নগরবাসীর সমস্যা চিহ্নিত, সমাধানের সুযোগ চান মেয়র প্রার্থী এড. পপলু

0
959

সুমন আহমেদ, খুলনা টাইমস প্রতিবেদক: আসন্ন খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ’র মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী এড. আনিসুর রহমান পপলু বলেছেন, খুলনাকে পরিকল্পিত, আধুনিক এবং নাগরিক সমস্যামুক্ত নগরী গড়ে তুলবেন। এজন্য ইতিমধ্যে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে কথা বলা শুরু করেছেন তিনি। নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের মতামতও। জনসাধারণের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করছেন। এখন দল থেকে মনোনয়ন পেলে এবং নগরবাসী মেয়র নির্বাচিত করে সুযোগ দিলে চিহ্নিত সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব নিতে চান পপলু। অনলাইন দৈনিক ‘খুলনা টাইমস’কে দেয়া একান্ত স্বাক্ষাৎকারে এমন পরিকল্পনা কথা ব্যক্ত করেন তিনি। প্রসঙ্গত, এড. আনিসুর রহমান পপলু খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি ও খুলনা মহানগর যুবলীগের আহবায়ক।

খুলনা টাইমস: নগরপিতা হলে কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে চান?
আনিসুর রহমান পপলু: আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে যে কোনো কাজ করাই কঠিন চ্যালেঞ্জের। তবে তা কঠিন হলেও করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা। খুলনা দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। নগরবাসী প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছে না। ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ অলি-গলির সড়ক, ড্রেন, রাস্তাঘাট খানাখন্দে পরিপূণ। নগরপিতা হলে দুর্নীতিমুক্ত নগর ভবন, যানজট, পয়ঃনিষ্কাশন, রাতে মশার উৎপাত, জলাবদ্ধতা, দূর করতে সমন্বিত উদ্যোগ, নগরবাসীর বিনোদন বিশেষ করে বাচ্চাদের খেলার মাঠ ও প্রযুক্তি সুযোগ-সুবিধা সামনে রেখে বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে। নগরবাসীর মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন সমাধান করতে হবে। গতানুগতিক চিন্তায় সেটা হবে না। কিভাবে তা করতে হবে সেই পরিকল্পনাও তৈরি করেছি। নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাসযোগ্য আধুনিক খুলনা গড়াকে অগ্রাধিকার দেব। নগরবাসীর বড় সমস্যা হচ্ছে তার নিরাপত্তা। এখানে মা-বোন, সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীন। ধর্ষণ, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দিনে দিনে বেড়েই যাচ্ছে। কিভাবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হবে। স্বপ্ন নারী ও শিশুবান্ধব শহর গড়ে তোলা হবে খুলনাকে।

খুলনা টাইমস : নির্বাচিত হলে কি করবেন?
আনিসুর রহমান পপলু : পরিচ্ছন্ন খুলনা উপহার দেয়া হবে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। উন্নয়ন কাজের জন্য রাস্তা খোঁড়ার প্রয়োজন হলে সব বিভাগের সমন্বিত কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করা হবে। শহরকে যানজটমুক্ত রাখার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহ চালু করা, নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। মশা ও মাছি উৎপাত বন্ধ হবে। বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে সবুজ খুলনা গড়ে তোলা হবে। গড়া হবে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত এলাকা হিসেবে। ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের উপযোগী রাখা হবে। খাল-নদী দখলমুক্ত করা হবে। গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। সিটি কর্পোরেশনের আয়ের নতুন নতুন খাত বের করা হবে। ট্যাক্স বাড়ানো হবে না। ভাড়াটিয়াদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হবে। ধ্বংসাত্মক রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখার জন্য জনমত গঠন করা, প্রয়োজনে আইন প্রণয়ের উদ্যোগ নেয়া হবে। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য সুনির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করা হবে। করের বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া হবে না, অতিদরিদ্রদের হোল্ডিং কর মওকুফ করা হবে। মা ও শিশুদের জন্য ৫০০ শয্যার হাসপাতাল করা হবে। সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন নগরী, নালা ও সড়ক উন্নয়ন, খ্যাতিমান ব্যক্তি ও মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়কের নামকরণ, সড়কবাতি স্থাপনসহ নগরের উন্নয়নে আরও কিছু কর্মকান্ড বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। সর্বপরি সিটি কর্পোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে, নাগরিক সেবা সহজ করা হবে। ৩১টি ওয়ার্ডে কীর্তিমান ব্যক্তিদের নামে পাঠাগার স্থাপন, রাতের আলোকসজ্জা বাড়ানো, সড়ক ও স্থাপনার নাম মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ, হকার পুনর্বাসন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসন নিশ্চিত করা, বস্তিবাসীর উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কাঁচাবাজারের সংস্কার, মুক্তিযোদ্ধাদের হোল্ডিং কর ও পানির বিল মওকুফ, প্রবীণ নাগরিক ও নারীদের নগর ভবনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা প্রদান। শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির আদর্শ খুলনা গড়তে চাই। এতে দল ও নগরবাসীর সমর্থন ও দোয়া চাই।

