দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি কাম্য নয় ফসলরক্ষা বাঁধ দ্রুত নির্মিত হোক

0
443

 

গত বছরের দুর্যোগের বিরূপ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বে ও নির্ধারিত সময়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়া খুবই হতাশাজনক। নির্মাণকাজ বিলম্বিত হওয়ার কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আবারো হাওর আক্রান্ত হলে শুধু হাওরবাসীই নয় সারা দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই অতি দ্রুত বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে।

সময় মতো বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় গত বছর সুনামগঞ্জের হাওরে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। হাওরের সমস্ত ফসল এবং মাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তারপর সরকার প্রায় একশত কিলোমিটারের বেশি বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন যেন এবার বন্যায় কোনো ক্ষতি না হয়। কিন্তু আগের মতোই সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এবং অনিয়মের ফলে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময়েও শেষ হলো না। তাহলে কি আমরা গত বছরের মতো এবারো হাওর দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি দেখব?

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হাওরে আগাম বন্যার কবল থেকে বোরো ফসল রক্ষার জন্য ৮০টি পিআইসির (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) মাধ্যমে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ২৩টি হাওরের ১০৬ কিলোমিটার বাঁধের মধ্য থেকে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৬ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড। নীতিমালা অনুযায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার শেষ দিন আজ। ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে চলতি ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময় মতো বিল না পাওয়া, ল্যান্ড সার্ভে, পিআইসি কমিটি গঠনসহ নানা জটিলতায় সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে কাজ করতে পারেনি বলে অভিযোগ করছে পিআইসির লোকজন। এ ছাড়াও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৮০টি পিআইসির মধ্যে অধিকাংশ পিআইসি তাদের প্রথম কিস্তির টাকা এখন পর্যন্ত পাননি। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে ফসলরক্ষা বাঁধগুলো নির্মিত না হওয়ায় আবারো বিপদের আশঙ্কা দেখছেন কৃষকরা। অবিলম্বে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ শুরু করা, বাঁধ নির্মাণে সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্তি ও দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে স্থান না দেয়ার দাবিতে গত মাসে সুনামগঞ্জে একটি সংগঠন মানববন্ধন করেছে। তাদের এ দাবির সঙ্গে আমরাও একমত। হাওর অঞ্চলের ৮০ ভাগ মানুষ বোরো ধান এবং মাছের ওপর নির্ভরশীল। গেল বছর তলিয়ে যায় সুনামগঞ্জের হাওরের শতভাগ ফসল। পাহাড়ি ঢলে ধান, মাছ দুটোই গেছে। এ ছাড়া অনেক ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই এসব ক্ষতি হয়েছিল। সে সময়ে প্রায় দুই লাখ টন বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এর ফলে বাজারে চালের ঘাটতি দেখা দেয় এবং চালসহ অন্যান্য দ্রব্যাদির দাম বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই বাঁধ ভাঙার ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের বিষয়টিও রয়েছে। হাওরবাসীর স্বার্থ সংরক্ষণ ও সেখানকার পরিবেশ-প্রতিবেশ সুরক্ষার জন্য সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। পাউবোসহ প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের সৎ ও নিষ্ঠাবান হওয়াটাও জরুরি। কারণ যত ভালো পরিকল্পনাই হোক, বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তারা যদি অসৎ হন, তাহলে তা সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণে ব্যর্থ হবে, প্রতি বছর বন্যায় বাঁধ ভেঙে কৃষকের ফসল নষ্ট হবে। সরকার এসব দিকে নজর দেবে, এটাই প্রত্যাশা।

আমরা মনে করি, গত বছরের দুর্যোগের বিরূপ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়া খুবই হতাশাজনক। নির্মাণকাজ বিলম্বিত হওয়ার কারণগুলো খুজে বের করতে হবে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নিতে হবে। আবারো হাওর আক্রান্ত হলে শুধু হাওরবাসীই নয় সারা দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই অতি দ্রুত বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে। আমরা গত বছরের হাওর চিত্রের পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না।