পনের বছর পর পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে খুলনা মহানগর আ’লীগের ৫ থানা কমিটি!

0
374

সুমন আহমেদ/ইয়াসিন আরাফাত:
পৌণে চার বছর ধরে ঝুলে আছে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ আওতাভূক্ত ৫ থানার কার্যনির্বাহী কমিটি। বিগত মেয়াদের থানা কমিটিগুলোর চিত্রও ছিল একই। সব মিলিয়ে গেল প্রায় দেড় যুগেও আলোর মুখ দেখেনি ৫ থানা কমিটি। এতে তৃণমূলকে চাঙ্গা করার চেষ্টা যেমন কাজে আসেনি, তেমনি হয়নি নতুন নেতৃত্বের বিকাশ। বরং দিনে দিনে হতাশায় ডুবতে বসেছে পোঁড় খাওয়া তৃণমূল। তবে চূড়ান্তভাবেই তৃণমূলের আক্ষেপ হতাশা এবার দূর হচ্ছে, আসছে সভায়ই পূর্ণতা পাচ্ছে এসব কমিটি।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র, দলের নগর সভাপতি আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক নিশ্চিত করেছেন, দলের আগামী সভায় থানা কমিটি নিয়ে আলোচনাপূর্বক সিদ্ধান্ত হবে। ইতোমধ্যে এজন্য পরবর্তী সভায় থানা কমিটি উপস্থাপন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দলের সদর থানা সভাপতি এড. সাইফুল ইসলাম খুলনাটাইমসকে বলেন, বর্তমান কমিটির বয়স পৌণে চার বছর। অদ্যবধি কয়েকবার কমিটি করার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। অনুরূপভাবে বিগত কমিটি এগারো বছর পার করেও আলোর মুখ দেখেনি। সবমিলিয়ে গত পনের বছর থানা কমিটি নেই। অথচ সংগঠনকে শক্তিশালী ও বেগবান করতে, জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিকল্প নেই। উদ্বেগের সুরে তিনি আরও বলেন, যেহেতু এর আগেও আমরা অনেকবার আশাহত হয়েছি, কমিটি পাইনি, তাই এনিয়ে আর কোন মন্তব্য করতে রাজি নই।
দলের নগর শাখার দপ্তর সম্পাদক মুন্সী মাহবুব আলম সোহাগ খুলনাটাইমসকে বলেন, নবনির্বাচিত কেসিসি মেয়র ও নগর সভাপতি আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক থানা কমিটিগুলো গঠনপূর্বক অনুমোদনের জন্য তাগিদ দিয়েছেন। এজন্য তিনি পরবর্তী দলের কার্যনির্বাহি কমিটির অনুষ্ঠিতব্য সভার এজেন্ডায় থানা কমিটিগুলোর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানেই কমিটিগুলো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত: সর্বশেষ ২০১৪ সালের ২৭ জুন সোনাডাঙ্গা, ৪জুলাই দৌলতপুর, ৫জুলাই খালিশপুর, ১৩ জুলাই খানজাহান আলী থানা, ৭ সেপ্টেম্বরে সদর থানা এবং ২৯ নভেম্বর নগর আওয়ামী লীগের ত্রি-সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সোনাডাঙ্গা থানায় সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস সভাপতি ও তসলিম আহম্মেদ আশা সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। সদর থানায় ভোটাভুটির মাধ্যমে এড. মোঃ সাইফুল ইসলাম সভাপতি ও আলহাজ্ব ফকির মোঃ সাইফুল ইসলাম নির্বাচিত হন। এছাড়া খালিশপুর থানায় একেএম সানাউল্লাহ নান্নু সভাপতি ও আলহাজ্ব মোঃ মনিরুল ইসলাম বাশার সাধারণ সম্পাদক, দৌলতপুর থানায় শেখ সৈয়দ আলী সভাপতি ও নূর ইসলাম বন্দ সাধারণ সম্পাদক এবং খানজাহান আলী থানায় শেখ আবিদ হোসেন সভাপতি ও মো: আনিছুর রহমান সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এসব কমিটি গঠনের প্রাক্কালে পরবর্তী ১৫দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেয়ার নির্দেশনা ছিল। তবে গেল পৌণে চার বছরেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। অবশ্য, নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতা নানা সময়ে এই প্রতিবেদককে বলেছেন, আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্বাচনসহ নানাবিধ কারণে এই কমিটিগুলো দেয়া সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, এবারের মহানগর আওয়ামী লীগ আওতাভূক্ত পাঁচ থানার কার্যনির্বাহী কমিটিতে তরুণ নেতৃত্বের আগমন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ হিসেবে সূত্রের অভিমত, নগর কমিটির নেতৃত্বে তরুনরা প্রাধান্য পেয়েছে। নতুন নেতৃত্বে মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ডে গতি বৃদ্ধি করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভিশন ৪১ বাস্তবায়ন করাই এর মূল উদ্দেশ্য। তাছাড়া এসব কমিটিতে দলের প্রবীন, ত্যাগী ও পরীক্ষীত নেতাকর্মীরা ঠাঁই পাবেন। পাশাপাশি থাকছেন সাবেক ছাত্র, যুব, মহিলা, কৃষক ও শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দ।
সূত্র আরও বলছে, নগরের ৫ থানার পৃথক খসড়া কমিটি গঠনের পূর্ণ প্রস্তুতি নেয়া আছে। নগর নেতাদের নির্দেশ মোতাবেক তা পেশ করা হয়েছে। খসড়া কমিটিগুলোতে দলের শীর্ষ দুই নেতার আশীর্বাদপুষ্টরাই আসীন হবে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। অবশ্য, শীর্ষ দুই নেতা সুস্পষ্টভাবেই বলেছেন, সৎ, ত্যাগী ও পরীক্ষীত তৃণমূল নেতাকর্মীরাই নতুন কমিটিতে ঠাঁই পাবেন।