দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন না থাকায় চলছে গুম-হত্যার রাজনীতি :

0
501

বিজ্ঞপ্তি: দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন না থাকায় গুম ও হত্যার রাজনীতি চলছে। সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় দেশটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন দায়বদ্ধতা নেই। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই মানুষ গুম হয়ে যাচ্ছে। পরে অনেকের লাশ পাওয়া যাচ্ছে, আবার অনেকের কোন খোঁজ মিলছে না। এসব পরিবার কঠিন দুর্বিসহ যন্ত্রনা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এসবের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকেই প্রতিবাদ মুখর হতে হবে। বিশেষ করে গণবিপ্লব ছাড়া দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব নয়।
গুমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সপ্তাহ উপলক্ষে ‘গুম বন্ধ কর! গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দাও’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। দেশের অন্যতম শীর্ষ মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ খুলনা ইউনিটের পক্ষ থেকে শনিবার ২৬ মে বেলা ১১টায় প্রবাহ কনফারেন্স কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় অধিকার’র তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ৪২৮ জন গুমের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ৫৫জনের লাশ পাওয়া গেছে, ২৩৬ জন জীবিত ফেরত এসেছে অথবা পরবর্তীতে তাঁদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বাকি ১৩৭ জনের কোন খোঁজ পাওয়া জায়নি। গুম হওয়ার ব্যক্তিদের পরিবারগুলোতে তৈরি হয়েছে অনিশ্চিত ভবিষ্যত। পরিবারে এক অজানা আশংকার সঙ্গে সঙ্গে আয়ের উৎস্যও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, আজকে আমাদের দেশকে আর কল্যাণমূলক ও গণমূখি রাষ্ট্র বলা যাচ্ছে না। কারণ সরকারের বিরুদ্ধে কোন কথা বললেই গুম হতে হয়। এ কারণে ভয়ে কেউ কথা বলতে পারছে না। তবে, রাষ্ট্র চাইলেই গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘণের ঘটনা বন্ধ হয়ে যাবে বলেও বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বক্তারা গুম হওয়া ব্যক্তিদের তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খ্যাতিমান আইনজীবী ও সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম, অধুনালুপ্ত খুলনা পৌরসভার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এনায়েত আলী বলেন, গণবিপ্লব ছাড়া দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব নয়। জনগনকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানেই জনগনের অধিকারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেয়া রয়েছে। সংবিধান পড়লেই মানুষ জানতে পারবে, রাষ্ট্রের জন্য কি তাদের কর্তব্য আর কি তাদের সংবিধানসম্মত অধিকার। তবে, যারা দেশ শাসন করতে চান, তারা চাননা জনগন তাদের অধিকার সম্পর্কে জানুক। তিনি বলেন, সরকার যে কোন উপায়ে ক্ষমতায় থাকতে চায়। আর সে জন্য কিছু কিছু সংস্থার সহায়তা দরকার। তারা খুন, গুম, অপহরণ যা ইচ্ছা করুক। তাতে কিছু যায় আসেনা। তিনি বলেন, পৃথিবীটা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সময় হলেই প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে। সব কিছু ভেঙ্গে পড়বে। তবে সেজন্য নিস্ক্রিয় থাকা চলবে না। বিপ্লব পরিস্থিতি তৈরির জন্য সকলকে কাজ করে যেতে হবে।
সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক কাজী মোতাহার রহমান বাবু। প্রধান অতিথি ছিলেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ এ্যাড. এনায়েত আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান। আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক ড. এ্যাড. মো. জাকির হোসেন, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ-জামান, ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব খুলনা মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. সেখ মো. আখতার-উজ-জামান, মানবাধিকার সংগঠক এ্যাড. মোমিনুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ ও নারী নেত্রী রেহেনা আখতার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মামুন অর রশিদ, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা অফিসার এসকে এম তাসাদুজ্জামান, প্রেস ক্লাব খুলনার মহাসচিব ও দৈনিক আমার দেশের ব্যুরো প্রধান এহতেশামুল হক শাওন, নারী নেত্রী মুন্নি জামান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী পম্মা দে, হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার এ্যাড. ওয়াছিউর রহমান হিরক, সাখাওয়াত হোসাইন স্বপন।
গুমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সপ্তাহ’র মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধিকার খুলনা ইউনিটের ফোকালপার্সন সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সাংবাদিক কেএম জিয়াউস সাদাত। উপস্থিত ছিলেন হাফেজ মো. কামরুজ্জামান, মো. জামাল হোসেন, জি.এম রাসেল ইসলাম, মো. ফাহাদ ইসলাম, হীরা খাতুন, খাদিজা খাতুন, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. আহাদ আলী ও ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।