পাবিপ্রবিতে প্রক্টরের সামনেই শিক্ষার্থীদের পেটালো ছাত্রলীগ

0
271

খুলনাটাইমস ডেস্কঃপাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে হাসিবুল হাসান নামে এক শিক্ষার্থীকে প্রক্টরের সামনেই পিটিয়ে আহত করেছে ছাত্রলীগ। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে বিশ^বিদ্যালয়ের ড. ওয়াজেদ মিয়া ভবনের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে পরীক্ষা চলাকালীন সময় এ ঘটনা ঘটে।আহত ছাত্রের নাম হাসিবুল হাসান। তিনি নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। এ ঘটনার বিচার চাইতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিসে গেলে বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি চৌধুরী আসিফের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা আবারে হামলা চালায়। এ সময় বেশ কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারপিট করে তারা। তবে হামলার কথা অস্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।ছাত্রলীগের হামলায় আহত শিক্ষার্থী হাসিবুলের কয়েকজন সহপাঠী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়া কে কেন্দ্র করে বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি চৌধুরী আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা পরীক্ষা হল থেকে হাসিবকে বের করে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে।

আমরা তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রীতম কুমার দাসের কার্যালয়ে নিয়ে যাই। ঘটনার বিচার দাবীতে প্রক্টর স্যারের সাথে কথাপোকথনের সময় আবারো ছাত্রলীগ কর্মীরা হামলা চালায়। এ সময় লোক প্রশাসন বিভাগের ইমরান, দীপংকর, পুরকৌশল বিভাগের শাকিল, গণিত বিভাগের আবির, অর্থনীতি বিভাগের অনুপমসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। প্রক্টর স্যারের সামনেই এ ঘটনা ঘটলেও তিনি আমাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এ বিষয়ে পাবনা নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সোহেল রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিভাগে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি, তবে ঘটনার সময় আমি বাইরে থাকায় বিস্তারিত জানাতে পারছি না।
তবে, শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার সত্যতা স্বীকার করেছেন প্রক্টর প্রীতম কুমার দাশ। তিনি জানান, ফেসবুকে কোন এক পোস্ট দেয়া কে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ কর্মীরা হাসিবুলকে পিটিয়েছে। পরে, বিচার চাইতে আসা শিক্ষার্থীদেরও পিটিয়েছে। আমরা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। ফেসবুক পোস্টের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, পরিস্থিতিও স্বাভাবিক আছে।তবে, হামলার কথা অস্বীকার করেছেন পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি চৌধুরী আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি, ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার তো প্রশ্নই ওঠে না। তবে, ফেসবুকে একটি বিষয় নিয়ে কিছু শিক্ষার্থী দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে শুনেছি। তার সাথে ছাত্রলীগের কোন সম্পর্ক নেই।এদিকে, প্রক্টরের উপস্থিতিতে হামলার ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।