নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে মাংস খাওয়া নিয়ে তুলকালাম

0
45
বাড়ছে রাজনৈতিক হত্যাকাÐ দ্রæত বিচার নিশ্চিত করতে হবে

টাইমস বিদেশ : ফের রক্তাক্ত দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ)। বিশ্ববিদ্যালয় হোস্টেলের মাংস বা আমিষ খাওয়া নিয়ে দুটি ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে বাগি¦তÐা। তারপর হাতাহাতি। তারপর ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি। গত রোববার সন্ধ্যার এ ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এতে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাবেরী হস্টেলে। এই হোস্টেলের খাবারের মেনুতে প্রতি রোববার মাংস থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় এদিনও মাংস আনা হয়। কিন্তু ক্ষমতাসীন বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) সদস্যরা অন্য শিক্ষার্থীদের মাংস বা আমিষ খেতে বাধা দেন। অভিযোগ, হোস্টেলে ঢুকে রীতিমতো তাÐব চালান তারা। হোস্টেলের স্টাফদের আমিষ খাবার পরিবেশনে বাধা দেন। এমনকি হোস্টেলের মেস সেক্রেটারিকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বচসায় জড়ায় বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন ও এবিভিপির শিক্ষার্থীরা। বচসা থেকে শুরু হয় হাতাহাতি। ঘটনার পর দুপক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। এবিভিপির অভিযোগ, বামপন্থি ও কমিউনিস্ট শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মী ও জেএনইউয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করেছে। এতে তাদের এক কর্মী আহত হয়েছেন। ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী ঐষী ঘোষ অভিযোগ করেন, এবিভিপি সদস্যরা হোস্টেলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের আমিষ খেতে বাধা দেন। এরপর তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালের নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনার বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এক ছাত্রীর মাথা ফেটে রক্ত ঝরছে। আরেক ছাত্রীর হাত ভেঙে গেছে। পৃথক এক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বেদম প্রহারে এক ছাত্রের পিঠে কালো দাগ পড়ে গেছে।টুইটারে সংঘর্ষের একটি ভিডিও পোস্ট করে ঐশী ঘোষ বলেন, ‘আমরা কী খাব বা কী খাব না, তা এবিভিপির গুন্ডারা কেন বলে দেবে?’ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘জেএনইউ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে এক ঘটনায় কর্তৃপক্ষ কেন হস্তক্ষেপ করল না।’ এর আগে ২০২০ সালের শুরুর দিকে (৬ জানুয়ারি) উত্তাল হয়ে ওঠে জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসি। সেদিনও ছিল রোববার। ওইদিন সন্ধ্যার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায় ৫০ জনেরও বেশি মুখোশধারী একটি দল। ওই ঘটনায় ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী ঐশী ঘোষের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। হামলায় আহত হন আরও অন্তত ২০ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।