খুলনা টাইমস : দলের কাছে প্রত্যাশা কি এবং মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী?
আনিসুর রহমান পপলু : আমি বিশ্বাস করি জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ পরীক্ষীত সৈনিকদের বেছে মনোনয়ন দিবেন। আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আছি। দলের দূর্দিনে কখনই পিছু হটেনি। আগামী দিনেও থাকবো। দল থেকে মনোনয়ন পেলে বিজয়ের পতাকা তুলে দিতে পারবো বলে আমি বিশ্বাস করি। তবুও দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার জন্য নিবেদিত হয়ে মাঠে কাজ করবো। আর নির্বাচনের মাঠে নেমে আমার মনে হয়েছে খুলনার মানুষ ভালো নগরপিতা চান। যদিও অনেক আগে থেকেই কীভাবে শহরকে বাসযোগ্য, সুন্দর করা যায় তা নিয়ে ভেবেছি, কাজ করেছি। ইতিমধ্যে চিহ্নিত সমস্যা ও সমাধানের যাত্রায় আমি জনগণকে পাশে চাই। তাদের সাড়া দেখে আমি আশাবাদী, খুলনবাসী সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাকে দেবেন।

খুলনা টাইমস: কেন নগরবাসী আপনাকে ভোট দেবেন?
আনিসুর রহমান পপলু : আনিসুর রহমান পপলুর একটা সংগ্রামমুখর অতীত রয়েছে। ছাত্রজীবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের পতাকা তুলে নেতৃত্ব দিয়েছি। খুলনা মহানগর যুবলীগের দায়িত্ব পালন করছি এক যুগ পার হয়েছে, আইনজীবী সমিতির দায়িত্ব পালন করছি, মোটকথা তৃণমূল থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে এ পর্যন্ত এসেছি। জীবনের এ সংগ্রামমুখর চলার পথে এবং বিভিন্ন দায়িত্ব পালনকালে কোথাও কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই, দুর্নাম নেই। আমি সব ধরনের মানুষকেই ধারণ করি। খুলনাকে মানুষের একটি কাংখিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ইতিমধ্যে জরিপ, মতবিনিময়, বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েছি। তার সমস্যা চিহ্নিত করেছি। তারা একজন ভালো নগরপিতা চান। যিনি সৎ, যোগ্য এবং আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে। আর এসব বিবেচনাতেই মানুষ আমাকে ভোট দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

খুলনা টাইমস: নির্বাচিত হলে কেমন শহর উপহার দেবেন?
আনিসুর রহমান পপলু : সবুজে ঘেরা পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন শহর করা হবে খুলনাকে। এলাকাভিত্তিক পরিকল্পিত বনায়ন করা হবে। নগরবাসীকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবুজায়নে উৎসাহিত করা হবে। বেদখল পার্ক, মাঠ উদ্ধার করে খেলাধুলা ও শরীরচর্চার উপযোগী করা হবে, প্রয়োজনে নতুন নতুন পার্ক, খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে, পুরানোগুলো সংস্কার করা হবে। জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান দেয়া হবে। সেবাদানকারী সব প্রতিষ্ঠানের কাজ সমন্বিতভাবে করা হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ করা হবে। স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ নগর হিসেবে খুলনাকে গড়ে তুলব। যানজট নিরসনে দ্রুত, কার্যকর এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। জনগণের অংশগ্রণমূলক সিটি কর্পোরেশন গড়ে তুলব, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করব।

খুলনা টাইমস : কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
আনিসুর রহমান পপলু : আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের দিন যত কাছে আসছে, জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ছে। যেখানেই যাচ্ছি জনগণের ভালো সাড়া পাচ্ছি।
খুলনা টাইমস: খুলনার মানুষের প্রতি আপনার আহ্বান?
আনিসুর রহমান পপলু: খুলনাবাসীকে আমার পাশে চাই। তাদের সমর্থন ও দোয়া চাই। অনুরূপভাবে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সমর্থন চাই। দল মনোনয়ন দিলে এবং জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে উন্নয়ন কর্মকান্ডে তাদের অংশগ্রহণ চাই। আমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে সমস্যা সমাধানের কথা বলেছি সততার সঙ্গে সে কাজগুলো সম্পন্ন করব।