পাইকারি বাজার থেকে এক কিঃ মিঃ  দুরে এলেই সবজি হচ্ছে দ্বিগুন দাম

0
1889

 

# মুরগীর চেয়ে টমেটো দাম বেশি
কামরুল হোসেন মনি:
নগরীর খুচরা কাচা বাজারগুলোতে পাইকারি চেয়ে খুচরায় দ্বিগুন দামে বিক্রি হচ্ছে। নগরীর সোনাডাঙ্গা পাইকারি কাচা বাজার থেকে নিউ মার্কেট বাজার দুরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। এখান থেকেই নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজারের বিক্রেতা কাচা মাল কিনে বিক্রি করছেন দ্বিগুন দামে। অথচ এসব সবজির দাম পাইকারি বাজারে যে দামে বিক্রি হচ্ছে তার দ্বিগুন দামে বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারগুলোতে। খুচরায় কেজিতে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা অথচ মুরগী ব্রয়লার মুরগী বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায় কেজিতে। ধনিয়া পাতা ২০০ টাকায়।
পাইকারি ও খুচরা বাজারে দরের এ ব্যবধানের জন্য পরিবহন ব্যয়, দোকানভাড়াহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন অজুহাত খাড়া করছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারা বলছেন, এদের (বিক্রেতা) অজুহাতের কোন শেষ নেই। এখন আর দ্রব্যমুল্যর বিষয় নিয়েও কিছু বলতে ইচ্ছে হয় না, কারণ দাম বৃদ্ধি পেলে সরকার কোন পদক্ষেপ নেয়না।
ওই পাইকারি কাচা মাল থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত আসতে সর্বোচ্চ প্রতিটি পণ্যের দাম কেজিতে ১ টাকা বেশি পড়তে পারে। কিন্তু বিক্রেতারা বিক্রি করছেন দ্বিগুন দামে।
নগরীর সোনাডাঙ্গা ট্র্যাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন পাইকারি কাচা বাজারের আড়ত। শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ বাজার ঘুরে দেখা যায়, সিম বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩২ টাকা, পোটল ২৫ টাকা, ওলকপি ১৫ টাকা, বরবটি খাটো ২২-২৪ টাকা, চিকন বরবটি ৩০-৩৫ টাকা, লাউপিস ২০-২৫ টাকা, পেপে ১২ টাকা, পাতাকপি ১৫-১৬ টাকা, পটল ২৫-৩০ টাকা, দেশী পেয়াজ সর্বনি¤œ ৫০ টাকা ওপরে ৭০ টাকা, রসনি ৫০-৬০ টাকায় পাইকারি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ভাল মানের ৯০-১০০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি আড়ৎদার বসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, খুচরা বিক্রেতাদের অনেকেই সবজি ক্রয় করতে আসেন এবাজারে। এখানে পাইকারি বাজারের মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নিউ মার্কেট। আশেপাশের হাজার হাজার ক্রেতা প্রতিদিন কাঁচাবাজার করতে আসেন এখানে। পাইকারি বাজার থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দুরে এলেই প্রতি কেজি সবজি বিক্রি হয় দ্বিগুন দামে। এছাড়া বাজার ভেদেও দামের পার্থক্যও রয়েছে। একেক বাজারে একেক দাম লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার নিউ মার্কেট খুচরা বাজারে সিম ৬০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, ধনিয়া পাতা ২০০ টাকা, দেশী পেয়াজ ৭৫-৮০ টাকা, আমদানীকৃত ৫৫ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, পেয়াজের কালী ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অথচ ওই সিম পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজিতে। তবে একেক বাজারে একেক রকমের দামের পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার নগরীর মিস্ত্রি পাড়া বাজারে খুচরা কেজিতে সিম ৫০ টাকা, পাতাকপি ৩০ টাকা, ফুলকপি ২০ টাকা, আলু ২০ টাকা, কুমড়া ৩০ টাকা, দেশী পেয়াজ ৮৫ টাকা, রসুন ৯০ টাকা, লালশাক, পোটল, ফুলকপি ও বেগুন ৪০ টাকা, পালন শাক ৫০ টাকা, লাউ ২০ টাকা, কাচা ঝাল ৮০-১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বয়্রলার মুরগী ১১০ টাকা, গরুর মাংস ৪৮০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭০০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি কাচা বাজার আড়তে রুবেল ভান্ডারের ম্যানেজার নিতাই দেবনাথ বলেন, আগের চেয়ে শীতের সবজি আমদানী বেশি হওয়ায় আগের তুলনায় অনেক দাম কমেছে। সামনে আরও কমতির দিকে থাকবে। তিনি বলেন, টমেটো নিচে ৫০ টাকা ওপরে ১০০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি ২২-২৪ টাকা (খাটো) আর চিকন বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়। তিনি বলেন, যশোর, মেহেরপুর থেকে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হয়। ওখান থেকেই শতকরা ৯০ ভাগ সবজি এ আড়তে নিয়ে আসেন ব্যাপারীরা। এছাড়া আশপাশ অঞ্চল থেকেই সবজি আসছে। বর্তমানে শীতকালীন সবজির কোন ঘাটতি নেই।
যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর পাইকারি কয়েকজন ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানীর ওপর কাচা মালের দাম উঠা-নামা করে। আমদানী পর্যাপ্ত হলে দামও কমে যায়। তবে আমাদের থেকে খুচরা বিক্রেতা বেশি লাভে বিক্রি করেন।
খুচরা বিক্রেতা আলমগীর হোসেন জানান, পাইকারি বাজার থেকে এখানে আনতে পরিবহন খরচসহ আনুসঙ্গিক বিভিন্ন খরচ রয়েছে। তাই পাইকারি চেয়ে খুচরা বাজারে দামে পার্থক্যতো থাকবেই। তবে দ্বিগুন দামে বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নিউ মার্কেটে চাল বিক্রেতা মোঃ মোমিন জানান, গত এক সপ্তাহ ব্যবধানে চিকন চাল কেজিতে ১-২ টাকা কমেছে। এছাড়া মোটা চালের দামও কমছে। নতুন চাল উঠার সময় এখন, তাই দাম ১-২ টাকা করে কমতে শুরু করেছে। ##