দেবহাটায় মসজিদে তারাবির নামাজ নিয়ে গোলোযোগ, মুসল্লিদের জামাত সাজিয়ে হয়রানি করার অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

0
511

দেবহাটা প্রতিনিধি :
দেবহাটায় তারাবির নামাজের গোলজোগ নিয়ে মুসল্লিদের জামাত সাজিয়ে হয়রানি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মলেন করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য ও উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান মিঠু। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় দেবহাটা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি সখিপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলাম। পরবর্তীতে ২০০২ সাল জীবিকা নিবাহ করার জন্য বিদেশ চলে যায়। হার্টের সমস্যা জনিত কারণে ২০১৪ সালের শেষের দিকে আমি দেশে ফিরে আসি। এরপর থেকে আমি সক্রিয়ভাবে জাতীয় পার্টি করে আসছি। বর্তমানে আমি উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বহাল আছি। আমি অসুস্থ হওয়ার পর থেকে আমার একমাত্র ছেলে পুলিশে কর্মরত থাকায় খুলনাতে তার বাসায় দীর্ঘদিন থেকে চিকিৎসা নিয়ে থাকি। কয়েক বছর পর ছেলে ঢাকাতে বদলী হলে আমি নিজ বাড়ীতে ফিরে আসি। শারিরিক অবস্থা মাঝে মধ্যে একটু খারাপ হলে ঢাকাতে যেয়ে চিকিৎসা নেই। কিন্তু গত রমজান মাসে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও আমার চাচাত ভাইপো আবু রায়হান তিতু, কমিটির সাধারণ ও আমার চাচাত ভাই সম্পাদক আবু সালেহ মুসাজি লিটন তারাবির নামাজ ৮ রাকাত নামাজ পড়ার জন্য নির্দেশ করেন। এই নিয়ে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা শুরু হয়ে যায়। অপর দিকে সম্মিলিত মুসল্লিবৃন্দ ২০ রাকাত নামাজ পড়ার জন্য প্রতিবাদ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সম্পাদক মহোদয় ইমাম সাহেবের নিকট থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে নিজেই সমবেত মুসল্লিদেরকে ৮ রাকাত নামাজ পড়ার জন্য আবারও জোড়ালো নির্দেশ দিলেও কোন মুসল্লি ৮ রাকাত নামাজ পড়তে রাজি হয়নি। এরপর সভাপতি নিজেই উঠে বলেন যে তারাবির নামাজ প্রতিদিন ৮ রাকাত হবে ঘোষনা দেন। যাহা সম্পূর্ণ ইসলামের পরিপন্থি। সর্বশেষ, সমাবেত মুসল্লিবৃন্দ ২০ রাকাত নামাজ পড়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে সভাপতি ও সম্পাদক মহোদয় মুসল্লিদেরকে নানাবিধ হুমকি ধামকি দিতে থাকে। এ পর্যায়ে আমরা গত ইংরেজী ১২মে ১৫/২০ জন মুসল্লিদেরকে নিয়ে অমরা উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল গণির নিকট আদ্যপান্ত জানাই। তিনি আমাদের শান্ত থাকার পরামর্শ প্রদান করেন এবং বলেন যে, মুফতি সাহেব ও মুহাদ্দেস সাহেব ছাড়া কোন ফতোয়া দেওয়া কাহারো ইখতেয়ার নেই। সেই সাথে পরদিন তিনি প্রশাসনিকভাবে দেবহাটা থানার ডিএসবিকে পাঠান। আমাদের মসজিদের সভাপতি, সম্পাদক ও মুসল্লিদেরকে শান্ত থাকার জন্য পরামর্শ দিয়ে আসেন। যাতে কোন প্রকার আইন শৃঙ্খলার অবনতি না হয়। ঠিক এর পর থেকে উক্ত ২ জন আমাদের অন্যভাবে দমন পীড়ন করার জন্য বিভিন্নভাবে পায়তারা করতে থাকে। সে মোতাবেক গত ১২জুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর এবং দেবহাটা থানায় মনগড়া লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে কিছু সংবাদকর্মীদের দিয়ে হয়রানিমূলক সংবাদ প্রকাশ করে আমাদের দোষি প্রমাণিত করার অপচেষ্টা করে। যে খানে আমি সহ কয়েকজন মুসল্লিকে জামাত নেতা ও জামাত নেতাকর্মীদের মদদদাতা হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায়। আমি সহ যাদের নামে জামাতের অভিযোগ করেছেন তারা কোনদিন জামাত করিনি। আর কর্মী বা মদদ দাতাও নয়। আমরা নিতান্তই গ্রামের সহজ সরল মানুষ। আমরা নিরুপাই হয়ে মিথ্যা অভিযোগ থেকে যাতে আমরা সকলে রেহ্ইা পেতে পারি সে জন্য প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এসময় মসজিদের মুসল্লি মধ্যে নুর মোহাম্মাদ, নুরুল আমিন, আব্দুল লতিফসহ আরো আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।