নগরীর জুড়ে পুলিশী অভিযান তান্ডব, গ্রেফতার ৫। অভিযান সম্পর্কে জানেন না কেএমপি কমিশনার

0
420

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ও বুধবার দুপুরে মহানগরীর এলাকায় পুলিশ ও ডিবির অভিযানে বিএনপির ৫ নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। এ সময় অন্তত দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। তবে তাদেরকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে চরম অশ্রাব্য গালিগালাজ ও জীবননাশের হুমকি দেয় পুলিশ। ডিবির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর বিএনপি নেতা সুমনকে পরিবারের সদস্যদের সামনেই বেদম মারপিট করে গুরুতর আহত করা এবং বাড়ির আসবাবপত্র ভাংচুর করার অভিযোগ ওঠে।
পুলিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধানের শীষ প্রতীকের কর্মীদের বেছে বেছে গ্রেফতার করছে এবং নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্ট করছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, মহানগর শাখার সভাপতি এবং আসন্ন কেসিসি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ও ২০ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। গণগ্রেফতার অভিযানের বিষয়ে অভিযোগ করতে তিনি খোদ পুলিশ কমিশনারকে ফোন করলে তিনি বিষ্মিয় প্রকাশ করে জানতে চান, মাঠ পর্যায়ে তো এভাবে গ্রেফতারের কোন নির্দেশ আমি দেইনি! বিএনপি নেতা মঞ্জু বলেন, কেএমপি কমিশনার যদি অভিযান সম্পর্কে না জানেন, তবে জানতে চাই, মাঠ পর্যায়ের পুলিশ চলছে কার হুকুমে?
পুলিশের এই গণগ্রেফতার অভিযান, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, আসবাবপত্র ভাংচুর ও পরিবারের নারী-শিশু-বয়ো বৃদ্ধদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার ও হুমকি প্রদান বন্দ না হলে তিনি বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগনকে নিয়ে রূপসা থেকে ফুলবাড়িটে পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে পাড়ি দেওয়ার কর্মসূচি নেবেন এবং জনগনের কাছে সরকার ও প্রশাসনের অনিয়ম সম্পর্কে নালিশ জানাবেন বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।
রাতে পুলিশের অভিযানে যারা গ্রেফতার হয়েছেন তারা হলেন, মহানগর বিএনপির সহ সম্পাদক একরামুল কবির মিল্টন, ২০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন টারজান, ৩০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলম হাওলাদার ও দৌলতপুরের শ্রমিক দল নেতা লোকমান হোসেন। এছাড়া বুধবার দুপুরে দোলখোলা রোডস্থ ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার হন সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা ও মহানগর বিএনপির সহ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আজিজ সুমন। বিপুল সংখ্যক সাদা পেশাকধারী ডিবি পুলিশ তার বাড়ি ঘিরে ফেলে তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের সামনেই তাকে বেদম মারপিট করে গুরুতর জখম করা হয়। অভিযানে অংশ নেয়া পুলিশ সদস্যরা বাসার আসবাবপত্র ভাংচুর ও পরিবারের অন্য সদস্যদের গালিগালাজ করেন।
এদিকে দুপুর ১২ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক কিংবদন্তীর ফুটবলার কেন্দ্রীয় বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম নগরীর ২২ নং ওয়ার্ডের নতুন বাজার চর এলাকায় গণসংযোগে গেলে হামলার শিকার হন। ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী কাজী আবুল কালাম আজাদ বিকু তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে বিএনপির প্রচার টিমকে ঘিরে ফেলে। তিনি নিজেই ওয়ার্ড বিএনপি কর্মী আলী আকবরের জামার কলার চেপে ধরে বেদম প্রহার করে এবং মুহুর্তের মধ্যে এলাকা ত্যাগ করার হুমকি দেয়। বিকুর ক্যাডাররা বিএনপির কর্মীদের প্রতি মারমুখি হয়ে উঠলে তারা গণসংযোগ কর্মসূচি বাতিল করে নতুন বাজার চর ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর আগে তার ক্যাডাররা নানা ভাবে ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রাখে।
এদিকে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. এস এম শফিকুল আলম মনা, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও নগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা এবং সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান এক বিবৃতিতে এ সব ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামণা করেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, এ ধরনের দমন পীড়ন, গণগ্রেফতার, হয়রানির মাধ্যমে রাজনীতির স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট করার পরিণতি কখনোই সুখকর হতে পারেনা। তারা বলেন, এ প্রসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, ১৯৭২ থেকে ৭৫ সময়কালে দেশের সবাইকে বাধ্য করা হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও বাকশাল করতে। কিন্ত তার পরিণতি ভালো হয়নি এবং আওয়ামী লীগকে তাদের দুঃস্কর্মের মাশুল হিসেবে দীর্ঘদিন কঠিন দুঃসময় পার করতে হয়েছে। এখনও আবার সেই চর্চ্চা চলছে। পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রশাসন, আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ- যাদের সক্রিয রাজনীতিতে জড়ানো চাকরিবিধি অনুযায়ীই নিষিদ্ধ, তারাও আজ বাধ্য হচ্ছেন প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতায় যুক্ত হতে। এর পরিণতিও সুখকর হবেনা, এবং ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগকে অতীতের মতো কঠিন মাশুল দিতে হবে।