দৃষ্টিনন্দন ঝুলমি তৈরীতে চাহিদা বাড়ছে প্লাষ্টিক বোতলের ছিপির

0
776

মইনুল ইসলাম, আশাশুনি:
আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে চায়ের দোকান গুলোতে চোখে পড়ে কোমল পানীয় পেপসি, কোকাকোলা, সেভেনআপ, ফান্টা, স্প্রাইট, আরসি কোলার প্লাস্টিকের বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। আর এতগুলো বোতলের মাঝে একটিও ছিপি নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোতলের ছিপি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ফুলের ঝুলমি। যা দেখতে দৃষ্টিনন্দন ও অত্যন্ত চমকপ্রদ। বুধহাটা বাজারসহ গ্রামের আরও কয়েকটি দোকানে খোঁজ নিয়ে দেখাগেল একই অবস্থা। ছিপি সংগ্রহকারীরা প্রতিপিস ছিপি ১টাকা থেকে ২টাকা দরে কিনে নিচ্ছেন। কাদাকাটি বাজারে চায়ের দোকান থেকে বোতলের ছিপি ক্রয় করতে আসা আমান উল্লাহ জানান, স্ত্রী ফুলের ঝুলমি করার জন্য আমাকে সামান্য কয়টা বোতলের ছিপি জোগাড় করতে বলেছে। কোথায় পাবো, চেষ্টা করে না পেয়ে চায়ের দোকানে এসেছি ছিপি ক্রয় করতে। তিনি আরও জানান, একটি ফুলের ঝুলমি তৈরি করতে সাধারণত ৫০-৬০টি বোতলের ছিপি, ফোমের ওয়ানটাইম পেন্ট বা বোতল, সূতা, বাঁশের চটা, কটনবার, সুঁচ, কাউচি প্রয়োজন। সেটাও আমাকে ম্যানেজ করে দিতে হবে। তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, উপজেলার বেশিরভাগ তরুণী লেখাপড়ার পাশাপাশি অবসরে ঘর সাজাতেই মূলত বোতলের ছিপি দিয়ে তৈরি করছেন ফুলের ঝুলমি। এই ফুলের ঝুলমি তৈরীর উপকরণ যোগাড় করে দিতে সহযোগিতা করেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। তাছাড়া গায়ের বধুরা সংসারের কাজের ফাঁকে অবসর সময়ে পরিত্যাক্ত বোতলের ছিপি দিয়ে ফুলের ঝুলমি তৈরি করছেন। ঝুলমি তৈরি করে নিজেদের ঘর সাঁজাচ্ছেন আবার কখনো মুজুরির বিনিময়ে অন্যদের ঘরও সাজিয়ে দিচ্ছেন। তাই দৃষ্টিনন্দন এই ঝুলমি তৈরি আশাশুনি উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।