নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন, ভোটের বিপ্লব হবে : নজরুল ইসলাম খান

0
677

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, শহরের রাস্তায় রাস্তায় বড় বড় নৌকা’র ছবি। দেশের নদীগুলো সব দখল-দুষণে মরে যাচ্ছে; তাহলে নৌকা চলবে কোথায়? কি অদ্ভুত ব্যাপার, একটি দল সরকারি টাকায় রাষ্ট্রীয় খরচে গাড়ী-ঘোড়া ও হেলিকপ্টারে ঘুরে নৌকার পক্ষে প্রচারণা করে;
আরেক দলের শীর্ষ নেতা কারাগারে আটক। এখন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা দলের শীর্ষ নেতার মুক্তির দাবিতে শান্তিপুর্ণ কর্মসূচিও পালন করতে পারছে না। জনগনের কাছে দায়বদ্ধ সংসদ প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সনের নির্দেশে শান্তিপুর্ণ কর্মসূচি পালন করছে। শান্তিপুর্ণ কর্মসূচি পালন করছে মানে এই নয় যে বিএনপি দুর্বল। শান্তিপুর্ণ কর্মসূচি পালনের অর্থ-ই হলো, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটি সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ।
এতো কিছুর পরও বলছি- যতো পারেন নৌকার প্রচারণা করেন, নেতাদের গ্রেফতার করবেন, করেন। আমাদের শুধু কর্মীরা থাকলেই হবে ইনশাআল্লাহ্—জনগণ থাকলেই হবে। শুধু নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। দেশের জনগন যদি ভোট দিতে পারেন; ভোটের বাক্সে বিএনপি’র পক্ষে বিপ্লব হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার নগরীর কেডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে খুলনা বিভাগীয় জনসভার নির্ধারিত স্থলের অনুমতি না দেবার প্রতিবাদে ও জনসভা সফলের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। পরে জনসভাস্থল পরিবর্তন করে হেলাতলা মোড়ে মঞ্চেরস্থল পরিদর্শনে যান নেতৃবৃন্দ। বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেজা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরের জনসভার সর্বপ্রথম খুলনা বিভাগীয় জনসভা সফলের আহŸান জানিয়েছেন এ কেন্দ্রীয় নেতা।

 

তিনি বলেন, গত ২৭ ফেব্রæয়ারি শহীদ হাদিস পার্কে খুলনা বিভাগীয় জনসভার অনুমতি চেয়ে কেএমপি ও কেসিসি বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে কেসিসি অনুমতি দিয়েছে; কিন্তু কয়েকবার আবেদনের পরও অনুমতি পাওয়া যায়নি কেএমপি’র। নানা তালবাহানার পর শুক্রবার সকালে জানতে পারলাম- ক্ষমতাসীন দলের মহিলা সংগঠন নারী দিবস পালনের সভার জন্য-ই ওই একই স্থানের জন্য অনুমতি চেয়েছে। বিএনপি অনুমতি চাইলো গত ২৭ ফেব্রæয়ারি, আর ক্ষমতাসীন দলের মহিলা সংগঠন চাইলো বৃহস্পতিবার; এসবের অর্থ দেশের জনগন স্পষ্ট বোঝেন। বিএনপি’র খুলনা বিভাগীয় জনসভা বানচালের জন্যেই এ নাটক সাজিয়েছে অবৈধ সরকারের আজ্ঞাবহ পুলিশ। প্রকাশ্যে শান্তিপুর্ণ কর্মসূচি পালনে বাঁধা দিয়ে একটা ছোট্ট গলির মধ্যে জনসভা করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এটা গণতান্ত্রিক আচরণ নয়। শুধু তাই নয়; খুলনার পুলিশ অতি উৎসাহী আচারণে বিএনপি নেতাকর্মীদের চরম দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে পরিবারের মহিলা সদস্যদের সাথে চরম দুর্র্ব্যবহার করছে। গত রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেনসহ ৮জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনকে গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার রাতে ছেড়ে দেয়ায় সাধুবাদ জানিয়েছে তিনি বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বুক থেকে ছাত্রদল নেতা রাজকে টেনে-হিচড়ে নিয়েছে পুলিশ। কেন? সে তো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে শান্তিপুর্ণ আন্দোলন করছে। এটা তো অপরাধ নয়! যারা দেশজুড়ে ইয়াবার ব্যবসা করছে, তাদের গ্রেফতার করুন। যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করছে তাদের গ্রেফতার করুন। যারা নারী দিবসের কর্মসূচীতে নারীকে লাঞ্চিত করছে, তাদের গ্রেফতার করুন। বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করতে হবে না; মাকে কারারুদ্ধ রেখে সন্তানেরা ভাল থাকতে পারে না। বিএনপি’র সকল নেতাকর্মী-ই যেনো কারারুদ্ধ।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বলতে চাই; রক্ত সিড়ি পেরিয়ে জীবন বাজী রেখে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। কিন্তু উন্মুক্ত স্থানে শান্তিপূর্ণ জনসভা করার অধিকার পাচ্ছি না। দেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় ও সর্ববৃহৎ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বিএনপি’র শান্তিপুর্ণ কর্মসূচি পালনের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করছে সরকার।
প্রেসব্রিফিংয়ে বক্তৃতা করেন বিএনপি’র ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা ও নগর সাধারন সম্পাদক কেসিসি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ্ সেকেন্দার আলী ডালিম, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান, মীর কায়সেদ আলী, মোঃ মুশাররফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, আব্দুল জলিল খান কালাম, খায়রুজ্জামান খোকা, এ্যাড. বজলার রহমান, এ্যাড. এস আর ফারুক, সৈয়দা রেহেনা ঈসা, স ম আব্দুর রহমান, মোঃ ফকরুল আলম, এ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, মোঃ মনিরুল হাসান বাপ্পী, আরিফুজ্জামান অপু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, কেএম আশরাফুল আলম নান্নু, মাহবুব কায়সার, শফিকুল আলম তুহিন, আজিজুল হাসান দুলু, শামসুজ্জামান চঞ্চল, এবাদুল হক রুবায়েত, শরিফুল ইসলাম বাবু ও হেলাল আহমেদ সুমন প্রমুখ।#