নব্য জেএমবি’র সদস্য খুবি’র দুই ছাত্র!

0
320

নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নব্য জেএমবি’র দুই সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলেন- মানিকগঞ্জের ঘিওর থানাধীন মোড়াবাড়ী এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে নুর মোহাম্মদ অনিক (২৪) ও বগুড়ার শিবগঞ্জ থানাধীন ঘাগুর দুয়ার এলাকার মোঃ রেজাউল করিমের ছেলে মোঃ মোজাহিদুল ইসলাম রাফি (২৩)। এদের মধ্যে অনিক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগে এবং রাফি পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিনে ৪র্থ বর্ষে অধ্যয়নরত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন পুরাতন গল্লামারী রোডের বাড়ি নং-২৩/৪ (বাড়ির নাম হাসনাহেনা, ওয়ার্ড নং-২৫ এর তিনতলা ভবনের নিচ তলার উত্তর-পশ্চিম পাশের কক্ষ), খুলনায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয় বলে গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, স্যোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রথমে তারা উগ্রবাদী মতাদর্শে আকৃষ্ট হয় এবং পর্যায়ক্রমে নব্য জেএমবি’র আদর্শে অনুপ্রাণিত ও প্রভাবিত হয়ে তাতে সম্পৃক্ত হয়। এক পর্যায়ে নিজেরাই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ছক কষে এবং আইইডি তৈরির কারিগরি জ্ঞান আয়ত্ব করে। লব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে প্রচলিত এবং সহজলভ্য উপাদানকে ব্যবহার করে দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক প্রস্তুত করে। ঘটনা সংঘটনের আনুমানিক একমাস পূর্বে তারা স্থান নির্বাচনের জন্য রেকি শুরু করে এবং একই সাথে মালামাল সংগ্রহ করে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন ভাড়া বাড়িতে বোমা তৈরির কাজ চলমান রাখে। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটনের সময় নির্ধারণের পর দুইজন একই সাথে বোমা এবং রিমোট কন্ট্রোল নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। একজন আইইডি (বোমা) স্থাপন করে এবং অন্যজন রিমোট কন্ট্রোল নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে। আইইডি (বোমা) স্থাপনকারী নিরাপদ দূরত্বে চলে গেলেই অন্যজন ম্যাসেজ পেয়ে রিমোট কন্ট্রোলে মাধ্যমে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
তিনি আরও জানান, নুর মোহাম্মদ অনিক ও মোঃ মোজাহিদুল ইসলাম রাফি গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে খানজাহানআলী থানাধীন কৃষকলীগ অফিসে এবং গত ৫ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে আড়ংঘাটা থানার গাড়ি রাখার গ্যারেজে বোমা বিস্ফোরণ এর ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। তারা উল্লিখিত ঘটনা দুটোয় তাদের প্রস্তুতকৃত আইইডি’র দূরনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে বিস্ফোরণ ঘটায়। অনলাইনে বাইয়্যাত গ্রহণ করে তারা একটি সেলও গঠন করে।
এ ঘটনায় তাদের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরীর সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ২টি রিমোর্ট কন্ট্রোল, একটি ল্যাপটপ, একটি সাইন্টিফিক ক্যালকুলেটর, ১৪৪ বক্স দিয়াশলাই, একটি এ্যালুমিনিয়ামের ভাতের পাতিল, দুইটি ৯ ভোল্টের রিচার্জেবল ব্যাটারি, একটি কালো ইনটেক কচটেপ, দুই টুকরো লাল-কালো রংয়ের বিদ্যুতের তার, রিচার্জেবল ব্যাটারি রাখার টিনের বক্স, তিন প্যাকেট লোহার বল, একটি ম্যালামাইনের বাটি যার মধ্যে- (একটি ইলেকট্রিক তারযুক্ত সার্কিট বোর্ড, একটি ইউএসবি ক্যাবলযুক্ত সার্কিট, ফ্রেমে রক্ষিত একটি কয়েল, একটি এ্যালুমিনিয়ামের টেবিল ঘড়ি, একটি তারযুক্ত সুইচ, অনুমান ৮ ইঞ্চি লম্বা সার্কিট ক্যাবল, একটি রেখাযুক্ত কাগজে হাতে লেখা ১৬ লাইনের চিঠি, একটি কালো রংয়ের হাতঘড়ি, ছয়টি ক্যাশ মেমো, একটি বাটন মোবাইল সেট), একটি প্লাস্টিকের ছাকনি, একটি প্লাষ্টিকের ঝুড়িতে অসংখ্য বারুদ ছাড়ানো দিয়াশলাই এর কাঠি, স্টিলের ছুরি, একটি ব্লেন্ডার মেশিন, ৩টি সিডি, ৩টি হ্যান্ড গ্ল্যাভস, একটি প্লাস্টিকের ঝুড়ি, যার মধ্যে কিছু বারুদবিহীন দিয়াশলাই এর কাঠি ছড়ানো, পাটের তৈরি সুতলি, ১৫০ গ্রাম চিনি ও একটি ছাকনি, দুইটি প্লাস্টিকের কৌটা।