পাইকগাছার হাড়িয়া নদীর কাঠের ব্রিজ ভেঙে জনভোগান্তি চরমে

0
887

আহাদ আলী, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
পাইকগাছার হাড়িয়া নদীর উপর শঙ্কদানা কাঠের ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় অবহেলিত জনপদের লতাসহ কপিলমুনির বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। বেশ কিছুদিন পূর্বে ব্রিজের সিংহভাগ ভেঙে পড়ায় সেই থেকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষ কোনো রকম নদী পার হলেও বন্ধ রয়েছে সাইকেল থেকে শুরু করে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল। ব্রিজ ভেঙে পড়ার খবরে দেরিতে হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও ঠিক কবে নাগাদ ব্রিজটি সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ হতে পারে তা নিশ্চিত করেনি কেউ।
এলাকাবাসী জানায়, এলাকাবাসীর ভোগান্তির কথা চিন্তা করে পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ও লতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী হাড়িয়া নদীর উপর ২০১০ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগ একটি কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করে। ব্রিজের এক প্রান্তে রয়েছে উপজেলার লতার শঙ্কদানা ও তেঁতুলতলা অন্য প্রান্তে রয়েছে কপিলমুনি ইউনিয়নের বারুইডাঙ্গা। দু’টি ইউনিয়নই সুন্দরবন উপকূলীয় চিংড়ি অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় ঐএলাকার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার শত শত চিংড়ি চাষি (ঘের মালিকরা) যাতায়াতসহ ঐ এলাকায় উৎপাদিত মাছ উপজেলা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র কপিলমুনিতে সরবরাহের একমাত্র মাধ্যম কাঠের ব্রিজটি। এছাড়া দুর্গম পানি বেষ্টিত দ্বিপাঞ্চলের বহু ছেলেমেয়ে পড়ালেখা করে উপজেলা কিংবা কপিলমুনির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এর আগে ২০১৪ সালে ব্রিজটি অনুরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে তা সংস্কার করলেও ভারী মালামাল বহনে পরের দিনই তা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এরপর সর্বশেষ বেশ কিছুদিন পূর্বে ফের কাঠের ব্রিজটি ভেঙে পড়লে সদরের সাথে এক প্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গোটা এলাকা।
এলাকাবাসী জানান, প্রায় ২শ ফুট দৈর্ঘের পুরাতন ব্রিজটির লতা প্রান্তের সিংহভাগ ভেঙে পড়ায় নছিমন-করিমন, ভ্যান-সাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এমনকি সাধারণ মানুষও পার হতে পারছে না। এরপরও জরুরি প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ব্রিজের উপর দিয়েই কোনো রকম পার হচ্ছেন। এমন অবস্থায় ব্রিজে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। খবর পেয়ে ইতোমধ্যে পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান এড. স.ম. বাবর আলীর নেতৃত্বে ভাইস চেয়ারম্যান মাও. শেখ কামাল হোসেন, কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দার ও লতা ইউপি চেয়ারম্যান দিবাকর বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাঙনকবলিত ব্রিজটি পরিদর্শনে গেলেও ঠিক কবে নাগাদ তা পুনঃনির্মাণ বা সংস্কার হবে তা নিশ্চিত করেনি কেউ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কৃষ্ণ রায় জানান, ব্রিজের অধিকাংশ ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াত নিয়ে এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। খুব তাড়াতাড়ি টোল আদায়ের শর্তে ব্রিজটি সংস্কার হবে বলে উপজেলা পরিষদের পক্ষে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
এদিকে ব্রিজটি সংস্কারের খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও শঙ্কা কাটেনি। তারা জানান, স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন সরকারের পট পরিবর্তন হলেও তাদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করেনি কেউ। বিস্তীর্ণ জনপদের সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে ৭ বছর পূর্বে স্থানীয় সরকার পরিষদের আওতায় একটি কাঠের ব্রিজ নির্মাণ হয় অথচ এরই মধ্যে তা কয়েকবার ভেঙে পড়লেও স্বেচ্ছাশ্রমে এলাকাবাসী মেরামত করে তা। তবে এবার উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে সংস্কার হওয়ায় তাতে নতুন করে টোল আদায় হবে। এটা তাদের কাছে যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।