ধর্ষনের সাথে মুক্তিপন দাবী আদমদীঘিতে অপহৃত কলেজছাত্রী উদ্ধার: অপহরণকারী গ্রেফতার

0
633

খুলনাটাইমস (আদমদীঘি, বগুড়া) : বগুড়ার সান্তাহার থেকে কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ করে ১৬ দিন আটক রেখে ধর্ষন এবং মুক্তিপনের দরদাম চলাকালে আদমদীঘি থানা পুলিশ সোমবার রাতে নওগাঁর ধামুইরহাট উপজেলা থেকে অপহৃত কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধার এবং অপহরণকারী ও ধর্ষক ওমর ফারুককে গ্রেফতার করেছেন। অপহরণকারীরা অপহরণের ৬ দিন পর থেকে বিভিন্ন মোবাইল থেকে অপহৃতা কলেজ ছাত্রীর মায়ের নিকট ৪ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী এবং দাবী করা মুক্তিপণ না দিলে অপহৃতাকে খুন করার হুমকি দিয়ে আসছিল। বিকাশ হিসাবধারী মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ অপহরণকারীকে গ্রেফতার ও অপহৃতাকে উদ্ধার করেছেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে ওমর ফারুক ও তার বন্ধু সিহাবকে আসামি করে নারী শিশু নির্যাতন আইনে আদমদীঘি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের কাল্লাগাড়ী গ্রামের প্রবাসী মহাতাব আলীর মেয়ে সান্তাহার মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী রিয়া আক্তার (১৭) ১০ আগস্ট সকালে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সে সান্তাহার শহরের হবির মোড় নামক স্থানে পৌঁছলে, সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা অপহরণকারীরা জোড়পুর্বক সিএনজিতে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং আটকে রেখে ধর্ষন করতে থাকে। অপহরণ ঘটনার পর থেকে মেয়েকে অনেক খোজাখুজি করেন। কিন্তু কোন সন্ধান না পেয়ে ১৬ আগস্ট অপহৃতার মা উম্মে কুলছুম আদমদীঘি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। জিডি করার পর থকে রবিবার পর্যন্ত অপহরণকারীরা বিভিন্ন মোবাইল নাম্বার থেকে ভিকটিমের মায়ের মোবাইল ফোনে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করতে থাকে। রবিবার দিন অপহরণকারীদের দাবী মেনে নেয়া হবে মর্মে অপহৃতার মা অপহরণকারীদের বিশ্বাস করানোর জন্য অপহরণকারীর ০১৭৪৬-৭২১৬৭৩ বিকাশ নাম্বারে ৫ হাজার ১০০ শত টাকা প্রদান করেন এবং বিষয়টি তিনি সাথে সাথে পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ সেই বিকাশ হিসাবধারী মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে নওগাঁ জেলার ধামুইরহাট উপজেলার আমাইতারা গ্রামের নান্নু সরদারের বাড়ী থেকে অপহৃত কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধার ও একই উপজেলার জোতওসমান গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের ছেলে অপহরণকারী ও ধর্ষক ওমর ফারুককে গ্রেফতার করেন। মঙ্গলবার দুপুরে ওমর ফারুককে বগুড়ার আদালতে এবং ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইনচার্জ আবদুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।