমুখি হয়েছিলো ভারত ও নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে হেরেছিলো ভারত। সিরিজটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ ছিলো। তথ্যসূত্র: বাসস
খুলনাটাইমস/এফএসবি