পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ সঠিক খাবার পাচ্ছে ২৫ শতাংশ শিশু

0
922

আহাদ আলী:
জন্মের ৩০ মিনিটেই নবজাতককে মায়ের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। যথাযথ জ্ঞানের অভাবে দেশের অনেক মা এ পরামর্শ মানছেন না। গ্রাম পর্যায়ে ৩৬ ভাগ ও শহর এলাকায় ২৩ ভাগ মা শিশু জন্মের ৩০ মিনিটের মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ সর্ম্পকেই কিছু জানেন না।
দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা পান এমন মায়েদের ৭০ ভাগ শিশু জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ান। ৩০ মিনিটের মধ্যে না খাওয়ালেও প্রথম দিন থেকেই শুরু করেন ২২ শতাংশ মা। এছাড়া সঠিক নির্দেশনা অনুযায়ী খাবার পাচ্ছে শহরের মাত্র এক-চতুর্থাংশ ও গ্রামের এক-পঞ্চমাংশ শিশু। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এন এসেসমেন্ট অন কাভারেজ অব বেসিক সোশ্যাল সার্ভিস ইন বাংলাদেশ শিরোনামে প্রতিবেদনটি সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস), জাতিসংঘ শিশু তহবিল-ইউনিসেফ ও পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) যৌথভাবে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। শিশু পুষ্টি, নবজাতক শিশুর যত্নসহ মায়েদের বিভিন্ন দিক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক মায়েদের শিশু পুষ্টির জ্ঞান, নবজাতকের যত্ন, বিভিন্ন বয়সে শিশুদের পুষ্টির বিষয়ে অঞ্চলভিত্তিক তথ্যও রয়েছে এতে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবজাতকের পুষ্টি নিয়ে দেশের অর্ধেক মায়ের পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই। রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে এ বিষয়ে জ্ঞান সবচেয়ে কম। এসব অঞ্চলে ৪২ থেকে ৫২ ভাগ মায়ের নবজাতকের বিষয়ে পর্যাপ্ত পুষ্টিজ্ঞান নেই। নবজাতককে বাড়তি খাবার দেয়া কবে থেকে শুরু করতে হবে এ বিষয়ে জানার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। শিশুর ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সের বাড়তি খাবার বিষয়ে সঠিক পরামর্শ পান না এসব মায়েরা।

তবে শহুরে মায়েরা কিছুটা সচেতন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিত মায়েদের সচেতনতা তুলনামূলকভাবে বেশি। এতে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতের অনেক লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হবে। এর জন্য মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পুষ্টি, শিক্ষা, এইচআইভি বিষয়ে জ্ঞান, নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের নানা লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।
জরিপের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গ্রামীণ পর্যায়ে মাত্র ১৮ ভাগ শিশু জন্মের পর অন্তত পাঁচ মাস বয়স পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ খেয়ে থাকে। আর শহরাঞ্চলে এই হার ২৪ ভাগ। বেশিরভাগ শিশুই ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অন্যান্য খাদ্য খেয়ে থাকে। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে, পানি, গরু-ছাগলের দুধ, বিভিন্ন ধরনের ফলের জুস, কৌটার দুধ প্রভৃতি। ঢাকার প্রায় ৭০ ভাগ, খুলনায় ৭২ ভাগ ও বরিশালে ৭০ ভাগ শিশুকে ছয় মাস বয়সের আগেই গুড়ো বা অন্যান্য দুধ খাওয়ানো শুরু হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরে এক-চতুর্থাংশ এবং গ্রামে এক-পঞ্চমাংশ শিশুকে সঠিক নির্দেশনা অনুযায়ী পরিমাণমতো খাবার দেয়া হয়। শিশু গর্ভে থাকা অবস্থায় মায়ের সঠিক পুষ্টি প্রয়োজন। গর্ভবর্তী মা সঠিক মাত্রায় পুষ্টি গ্রহণ করলে তার শিশু জন্মের সময় মৃত্যুসহ অন্যান্য জটিলতা কমে যায়। নবজাতকের পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে তার সঠিকভাবে বেড়ে ওঠায় তা সহায়ক হবে। এতে বলা হয়েছে, গর্ভবতী ও দুগ্ধবতী মায়েরা প্রতিদিন ভাত, ডাল, দুধ, মাছ, মাংস, ডিম, সবজি, ভিটামিন এবং ফল এ রকম পাঁচ ধরনের খাবার গ্রহণ করছে। গ্রামে মাত্র ৩৫ ভাগ এবং শহরে ৪৭ ভাগ এই খাবারগুলো নিয়মিত খাচ্ছে। তবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর গ্রামাঞ্চলে এ খাবার পরিমাণমতো গ্রহণের হার তুলনামূলক কম। অবশ্য শিক্ষিত মায়েদের মধ্যে পর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণের হার বেশি লক্ষ্য করা গেছে। প্রসূতি মায়েদের সেবা শহর-গ্রামে বিস্তৃত হলেও এখনো অনেক অঞ্চলে এ সেবায় ঘাটতি রয়ে গেছে। মায়েরা তাদের আবাসস্থল থেকে ৩০ মিনিটের হাঁটা দূরত্বে এই সেবা কতটা পাচ্ছেন তাও জরিপে উঠে এসেছে।
মাত্র ৬০ ভাগ শিশু জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মধ্যে আসছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে এই নিবন্ধন নেয়ার কথা থাকলেও চার ভাগের তিন ভাগ শিশু এই সময়ের মধ্যে নিবন্ধিত হচ্ছে না। তা ছাড়া দেশের ৫৭ ভাগ গ্রামের মানুষ টিউবওয়েলের পানি পান করছে বলে প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে। ৮৮ ভাগ পরিবার হাত ধোয়ার মতো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে অবগত আছেন বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।