দূত সম্মেলন ও প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা

0
365

বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে যারা কর্মরত আছেন তারা বলিষ্ঠভাবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করবেন, সে দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সমস্যা সংকটে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন, সর্বোপরি দেশের স্বার্থ সুরক্ষা ও ভাবমূর্তি উন্নয়নে কাজ করবেন এটাই প্রত্যাশিত। আমরা আশা করবো এই দূত সম্মেলন কূটনীতিকদের আরো দায়িত্বশীল হতে উদ্বুদ্ধ করবে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের নিয়ে প্রথমবারের মতো দেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘এনভয়জ কনফারেন্স’ বা দূত সম্মেলন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দায়িত্বরত আমাদের দূতরা গুরুদায়িত্ব নিয়েই সেখানে অবস্থান করেন। তারা তাদের দায়িত্ব কতটা সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে পারছেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাদের সমস্যা-সীমাবদ্ধতা এসব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে বহির্বিশ্বে কূটনৈতিক তৎপরতা এখন সঙ্গত কারণেই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এরকম একটি প্রেক্ষাপটে এই দূত সমম্মেলন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

গত রোববার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত দূত সম্মেলনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকা, অবস্থান ও অর্জনকে এ যাবৎকালের শ্রেষ্ঠ কূটনৈতিক সাফল্য বলে উল্লেখ করেছেন। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত কূটনীতিকদের সক্রিয় থাকাসহ আন্তর্জাতিক বিশ্বে¦র সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বিশেষ গুরুত্ব আরোপের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা কূটনীতিকদের উদ্দেশে বলেছেন, আগে কূটনীতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিষয় গুরুত্ব পেত আর এখন অর্থনৈতিক কূটনীতি চালু হয়েছে। এ জন্য তিনি বাণিজ্য স¤প্রসারণের বিষয়ে বিশেষ নজর দেয়ার কথা বলেন বাংলাদেশি কূটনীতিকদের। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি। যারা তাদের পাঠানো রেমিটেন্স দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সবল রাখছেন। অথচ তাদের বরাবরের অভিযোগ হলো, তারা বিদেশে তাদের সংকটে সে দেশের বাংলাদেশ মিশন থেকে কাক্সিক্ষত সেবা ও সহযোগিতা পান না। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, প্রবাসীরা যেন বিদেশে কোনোরকম হয়রানির শিকার না হন, তাদের ভালো মন্দ দেখা, সমস্যার সমাধান করতে হবে। সপ্তাহে কিংবা মাসে অন্তত একবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে বসে তাদের সমস্যার কথা শোনা এবং সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। এ ছাড়াও বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষা, দেশে আরো বিনিয়োগ আনা, নতুন রপ্তানি বাজার সৃষ্টি, জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধিতে রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনারদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিদেশে কর্মরত কূটনীতিকদের প্রতি নানা অভিযোগের বিপরীতে তাদেরও কিছু সমস্যা-সংকটের কথা উঠে এসেছে বিভিন্ন সময়। যেমন- বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোকে বেশি বেশি ব্যস্ত থাকতে হয় সফররত নেতা-মন্ত্রীদের প্রটোকল দেয়ার কাজে। অনেকে তাদের প্রাপ্য সেবা ও সুবিধাদির চেয়েও অতিরিক্ত কিছু দাবি করেন, এসব আবদার মেটাতে তাদের ব্যস্ত থাকতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতদের যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে, তাতে হয়তো কূটনীতিকরা তাদের সমস্যা-সীমাবদ্ধতার কথাও বলে থাকবেন, গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা পেয়ে থাকবেন। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে যারা কর্মরত আছেন তারা বলিষ্ঠভাবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করবেন, সে দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সমস্যা সংকটে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন, সর্বোপরি দেশের স্বার্থ সুরক্ষা ও ভাবমূর্তি উন্নয়নে কাজ করবেন এটাই প্রত্যাশিত। আমরা আশা করবো এই দূত সম্মেলন কূটনীতিকদের আরো দায়িত্বশীল হতে উদ্বুদ্ধ করবে, তাদের কর্মস্পৃহা জাগ্রত করবে। তারা তাদের পেশাগত দায়িত্ব এবং এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পালনে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট থাকবেন।