দেবহাটার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কণ্যাকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন

0
48

দেবহাটা প্রতিনিধি দেবহাটার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের এক কণ্যা যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় শরীরে আগুনের ছ্যাকা ও পাশবিক নির্যাতন। নির্যাতনের স্বীকার হওয়া কণ্যার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বাঁশের আগায় প্যাচানো পলিথিনের আগুন এবং সিগারেটের আগুনের ছ্যাকা দিয়ে শাররিক ও মানষিক নির্যাতন করে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছে ভিক্টিমের পরিবার। এ ঘটনাটি গত রবিবার কণ্যার স্বামীর বাড়ি কালিগঞ্জ উপজেলার সাতবসু গ্রামে ঘটে। এতে নির্যাতনের স্বীকার হয় দেবহাটা উপজেলার টাউনশ্রীপুর গ্রামের শেখ রফিকের কন্যা ও একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মাদ শেখের নাতি আছিয়া খাতুন (২২)। কন্যার পরিবার সূত্রে জানা যায়, বছর চারেক আগে তাদের কন্যা আছিয়া খাতুনকে বিয়ে দেয় কালিগঞ্জ উপজেলার সাতবসু গ্রামের জিয়াদ আলী কারিগরের পুত্র আছাদুল কারিগরের সাথে। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই তাদের কন্যা আছিয়ার উপরে যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। তার পরেও কন্যার সুখের জন্য তাদের জামাই আছাদুলকে পানের বরজ করার নাম সহ কয়েক দফায় ২ লক্ষ টাকা দিয়েছে। মাঝে মধ্যে টাকা দিলে তাদের কন্যা ভাল থাকে আর না দিতে পারলে চলে স্বামী, শশুর, শাশুড়ী ও ননদের অমানবিক নির্যাতন। এরপর জামাই আবার বায়না ধরে মৎস্য ঘের করতে টাকা দিতে হবে। আর এ টাকা না দিতে পারায় জামাই আছাদুল তাদের মেয়েকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। এক পর্যায়ে গত মাস দুয়েক আগে তাদের মেয়েকে মারধর করলে আছিয়া খাতুনের অপারেশনের সেলাইয়ে গুরুতর আঘাত লাগে। আছিয়া খাতুন আঘার প্রাপ্ত হওয়ার পর স্বামীকে চিকিৎসার কথা বললে জামাই চিকিৎসা করাতে অস¦ীকৃতি জানায় এবং পিতার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। গত ১০ এপ্রিল শনিবার সকাল ১০টার দিকে আকস্মিক ভাবে কন্যার শশুর জিয়াদ আলী কারিগর বাইসাইকেলে তাদের বউমাকে নিতে আসে। এসময় শশুর জিয়াদ আলী দুপুরে না খেয়ে নাটকীয় ভাবে বউমা আছিয়াকে ইজিবাইক যোগে এবং তিনি নিজে সাইকেল যোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথি মধ্যে শশুর জিয়াদ আলী তার বউমাকে নিতে আসার বিষয়ে বাড়ি যেয়ে কাউকে কিছু না বলার কথা বলে। এসময় বউমা মিথ্যা বলতে অস্বীকার করলে বাড়িতে বিভিন্ন অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে বলে নাটকীয় গল্প সাজায় শশুর। কন্যার শশুর বাড়ীতে পৌছালে ঐদিনই বিকাল ৪টার দিকে স্বামী আছাদুল বাড়ীতে আসে এবং তুমি কেন এসেছো, তোমাকে কে নিয়ে এসেছে? এসকল প্রশ্ন করতে থাকে এবং আছিয়া খাতুনের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। এ সময় আছিয়ার শশুর নাটকীয় ভাবে সব কিছু অস্বীকার করে। পরে আছিয়া খাতুনের দুই হাত, পা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে বাঁশের আগায় পলিথিন পেচিয়ে তাতে আগুন এবং সিগারেটের আগুনের ছ্যাকা দিয়ে বাড়ী থেকে চলে যায়। বিকাল ৫টার দিকে জামাই আছাদুল পুনরায় বাড়িতে আসে এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মোক্তার আলীর উপস্থিতিতে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে তাদের কন্যা অন্য ছেলের সাথে পালিয়ে যাচ্ছে বলে অপবাদ দেয়। সে সময় ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় ইউপি সদস্য মোক্তার আলীকে দিয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তাদের কন্যাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে আছিয়ার ভাই রুস্তম আলী বোনকে বাড়িতে নিয়ে এসে সখিপুরস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে আছাদুল কারিগরের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মোবাইল ফোনটি তার ছোট ভাই রিসিভ করেন এবং তার ভাই বাড়িতে নেই জানান।
কালিগঞ্জ থানার এসআই শিহাব জানান, আছিয়া খাতুন নামের এক গৃহবধুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তার ভাইকে খবর দিলে গৃহবধুর ভাই থানা থেকে তার বোনকে নিয়ে যায়।তবে তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখাযায়।