নিরবে কাঁদছে ডুমুরিয়ার মরা ভদ্রা নদীর পাড়ের শত শত চাষীরা

0
53

মফিজুল ইসলাম:
ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর, সাহস, ভান্ডারপাড়া ৩ টি ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে বয়ে গেছে মরা ভদ্রা নদী। এই নদীর দু’পাশ দিয়ে শত শত কৃষকের হাজার হাজার বিঘা জমি সবজি ও ধানসহ অন্যান্য ফসলের চাষ করে। এছাড়াও রয়েছে মৎস্য অভয়াশ্রম যেখানে চাষকৃত বড় বড় সাইজের রুই কাতলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। গত শুক্রবার রাতে শরাফপুর নদীর তেলিখালী ¯øুইস গেটের কপাট তুলে মরা ভদ্রা নদীতে লবণ পানি ঢুকিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা।
গত বুধবার সরেজমিন গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ডুমুরিয়ার শরাফপুর, সাহস ও ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত মরা ভদ্রা নদী সংলগ্ন শত শত কৃষক হাজার হাজার বিঘা জমিতে বোরো ধান, তিল, তরমুজ, ঢেরস, পুঁইশাক, ঝিঙ্গা, উঁচ্ছে করলা, বরবটিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষাবাদ করেছেন।
কিন্তু আকস্মিকভাবে ওই নদী-খালে লবণ পানি প্রবেশের কারণে চাষিদের ফসলের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চাষিদের জমিতে সেচের একমাত্র এই নদীর মিষ্টি পানিই ভরসা। পুরা নদীজুড়ে লবন পানির প্রভাবে ছোট বড় মাছ মরে ভেসে উঠছে। শত শত দিনমজুর ও জেলেদের জীবন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই মরা ভদ্রা নদী।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধির নির্দেশে শরাফপুরের মতলেব মোল্ল্যা, কবির শেখ, ওলিদ ও আফি শেখ গত শুক্রবার রাতে শরাফপুর নদীর তেলিখালী ¯øুইস গেটের কপাট তুলে লবণ পানি ঢুকিয়েছে। এ বিষয়ে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে পাচ শতাধিক গনসাক্ষরসহ জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়।
কৃষক শাহদাত হোসেন জানান আর মাত্র চারটা পানি সেচ দিলেই ধান কাটা যাবে এই অবস্থায় লবন পানি ঢোকায় পানি সেচ দিতে পারছেনা। ধান নষ্টো হওয়ার আশংকায় কি করা যায় সেই সমাধান খুজতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন যায়গায়।
মৎসজীবি সুভাষ দাশ জানান মরা ভদ্রা নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করে মৎস অভায়াশ্রম ঘোষনা করা হয় আর এই নদী থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। লবন পানি প্রবেশ করায় বড় মাছসহ পোনা মাছও মারা গেছে। এই ক্ষতি পূরন করতে প্রায় ৫ বছর লাগবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে শরাফপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ন-আহবায়ক এইচ এম উবাঈদুল্লাহ বলেন শরাফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের নির্দেশে মতলেব মোল্ল্যা, কবির শেখ, ওলিদ ও আফি শেখ এই কাজ করেছে। তিনি আরো বলেন লবণ পানি ঢুকিয়ে কৃষকদের যে ক্ষতি করেছে, তা কয়েক বছরে পূরন করা সম্ভব না। সেই সাথে এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে সামাজিক সংগঠন নিজেরা করি এর কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তারা জানান অতিতেও এই মরা ভদ্রা নদীর জন্য অনেক আন্দোলন হয়েছিল। তার সুষ্ঠ সমাধানও আমরা পেয়েছিলাম। কিন্তু এতদিন পরে হঠাৎ করে ¯øুইচ গেট খুলে দিয়ে শত শত কৃষকের প্রায় কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট করেছে। এব্যাপারে আইনীভাবে সুষ্ট বিচারের জন্য সব ধরনের কাজ করে যাবে বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে কথা বললে তারা ঘটনার অস্বীকার করে বলেন আমরা এবিষয়ে কিছুই জানিনা আমাদের ফাসানোর জন্য কেউ এই ষড়যন্ত্র করেছে।
ঘটনার বিষয়ে শরাফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি বলেন। ¯øুইচ গেট ঠিক করতে গিয়ে অসাবধানবশত পানি ঢুকে যায়।