প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা আতিউল’র জীবনাবসান

0
164

খবর বিজ্ঞপ্তি:
আজীবন মুক্তি সংগ্রামী বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (টাফ)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও খুলনা অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক বিশিষ্ট শ্রমিকনেতা শাহ্ আতিউল ইসলাম ২২ অক্টোবর শেষরাত ৩:৩০ টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ১ কন্যা, ১ পুত্র, আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ৭৭ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও শ্রমিকনেতা করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
১৯৪৩ সালে শাহ আতিউল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন। বাবার সরকারি চাকুরীর সুবাদে তিনি খুলনা জেলা স্কুলে এবং দৌলতপুর বিএল কলেজে পড়াশুনা করেন। ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদ বিজ্ঞানে পড়াকালীন ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন) দিয়েই তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু। মোনায়েম খান বিরোধী লড়াইয়ে স্বক্রিয় ভূমিকা রাখতে গিয়ে মামলায় জড়িয়ে পড়েন। ফলে পড়াশুনা আর শেষ করতে পারেননি। তিনি খুলনা ফাতেমা স্কুলে শিক্ষক ছিলেন। ১৯৬৪ সালে খুলনায় শ্রমিক কর্মী সংঘে স্বক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। শ্রমিক আন্দোলনের আর এক কিংবদন্তী নেতা কমরেড ডাঃ সইফ উদ দাহার ও শাহ আতিকুল ইসলাম মিলে খুলনার পাটকলগুলোর শ্রমিকদের মধ্যে রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। তখন থেকেই ডাঃ সইফ উদ দাহারের সাথে মিলে সারা দেশে শ্রমিকদের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইয়ুব শাহীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলা, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আতিউল ইসলাম। শ্রমিক অঞ্চলে তিনি মাস্টারদা নামে পরিচিত ছিলেন। বৃহত্তর মুক্তি সংগ্রামের জন্য গঠন করেছিলেন কমিউনিস্ট কর্মী সংঘ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে কমিউনিস্ট কর্মী সংঘের নেতাকর্মীরা দেশের ভিতরেই খুলনা-যশোরের শার্শা, নাভারণ, দেওহাটা, ঝিকরগাছা, নড়াইলে বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ লড়াই করেছিলেন। তিনি মুক্তি সংগ্রামের সেই লড়াইয়ের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বাধীন বাংলাদেশে শ্রমিক ও কমিউনিস্ট আন্দোলন ছত্রখান হয়ে গেলেও ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন গঠনের জন্য নেতৃত্বে ছিলেন, তিনি তার যুগ্ম সম্পাদক হয়েছিলেন। বাংলাদেশ শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) গঠনের জন্য নেতৃস্থানীয় ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্বে ছিলেন। আতিউল ইসলাম ছিলেন সেই শ্রদ্ধাভাজন অগ্রজদের অন্যতম, যাঁরা সারা জীবন সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন ও লড়াই সংগ্রামে অবিচল থেকেছেন। শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের স্বার্থের সাথে কখনই প্রতারণা করেননি। পাকিস্তানের আইয়ুব আমল থেকে শুরু করে সকল সরকারি আমলেই মামলা নির্যাতনের প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে শ্রমিকদের সংগঠিত করার অনন্য ভূমিকা রেখেছেন।
এই অনন্য শ্রমিক জনতার দরদী আতিউল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলন, খুলনা জেলা সমন্বয়কারী মুনীর চৌধুরী সোহেল সদস্য সচিব মারুফ গাজী, ফুলতলা উপজেলা সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম, খালিশপুর থানা আহ্বায়ক মোঃ আলমগীর হোসেন লিটু, সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন, ছাত্র ফেডারেশন খুলনা মহানগর সম্পাদক অনিক ইসলাম, শ্রমিকনেতা মেহেদী হানা বেল্লাল, মোঃ নূরুল ইসলাম, রুস্তম আলী মোল্লা, কাজী মাহমুদ মিণ্টু, শামস শারফিন শ্যামন প্রমুখ।