নরসিংদীতে নিহত সন্দেহভাজন জঙ্গি স্বামী-স্ত্রীর বাড়ি ঝিনাইদহে

0
500

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: নরসিংদীতে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে নিহত সন্দেহভাজন জঙ্গি আবদুল্লাহ আল বাঙ্গালী ও আকলিমা আকতার মনির বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে। সম্পর্কে তারা স্বামী-স্ত্রী বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত আবদুল্লাহ আল বাঙ্গালী উপজেলার বেজপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে। তবে পরিবার ও এলাকাবাসীর কাছে তিনি গোলাম মোস্তফা ওরফে রুবেল নামে পরিচিত। তার স্ত্রী ঢাকার গাজীপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে। সে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল বলেও জানা গেছে।

গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে নরসিংদী জেলার মাধবদীর ভগীরথপুরে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা হিসেবে দু’টি বাড়ি ঘিরে রাখে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখার সদস্যরা। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় ওই বাড়িতে ‘অপারেশন গার্ডিয়ান নট’ চালায়। এতে নিহত হন আবদুল্লাহ আল বাঙ্গালী ও তার স্ত্রী আকলিমা আকতার মনি। পুলিশের দাবি নিহত আবদুল্লাহ আল বাঙ্গালী নব্য জেএমবির মিডিয়া শাখার প্রধান।

র‌্যাবের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, ২০১৬ সালে ১৬ আগস্টে নিহত আকলিমাসহ তিন নারী র‌্যার-৪ এর হাতে রাজধানীর মিরপুরে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। র‌্যাবের হাতে সম্প্রতি তাঁদের আরেক বান্ধবীও গ্রেপ্তার হয়। তিনি হলেন শাহনাজ আকতার ওরফে সাদিকা। তাঁকে ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এই চারজনের মধ্যে মঙ্গলবারের অভিযানে আকলিমা আকতার মনি মারা গেছেন। পুলিশ বলছে, তারা কয়েক মাস জেল খাটার পর জামিনে বেরিয়ে এসে আবার জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে।

এদিকে কালীগঞ্জে তার পরিবারের স্বজন ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ ওরফে মোস্তফা যশোর এমএম কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। সেখানে একটি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগদানকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতো। এরপর গত ৮/৯ মাস ধরে সে আহলে হাদিস মত অনুসরন করতে শুরু করে। ছোট বয়সে তার বাবা মারা যান। এরপর একই গ্রামের আব্দুল মান্নান ওরফে খোকনের সাথে তার মা মর্জিনার বিয়ে হয়। তখন থেকেই আব্দুল্লাহ তার দাদা আক্কাছ আলী ও মা’র সংসারে যৌথভাবে বসবাস করতো।

আব্দুল্লাহ গত ৫ মাস আগে আকলিমা আক্তার মনির সাথে প্রেমজ সম্পর্ক তৈরি করে বিবাহ করে বলেও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে। পড়াশোনা করায় তার স্ত্রী বাবার বাড়িতেই থাকতেন। অক্টোবর মাসের ১ তারিখে মোস্তফা ঢাকায় শশুরালয়ে গিয়ে ৩ দিন থাকার পর স্ত্রীকে নিয়ে যশোর চলে আসে। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইউনুছ আলী জানান, এ ব্যাপারে আমার কাছে কোন তথ্য নেই। খোজ নিয়ে পরে জানানো হবে।