পুলিশের বিরুদ্ধে লুটের অভিযোগ সুন্দরবনে জেলেদের

0
913

শেখ মোহাম্মদ আলী, শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি :
শরণখোলার ধানসাগর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে সুন্দরবনের জেলে ও মৎস্যজীবিদের কাকড়া,মাছ,ডিজেল ও টাকা পয়সা জোর পূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে । ক্ষতিগ্রস্থরা পুলিশের বিরুদ্ধে বন বিভাগের কটকা টহল ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ।
ভূক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগে ও বনরক্ষীদের সূত্রে জানা যায়, ধানসাগর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই বদিউজ্জামান ও এ এস আই আকবর আলী টহলের নামে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মৎস্য আহরণরত জেলেদের ট্রলার ও নৌকায় হানা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভয় ভীতি দেখিয়ে নগদ টাকা,ডিজেল,আহরিত মাছ,কাকড়া নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়মিত ব্যপার হয়ে দাড়িয়েছে। এমন কি গত ২২ নবেম্বর এ এস আই আকবর আলীর নেতৃত্বে পুলিশ টহলে গিয়ে সুন্দরবনের ছাপড়াখালী, কটকা এলাকায় জেলেদের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কেজি কাঁকড়া, ৮/১০ টি চড়পাটার কাজে ব্যবহৃত কয়েক হাজার টাকা মুল্যের জাল, নগদ ৮/১০ হাজার টাকা ও কন্টেইনার ভর্তি ডিজেল লুটে নেয় পুলিশের সাথে থাকা তাদের কথিত সোর্স মাহাবুব ও রাজ্জাক সহ স্থনীয় কয়েকজন জেলে। এ সময় জেলেরা তাদেরকে বাধা দিলে পুলিশের নির্দেশে জেলেদেরকে মারপিঠ করেন রাজ্জাক ও মাহাবুব।ওই কাকড়া পুলিশ ধানসাগর এলাকায় তাদের স্থানীয় দালালের মাধ্যমে বাগেরহাটের কাকড়া ব্যবসায়ী অসিম সাহার আড়তে ৪৭ হাজার টাকায বিক্রি করে। এবং ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে আটক জাল ফেরৎ দিয়েছে। জালের মালিকদের একজন বকুলতলা গ্রামের আসাদুল ফকির। পাথরঘাটার চরলাঠিমারা গ্রামের জেলে মাহবুবের ট্রলার থেকে কন্টেইনার ভর্তি ২০ লিটার ডিজেল নিয়ে যায়। পুলিশ মাহবুবের কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করে ।

এ বিষয়ে মাহবুব কটকা ফরেষ্ট টহল ফাড়িতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এ ছাড়াও জেলে রফিকুল, কবীর, রাজু পুলিশী হয়রানীর কথা জানিেেয় বলেন, তারা বনবিভাগ থেকে পাশ পারমিট নিয়ে নিয়মিত নদী ও খালে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে কিন্তুু পুলিশী তান্ডবে তারা সর্বশান্ত হচ্ছেন।
কটকা ফরেষ্ট অভয়ারণ্যে কেন্দ্রের ইনচার্জ ফরেষ্টার আবুল কালাম মুঠোফোনে জানান, জেলেরা পুলিশী হয়রানী, জাল, কাকড়া, মাছ, ডিজেল লুটের লিখিত অভিযোগ করেছেন তা ছাড়া পুলিশ বন বিভাগের বিধিবিধান লংঘন করে অভয়ারণ্যের মধ্যে প্রবেশ করছে বলে বিষয়টি তিনি তার উর্ধতন কর্মকর্তাদের লিখিত ভাবে জানিয়েছেন ।
এ ব্যপারে ধানসাগর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই বদিউজ্জামান ও এ এস আই আকবর আলীর কাছে জানতে চাইলে তারা তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন।
বিষয়টির ব্যপারে নৌপুলিশের খুলনা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার দীন মোহাম্মদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নৌপুলিশের কাজ জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সেখান কেউ অন্যায় করলে অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গহন করা হবে।##