পরকীয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী দুই শিশু সন্তানের জননী ঘর ছাড়া

0
608

ফুলবাড়ীগেট (খূলনা)প্রতিনিধিঃ
পরকীয়ার টানে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী দুই সন্তানের জননী অর্থ-সম্পদ নিয়ে ঘর ছেড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে পিরোজপুর থেকে খুলনায় এনে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে অবৈধ ভাবে বসবাসের অভিযোগ পাওয়া গেছে নগরীর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের নৈশ প্রহরী সজিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে সজিবুল দুই সপ্তাহের অধিক সময় ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে পালাতক রয়েছে। এ ব্যাপারে খানজাহান আলী থানায় একটি অভিযোগ এবং বরগুনার পাথরঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করা হয়েছে(যার নং ১০৭৬ তাং ২৬/৬/১৮)।
অভিযোগে জানাগেছে, বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানার চরদুয়ানী গ্রামের মোঃ আব্দুল হকের পুত্র সৌদি প্রবাসী মোঃ ফিরোজ মুন্সির সাথে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়ীয়া থানার উত্তর হলতা গ্রামের নান্না মাতুব্বরের কণ্যা মোসাঃ নার্গিসের সাথে পনের বছর পুর্বে বিবাহ হয়। বর্তমানে তাদের সংসারে ১০ বছর বয়েসি একটি কন্যা এবং ৪ বছর বয়েসি একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। ফিরোজ সংসারের সুখের কথা চিন্তা করে দেড় বছর আগে সৌদিতে পাড়ি জমায়। স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী নার্গিস পুর্ব পরিচিত একই এলাকার তোতাম্বরের পুত্র খুলনা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কলের নৈশ প্রহরী মোঃ সজিবুলের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। গত ১৫ ফেব্রয়ারী সকালে নার্গিস শশুর বাড়ীর কাউনে কিছু না বলে অবুঝ দুই শিশু সন্তানকে ফেলে রেখে স্বামীর বিদেশ থেকে পাঠানো স্বর্ণালঙ্গার এবং টাকা পয়সা নিয়ে বাড়ী ছাড়েন। প্রবাসীর স্ত্রী নার্গিস খানজাহান আলী থানাধীন ডাক্তারবাড়ী এলাকায় স্বামী-স্ত্রী’র পরিচয়ে ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের নৈশ প্রহরী মোঃ সজিবুলের সাথে বাড়ী ভাড়া নিয়ে সংসার করছে এমন সংবাদ পেয়ে গত ১৯ জুন প্রবাসী ফিরোজের পিতা আব্দুল হক বিষয়টি অবহিত করে খানজাহান আলী থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ পেয়ে এস আই আব্দুল হক সজিবুলের কর্মস্থলে গিয়ে তাকে না পেয়ে ফিরো আসে। স্কুল সূত্র জানান গত ১৫ জুন থেকে সজিবুল কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ মুশতাক আহমদ জানান সজিবুল অফিসিয়াল ভাবে কোন অনুমতি বা ছুটি না নিয়ে কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত রয়েছে। অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সজিবুলের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন স্ত্রী না ভাই-বোনের পরিচয়ে তার মায়ের সাথে আমার বাসাতে তারা চিকিৎসার জন্য ছিলো। কর্মস্থলে অনুপস্থিত এবং পালাতক কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন পুলিশ ঝামেলা করায় আমি গ্রামের বাড়ীতে এসেছি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের জন্য। সংশ্লিষ্ট সুত্রে আরো জানাগেছে অভিযুক্ত সজিবুল সামরিক ভুমি ও সেনানিবাস অধিদপ্তরের আওতাধীন (বেসামরিক) ঢাকার এমন ৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩টিতে সে চাকুরী করার সময় বেশিদিন থাকতে পারিনি। সে মানিকদি আদর্শ বিদ্যা নিকেতনে অনৈকিত কার্যকালাপে কারনে সে সাসমেন্ট হয়। পরবর্তিতে মুসলিম মডান স্কুল থেকে সে গত ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর খুলনা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলে যোগদান করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে গিলাতলা ডাক্তারবাড়ী এলাকার একাধীক ব্যক্তির কাছে থেকে উচ্চ সুধে প্রায় ৪/৫ লক্ষ টাকা নিয়ে আত্মগোপনে থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত সজিবুলের স্ত্রীর নাম শাহিনুর তার ১ ছেলে এবং ২ মেয়ে রয়েছে। খানজাহান আলী থানায় অভিযোগের পর থেকে সজিবুল পালাতক রয়েছে।