নৌকার হাল আতিকুলের হাতেই

0
409

টাইমস ডেস্ক :
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে উপনির্বাচনে আগ্রহী ১৮ জনের মধ্যে থেকে ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলামকেই বেছে নিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ফলে নিজ দলের নেতার বাইরে পর পর দ্বিতীয় দফা পোশাক ব্যবসায়ীকে বেছে নিল ক্ষমতাসীন দল।

২০১৫ সালের এপ্রিলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও পোশাক ব্যবসায়ী আনিসুল হককে বেছে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। আর গত বছরের নভেম্বরের শেষে তার মৃত্যুতেই ফাঁকা হয় মেয়র পদ।

আতিকুল আগে থেকেই ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিক রূপ পায়।

মেয়র পদে উপনির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীদের কাছে আওয়ামী লীগ ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ফরম বিক্রি করেছে। এতে আতিকুল ছাড়াও ফরম কিনেছেন আরও ১৭ জন।

তবে যে ১৮ জন ফরম কিনেছেন তাদের মধ্যে আতিকুল ছাড়া পরিচিত এবং হাই প্রোফাইলের ছিলেন ঢাকার সাবেক সংসদ সদস্য এইচ বি এম ইকবাল। এর বাইলে প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার চালানো হক গ্রুপের মালিক আদম তমিজি হকও কিছুদিনে তার পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন।

প্রার্থিতা বাছাইয়ের জন্য আগ্রহী সবাইকে গণভবনে ডাকেন শেখ হাসিনা। আর দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড সাক্ষাৎকার নেয় সবার। তবে শেষ পর্যন্ত বেছে নেয়া হয় আতিকুলকে।

পরে ওবায়দুল কাদের ব্রিফিং করে আতিকুলকে মনোনয়ন দেয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন।

২০১৫ সালের এপ্রিলের ভোটে নির্বাচিত আনিসুল হকের মৃত্যুতে ফাঁকা হওয়া মেয়র পদ পূরণে ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোটের তারিখ ধরে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আর প্রার্থিতা জমা দেয়ার জন্য বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দেয়া আছে।

সোমবার বিএনপি তার প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে আড়াই বছর আগে আস্থা রাখা তাবিথ আউয়ালকে। ভোটে অন্য অনেক প্রার্থী থাকলেও স্বভাবতই তাকেই মোকাবেলা করতে হবে আতিকুলকে।

ঢাকা উত্তরে ভোটের হাওয়া শুরুর প্রথমেই গত ২৫ ডিসেম্বর আতিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পেয়ে ভোটের প্রস্তুতি শুরুর কথা জানান।

এর দুই দিন আগে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর বৈঠকে আতিকুলের বিষয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা। প্রশ্ন রাখেন তাকে প্রার্থী করলে কেমন হয়।

৩০ ডিসেম্বর আতিকুল আবার যান গণভবনে। তার ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে সেদিনও কথা হয় আওয়ামী লীগ প্রধানের সঙ্গে। সেখান থেকে বের হয়ে আতিকুল জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে বলেছেন।

আতিকুলের পরিচিতি ব্যবসায়ী নেতা হিসেবেই। তিনি কখনও রাজনীতি করেননি বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি বঙ্গবন্ধুর এবং মুক্তিযুদ্ধের আর্দশের অনুসারী বলে জানিয়েছেন।

আতিকুল বিজিএমইএর সভাপতি ছিলেন ২০১৩-১৪ মেয়াদে। এখন তিনি পোশাক খাতের শ্রম পরিস্থিতি ও পণ্যের মান উন্নয়নে গঠিত ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রিজ’-সিবাইয়ের সভাপতি।