নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা দিলেন এরশাদ

0
338

অনলাইন ডেস্ক : সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো নিয়ে আগামী নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন সম্মিলিত জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এমপি। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার দুপুরে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশে তিনি এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময়ে, আমরা যারা সংসদে আছি তাদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে। তখন আমরা সাধারণ কাজ করব। আমরা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করব না। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। এটাই জাতীয় পার্টির রূপরেখা।

মুহম্মদ এরশাদ বলেন, এ দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। জনগণ ভোট দিতে পারুক, এটা আমরা চাই। ইনশাআল্লাহ, আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে সরকার বাধ্য থাকবে। দেশে সুষ্ঠ নির্বাচন হবে। জনগণের ভোটে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় যাবে।

জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে সরকার গঠন ও ক্ষমতার জন্য প্রস্তুত জানিয়ে প্রাক্তন এই রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষ আমার কাছে প্রশ্ন করেন, আজকের মহাসমাবেশে কী বার্তা দেব? আমার প্রথম বার্তা হলো- আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করব। আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করব। দেশবাসীর জন্য এই আমার বার্তা।

তিনি আরো বলেন, আজকের মহাসমাবেশ প্রমাণ করে আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। আমরা প্রস্তুত কি না, প্রস্তুত, আমরা প্রস্তুত। দেশের ১৬ কোটি মানুষ দেখে যাও, জাতীয় পার্টি ক্ষমতা যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। আগামীতে জয়ী হয়ে আমরাই সরকার গঠন করব। আ্জ দেশের কোথাও শান্তি নেই , কোথাও নিরাপত্তা নেই। আমরা ক্ষমতায় গিয়ে নিরাপত্তা দিব, চাকরি দিব। দেশের সব লুটপাট হচ্ছে। ক্ষমতায় যাবার জন্য আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি আছে। আমরা ক্ষমতায় গিয়ে দেশের সব বিশৃঙ্খলতা নির্মূল করব।’

এদিকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বক্তৃতা দেবার আগে মঞ্চে বক্তৃতা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এমপি রওশন এরশাদ। বক্তৃতায় তিনি, জাতীয় পার্টি আর কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হবে না বলে মন্তব্য করেন। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দীন বাবলু, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, সালমা ইসলাম, আব্দুস সাত্তার, বিরোধী দলের চিফ হুইফ তাজুল ইসলামসহ পার্টির উল্লেখযোগ্য নেতারা।

সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দলটির নেতা কর্মীরা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দিতে থাকে। এর মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উল্লেখযোগ্য অংশ কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। লাঙ্গল ও পল্লীবন্ধু স্লোগানে মুখরিত হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।