পাঁচ দিন ধরে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি বন্ধ

0
308

বেনাপোল প্রতিনিধি : টানা পাঁচ দিন ধরে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ- ভারতের বন্দর এলাকায় আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক। বেশির ভাগ ট্রাকে বাংলাদেশের রফতানিমুখী গার্মেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ও পচনশীল পণ্য রয়েছে।

বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে কার পাসসহ কাস্টমস কর্মকর্তাদের ‘হয়রানি’র প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে ধর্মঘট চলছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দুদেশের আমদানি-রফতানিতে।

ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, পেট্রাপোল কাস্টমসের নতুন একজন সুপারিনটেনডেন্ট যোগদান করার পর থেকে নানা হয়রানি শুরু হয়েছে। তিনি নানা অজুহাতে রফতানিকারকদের হয়রানি করছেন। বাংলাদেশে দ্রুত পণ্য রফতানি করার জন্য আগে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কর্মচারীরা কাস্টমস অফিসারের মাধ্যমে মেনিফেস্ট তৈরির পর কার পাস (গেট পাস) ইস্যু করতেন। হঠাৎ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এক নির্দেশনা জারি করে যে, তারা নিজেরাই কার পাস ইস্যু করে রফতানি পণ্য বাংলাদেশে ঢোকাবেন। এ ধরনের নির্দেশনায় পণ্য রফতানিতে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘রফতানি পণ্যের কোনও কাগজপত্র না পাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কোনও কার পাস ইস্যু করতে পারেনি। এ কারণে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে।’
বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। রবিবার সরকারি ছুটি থাকায় আলোচনা হয়নি। সোমবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরের পর এ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারপর সিদ্ধান্ত হবে।’

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, ভারতে কার পাস জটিলতাসহ অন্যান্য কারণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একটানা পাঁচ দিন আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে। এই পাঁচ দিনে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে কোনও পণ্য আমদানি-রফতানি হয়নি।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের অনেক আমদানিকারকের পণ্যের চালান পেট্রাপোলে আটকা পড়েছে। সেই সঙ্গে রফতানি পণ্য নিয়ে শত শত ট্রাক সীমান্তে দাঁড়িয়ে আছে। এসব ট্রাকে গার্মেন্ট শিল্পের অনেক কাঁচামাল রয়েছে। এর ফলে অনেকের শিপমেন্ট বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার রয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম জানান, পেট্রাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দরে পণ্য লোড-আনলোড স্বাভাবিক রয়েছে। যাত্রীদের যাতায়াতও স্বাভাবিক আছে। আমদানি-রফতানি সচল হলে গোটা বন্দর এলাকায় পণ্যজটের পাশাপাশি যানজটও প্রকট আকার ধারণ করবে।