নতুন জামা কাউকে দেখাতাম’না, যদি পুরাতন হয়ে যায়

0
804

ঈদ ফিচার,খুলনাটাইমস:


(প্রকৌশলী আল আমিন)


আগের দিনের ঈদ আর এই দিনের ঈদ আকাশ-পাতাল পার্থক্য। ঈদের আগের রাতে সেকি উত্তেজনা!! কত ভাবনার মনে উদয় হত কত উচ্ছ্বাস!
কালি পটকা ফোটানো । নতুন জামা, জুতা পরে বিছানার উপর নাচানাচি করা। বিছানা থেকে নামলে যদি জুতায় ধুলা মাটি লেগে নষ্ট হয়ে যায়??
অন্যকে নিজের নতুন জামা না দেখানো, এই ভেবে, দেখালে যদি পুরাতন হয়ে যায়।

ঈদের দিন সকাল-বেলা সবার আগে ঘুম থেকে উঠা। সমবয়সী যার জামা যত বেশী দামী সে তার টা নিয়ে তত গর্ব । ঈদের দিন কোন পড়াশোনা নেই সেটাই সব চেয়ে বড় আনন্দের ছিলো।

রাতে বিটিভির অনুষ্ঠান দেখার জন্য উন্মাদোনার কথা এখনও মনে পড়ে। সমবয়সীদের মাঝে কে কত বেশী সালামি আদায় করতে পারে তা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামা।
চুপিচুপি রান্নাঘরে বারবার উকি মেরে দেখা রান্না আর কত দেরী। নাক ভরে মাংসের ঘ্রাণ নেয়া সে এক অন্যরকম অনুভুতি। আর খাওয়া দাওয়ার তো কোন শেষ নেই শেমাই, ছোলা, বুট, বাদাম আরোও কত কি।

ঈদের সময় মেহমান আসার অপেক্ষায় থাকতাম কারণ মেহমানরা তো খালি হাতে আসবে না। সারাদিন ডানপিটে স্বভাবের হয়ে কাটিয়ে দেয়া। ঈদের দিন প্রচন্ড পজেটিভ থাকতাম।

ছোটবেলায় আপু,আন্টিদের দের দেখতাম মেহেদী পাতা গাছ থেকে তুলে তারপর বেটে অনেক কস্ট করে নিপুণ ভাবে হাতে লাগাতেন। রঙ্গ গাড় করার জন্য অনেক সময় দেখতাম খাবার চুন পানের বোটা কখনও বা নারকেলের মুচি, মেহেদীর সাথে মিশিয়ে হাতে দিতেন। সবচেয়ে মজার বিষয় ছিলো এই মেহেদীর রঙ এত সহজে গাড় হত না । সেজন্য হাতে রেখেই সবাই ঘুমিয়ে পড়তো আর সকালে উঠে অনেকেই দেখতো আনমনে মেহেদী গালে মুখে লেপ্টে যা-তা কান্ড। আর সেকি চিল্লানী আর আমরা হেসে গড়াগড়ি খেতাম। আর এখন সেইদিন নাই এখনতো বাজারে মেহেদী কিনতে পাওয়া যায় সেটা নাকি ৫ মিনিটেই রঙে-রঙিন।

সেইসব দিনগুলোতে ফিরে যেতে অনেক ইচ্ছে করে। আসলে সময় এমন একটি জিনিস যা মানুষকে অহরহ পাল্টে দেয়। হাজার বার চাইলেও পাওয়া যায় না।

এখনকার জীবন টা এক ঘেয়ো হয়ে গেছে। ঈদ এখন ফেসবুক আর মেসেনজারে মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। অনেক কিছুতেই আগের সেই আগ্রহ কাজ করেনা। মিছ করি সেই দিনের ঈদ গুলো।

তবুও আমার সকল বন্ধুকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রানঢালা শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক!!!!

সংগ্রহ / আল মামুন