পাগল দেখলেই রোহিঙ্গা বা ছেলেধরা সন্দেহে গণধোলাই : আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে ওসি’র আহবান

0
1920

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি:
অভয়নগরে পাগল বা পাগল প্রকৃতির মানুষ দেখলেই রোহিঙ্গা বা ছেলেধরা সন্দেহে গণধোলাই দেওয়া হচ্ছে। এক শ্রেণির মানুষ আইন অমাণ্য করে এ ধরণের অপরাধমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইন নিজের হাতে না নিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধশীল হতে আহবান করেছেন অভয়নগর থানার ওসি আলমগীর হোসেন।
জানা গেছে, বর্তমান সময়কে কাজে লাগিয়ে অভয়নগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও নওয়াপাড়া পৌর এলাকার এক শ্রেণির মানুষ নিজ নিজ এলাকায় রোহিঙ্গা ও ছেলেধরা আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। আর এ আতঙ্ক কাজে লাগিয়ে তারা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। ছিন্নমূল, বাস্তহারা, পাগল বা পাগল প্রকৃতির মানুষ দেখলেই তাদের উপর চড়াও হয়ে ব্যাপক মারপিট শুরু করছে। এমনও অভিযোগ পাওয়া গেছে, রোহিঙ্গা বা পাগল সমস্যাকে চিহ্নিত করে একটি পক্ষ ব্যক্তিগত বা পারিবারিক আক্রোশ সমাধানে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালাচ্ছে।
এমন কয়েকটি ঘৃন ঘটনা উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নসহ পৌরসাভার কয়েকটি ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে সংগঠিত ঘটেছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে বাক প্রতিবন্ধী এক বৃদ্ধা মহিলাকে সুন্দলী বাজারে রোহিঙ্গা ও ছেলেধরা সন্দেহে মারপিট করে আহত অবস্থায় রাস্তার পার্শ্বে ফেলে রাখা হয়। পরে সুন্দলী ইউনিয়নের একজন ইউপি সদস্য রাতেই আহত ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।
গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই বাক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা মহিলার সাথে কথা বলতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। ভোরে সে হাসপাতাল থেকে চলে যায় বলে সেবীকারা জানায়। এসময় চিকিৎসা নিতে আসা বুইকারা গ্রামের বৃদ্ধ আলতাফ হোসেন ক্ষোভের সুরে বলেন, নোংরা পোষাক পরা বা পাগল প্রকৃতির মানুষ মত দেখলেই তাদের বিপদ। আমি নিজেও একজন বৃদ্ধ এবং গ্রামের সাধারণ কৃষক। আমার পোষাক তেমন ভালো না। আমি নিজেই এখন রোহিঙ্গা ও ছেলেধরা আতঙ্কে ভুগছি। যানিনা আমাদের মত মানুষের কপালে কি আছে ? যাচাই-বাছাই ছাড়া একজন মানুষের উপর আক্রমন করাটা সম্পূর্ণ বে-আইনি।
একই ধরণের ঘটনা গত শুক্রবার ও শনিবার নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪ ও ৬নং ওয়ার্ডে ঘটেছিল বলে এলাকাবাসী জানায়। এ দুই ওয়ার্ডে পাগল পিটিয়ে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন এলাকায় অপপ্রচার বা মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে অপরাধি বানানো হচ্ছে। রোহিঙ্গা বা ছেলেধরার কল্প কাহিনী বানিয়ে সমাজ বিরোধী একটি চক্র ফাইদা লুটছে। তিনি ছেলেধরা বা রোহিঙ্গা পাকড়াও থেকে বিরত থেকে নিজ নিজ এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ বা সন্ত্রাসীদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দের আহবান করেন।
সার্বিক বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হয় অভয়নগর থানার অফিসাস ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসেনের সাথে, তিনি আইনের প্রতি সকলকে শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, অভয়নগর উপজেলা ও পৌর এলাকায় রোহিঙ্গা বা ছেলেধরা বলে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। বিভ্রান্তীর মধ্যে পড়ে অতি উৎসাহী এক ধরণের মানুষ এ ধরণের অপরাধি কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছে। তিনি জানান, যদি কোন ব্যক্তির উপর রোহিঙ্গা বা ছেলেধরা সন্দেহ হয় তাহলে অভয়নগর থানায় যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছেন।