দৌলতপুরে আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক বিচারের দাবীতে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

0
175

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দৌলতপুরের দেয়ানায় আসমা খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী স্বামী সহ আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক বিচারের দাবীতে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আসমা খাতুনের পিতা মোঃ জুম্মান শেখ।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, মেয়ের জামাতা, শ্বশুর, শ্বাশুরি, ভগ্নিপতী যৌতুকের দাবিতে তার মেয়ের উপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করতো। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে আমি ১ লক্ষ টাকা নগদ ও মেয়ের সংসারে যাবতীয় আসবাবপত্র ক্রয় করে দেন। উক্ত টাকায় জামাতা আসলাম বিশ্বাস থুকড়ো বাজারে একটি মুদি দোকান নিয়ে ব্যবসা শুরু করে। প্রায় ৪ মাস পূর্বে দোকানে মালামাল উঠানোর জন্য ২ লক্ষ টাকা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মেয়েকে মেরে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়। এরই জের ধরে মেয়ের জামাতা, শ্বশুর, শ্বাশুরি, ভগ্নিপতী যোগসাজসে তার মেয়ের উপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন শুরু করে। পরবর্তীতে মেয়েকে মেরে গত ১৭ জুন (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় জামাতা মেয়েকে আমার বাড়িতে রেখে চলে যায়। মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে বলে, ১৫ জুন রাত সাড়ে ১১টায় মেয়ের জামাতা, শ্বশুর, শ্বাশুরি, ভগ্নিপতী যৌতুকের দাবিতে অমানুষিক নির্যাতন করে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। ঐসময় আসমা নিজেকে রক্ষা করে এবং বাড়িতে আসতে চাইলে জামাতা বলে, “তোকে সুস্থ্য করে পাঠাবো। তোর বাপ যদি টাকা না দেয় তাহলে তুই এখানে আসবিনা। তোর বাপের বাড়িতে বিষ খেয়ে না হয় গলায় ফাঁস দিয়ে মরবি।” এসব ঘটনা শুনে তিনি বিজ্ঞ মূখ্য মহানগর হাকিম এর আদালতে গিয়ে জামাতা মোঃ আসলাম বিশ্বাসকে আসামী করে যৌতুক নির্যাতনের ধারায় মেয়েকে বাদীনি করে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু আসামীদের পক্ষের কেউ ঘটনার দিন সকালে তার মেয়েকে ফোন করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার প্ররোচনা দেয়। এরই জের ধরে তার মেয়ে ২৪ জুন আড়ার সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে।
তিনি আরও বলেন, মেয়ে আসামীদের প্ররোচনায় আত্মহত্যা করেছে। তারা যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করার পরিবেশ সৃষ্টি করে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে। পরবর্তীতে তিনি খুলনার দৌলতপুর থানায় জামাতা মোঃ আসলাম বিশ্বাস, শ্বশুর মোঃ জয়নুদ্দিন বিশ্বাস, শ্বাশুড়ি মোসঃ ফরিদা বেগম, ভগ্নিপতী মোঃ আশরাফ বিশ্বাসকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। যার নং-২৬, তারিখ ২৪/০৬/২০২১ইং। ধারা-৩০৬/৩৪ পেনাল কোড।
এসময় তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মেয়ের আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী আসামীদের বিচারের দাবি জানান।