পুনর্বাসন ছাড়া ব্যাটারিচালিত রিক্সা বন্ধে কেসিসি’র সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি, কর্মসূচি ঘোষণা

0
84

খবর বিজ্ঞপ্তি
পুনর্বাসন ছাড়া ব্যাটারিচালিত রিক্সা বন্ধে সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং নীতিমালা প্রণয়ন করে এসব গাড়ির লাইসেন্স প্রদানের দাবিসহ ৫ দফা দাবিতে শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে রিক্সা, ব্যাটারি রিক্সা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ এবং রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন খুলনা মহানগর কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে করেন রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন খুলনা মহানগর কমিটির আহবায়ক এইচ এম শাহাদাতের সভাপতিত্বে এবং রিক্সা-ব্যাটারি রিক্সা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ খুলনা মহানগর কমিটির সদস্য সচিব জনার্দন দত্ত নান্টুর সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগ্রাম পরিষদ খুলনা মহানগর সদস্য কোহিনুর আক্তার কণা।
বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম পরিষদের খুলনা মহানগর আহŸায়ক এস এম আলমগীর হোসেন বাবু, রিক্সা ইউনিয়নের সদস্য সচিব এস এম চন্দন, শ্রমিক নেতা এস এ রশীদ, আব্দুল করিম, মানিক মিয়া, মোঃ সেলিম, ইলিয়াস আকন, হারুনুর রশীদ, মোঃ শহীদ, আলমগীর হোসেন, মুরাদ হোসেন, ইয়াসিন, মাসুম খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, খুলনা মহানগরীর প্রায় ২০ হাজার রিক্সা শ্রমিক, রিক্সা মালিক, সংশ্লিষ্ট আরো কয়েক হাজার শ্রমিক, গ্যারেজ মালিক, যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী এবং তাদের পরিবারÑস¤প্রতি খুলনা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ব্যাটারিচালিত রিক্সা বন্ধ করা এবং ব্যাটারি ও মোটর খুলে নেয়া ও ভেঙে ফেলার কারণে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে মানুষের কাজের গতি যেমন বেড়েছে জীবনের গতিও বেড়েছে। ফলে ধীরগতির বাহনের চাহিদা কমছে, পায়েচালিত রিক্সার পরিবর্তে ব্যাটারিচালিত রিক্সার চাহিদা বেড়েছে। ব্যাটারিচালিত রিক্সায় সুবিধার কারণে যাত্রীরা এখন এই বাহনে চড়তে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ২৪ ঘণ্টায়ই বিপদে-আপদে এবং অলিগুলির যেকোন স্থান থেকে নাগরিকরা এই বাহনের সহযোগিতা নিতে পারেন। যথাসময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে পারায় মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে, সন্তানসম্ভবা মা সন্তান জন্ম দিতে পেরেছেন, শত ব্যস্ততার মধ্যেও কত অভিভাবক তার সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিতে পারছেন ও কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেন! সুতরাং ব্যাটারিচালিত রিক্সা বন্ধ করার কারণে এর সুধিাভোগী অসংখ্য মানুষও সমস্যায় পতিত হচ্ছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পাওয়ায় আয় বাড়ানোর জন্য শ্রমজীবী মানুষ নানাভাবে চেষ্টা করছেন। ফলে রিক্সাতে ব্যাটারি ও মোটর লাগিয়ে আধুনিকায়ন করে শ্রমিকরা তাদের আয় বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছে। পুরাতন পদ্ধতিতে রিক্সা সপ্তাহের সব দিন চালানো শারীরিকভাবে খুবই কঠিন। পেটের দায়ে বয়ষ্কদেরও রিক্সা চালাতে হয়, যাদের পক্ষে এই ধরনের রিক্সা চালানো অসম্ভব। এই চালকদের প্রত্যেকের পরিবারে বৃদ্ধ পিতা-মাতার সেবা, চিকিৎসা খরচ, সন্তানের লেখাপড়ার খরচসহ পরিবার পরিচালনা রিক্সার উপর নির্ভরশীল। তারা তাদের কষ্টার্জিত আয় থেকে রাষ্ট্রকে ভ্যাট-ট্যাক্স দেয়। পাশাপাশি এই শ্রমিকদের আয় থেকে গ্রামে পাঠানো হাজার কোটি টাকার উপর কৃষিব্যবস্থা নির্ভরশীল। এই বাহন সম্পূর্ণ দেশীয় কারিগর দ্বারা তৈরি হওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে এটি নতুন মূল্য সংযোজন করেছে। ফলে ব্যাটারি রিক্সা বন্ধ হলে দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে এভাবে স্ব-কর্মসংস্থানের উপায় বন্ধ করা অন্যায়। যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য রাস্তাঘাট প্রশস্ত না করে বা বাইপাস সড়ক নির্মাণ না করে শুধু রিক্সা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিকদের উপর এই হয়রাণি এক ধরনের জুলুম-নির্যাতন ছাড়া আর কিছুই নয়। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় ব্যাটারিচালিত রিক্সাকে আরো আধুনিকায়নের জন্য বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দ্বারা বিজ্ঞানসম্মত ডিজাইন করা এবং এগুলোর রেজিস্ট্রেশন ও চলাচলের নীতিমালা করার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব করেছি। আমরা বারংবার বলেছি ব্যাটারি রিক্সা বন্ধ না করে বিশেষজ্ঞ দিয়ে উপযুক্ত যে ডিজাইন প্রণয়ন করা হোক না কেন তা আমাদের দীর্ঘদিনের কাজে অভিজ্ঞ মেকানিকরা অবশ্যই তৈরি করতে পারবে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ‘থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা-২০২১’ নামে একটি খসড়া নীতিমালা করেছে যা চ‚ড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছে। ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল মাননীয় হাইকোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে মহাসড়ক ব্যতীত সর্বক্ষেত্রে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার বাহন চলতে দেয়ার ব্যাপারে রায় দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এই রিক্সার চালকরাও বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছেন। এক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নিলে সারাদেশে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং কোটি কোটি যাত্রীর উপকার হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা আরও মনে করি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিবন্ধন, রুট পারমিট, লাইসেন্স দেয়ার ব্যবস্থা চালু হলে সড়কে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে খুলনা মহানগরীতে ব্যাটারিচালিত রিক্সা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করার জন্য নেতৃবৃন্দ আহŸান জানান। পাশাপাশি দাবী জানান (১) বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া ব্যাটারী রিক্সা-ভ্যান উচ্ছেদ ও হয়রাণি বন্ধ করতে হবে; (২) আটককৃত সকল রিক্সা-ভ্যান ব্যাটারী ও মোটরসহ ফেরত দিতে হবে এবং পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের হয়রাণি বন্ধ করতে হবে; (৩) প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যাটারীচালিত বাহনের লাইসেন্স প্রদান এবং বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে রিক্সার জন্য যথোপযুক্ত ডিজাইন ও নিরাপদ ব্রেক পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে; (৪) নগরীর প্রধান সড়কে রিক্সার জন্য প্রয়োজনে আলাদা লেন নির্মাণ করতে হবে; (৫) সংগ্রাম পরিষদের সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করে প্রস্তাবিত ‘থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা-২০২১’ চ‚ড়ান্ত করে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিক্সার লাইসেন্স প্রদান, বর্ধিত রেকার চার্জ প্রত্যাহার এবং চালকদের উপর হয়রাণি নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে উপরিল্লিখিত দাবিতে আগামী ২৯ জানুয়ারি ২০২৪ সোমবার বেলা ১১টায় নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে শ্রমিক সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।