পরিবেশ সমুন্নত রেখেই দেশের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে

0
30

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি খুলনা জেলা শাখা আয়োজিত ‘জলবায়ু সম্মেলন ও সুন্দরবন রক্ষা’ শীর্ষক কনভেনশন শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় খুলনা প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে (শহিদ সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তন) অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের খুলনা জেলা আহবায়ক এস এম শাহনওয়াজ আলীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এড. মোঃ বাবুল হাওলাদারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির অন্যতম সংগঠক শরীফ জামিল।

প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংগঠক সরদার রুহিন হোসেন প্রিন্স। বিশেষ আলোচক ছিলেন সংগঠনের অন্যতম সংগঠক ডাঃ মনোজ দাশ। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সদস্য সিডিপি’র খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব ও পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন বেলা’র খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাপা’র বাগেরহাট জেলা সমন্বয়কারী মোঃ নুর আলম শেখ, সিপিবি নেতা মিজানুর রহমান বাবু, গবেষক মওদুদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোড়ল নূর মোহাম্মদ, শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা নিতাই পাল, সাংবাদিক এইচ এম আলাউদ্দিন, নিসচা’র নগর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মুন্না, খুলনা উন্নয়ন আন্দোলনের চেয়ারম্যান শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, এম এ সবুর রানা, কবি সৈয়দ আলী হাকিম, সংগঠনের সদস্য এস এম দেলোয়ার হোসেন, আফজাল হোসেন রাজু, মাহবুব আলম বাদশা, আবু আসলাম বাবু, সিপিবি নেতা নীরজ রায়, জাহানারা আক্তারী, উন্নয়ন সংগঠক রোটারিয়ান সরদার আবু তাহের, শেখ খালেকুজ্জামান হাকিম, বাসদ নেতা আব্দুল করিম, উন্নয়ন সংগঠক মোঃ আবুল হোসেন, সাংবাদিক মোঃ হাছিব সরদার, যুব বাপা’র কেন্দ্রীয় নেতা দেওয়ান নূরতাজ আলম, কাজী জাভেদ খালিদ পাশা জয়, আজিজুর রহমান ছবি, মানবাধিকার কর্মী এম এ মান্নান বাবলু, উন্নয়ন সংগঠক শেখ মনিরুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ এবারত আলী, নিজেরা করি’র স্বপন কুমার দাস, ফারহানা চৌধুরী কণিকা, বাকের আহমেদ, ফারজানা শিশির, বায়ো’র নাহিদ হাসান, যুব ইউনিয়নের রামপ্রসাদ রায়, সুজনা জলি, ফারিয়া পিঙ্কী প্রমুখ।

কনভেনশনে প্রধান অতিথি বলেন, মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থেই সুন্দরবন রক্ষায় ক্ষতিকর সকল প্রকল্প বাতিল করতে হবে। পরিবেশ সমুন্নত রেখেই দেশের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। শুধু মুখে টেকসই উন্নয়নের কথা বললে হবে না। এর বাস্তবমুখী পদক্ষেপ আমরা দেখতে চাই। সরকার চাইলে এ বিষয়ে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তিনি সুন্দরবন অঞ্চলের দুরাবস্থা তুলে ধরে বলেন, এ অঞ্চলে সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার সংকট যেমন আছে তেমনি সুন্দরবনের ভ‚মি দেবে যাচ্ছে। এ সংকট উত্তরণে পশুর নদী রক্ষাসহ সুন্দরবন রক্ষায় এখনই যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি সুন্দরবন সংলগ্ন জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় পানি, বাঁধ, কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজ অব্যাহত রাখার আহবান জানান।

প্রধান আলোচক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সরকারের ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। কিন্তু অবিলম্বে রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য ৫০ শতাংশ কেন্দ্র অচল করে দিয়ে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা অপচয় করছে। এখন আর নতুন কোন বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজন নেই।

কনভেনশনে আগামী ৩১ ডিসেম্বর রূপসা ব্রিজ টোল প্লাজায়, ৮ জানুয়ারি কাটাখালী, ১৫ জানুয়ারি চুলকাঠি, ২৮ জানুয়ারি বাবুর বাড়ি এবং ১৫ ফেব্র“য়ারি নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।