দাকোপে সরকারি খাল ভরাট করে বিক্রি করছে চেয়ারম্যান!

0
566

আজিজুর রহমান, দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা ইউনিয়নের বানিশান্তা বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরকারি খালটি দখলে নিয়ে বালু দিয়ে ভরাট করে বিক্রয় করছেন বানিশান্তা ইউপি চেয়ারম্যান সুদেব রায়।
জানা গেছে, শেখ রাসেল স্মৃতি সংঘের নামে খাল দখল করেন আওয়ামীলীগের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা। খালটি ভরাট করে দোকান নির্মাণের জায়গা নির্ধারণ করে চড়া দামে বিক্রয় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সুত্রে জানা যায়, পশুর নদীর দক্ষিণ তীরে বানিশান্তা বাজার অবস্থিত। এ নদী থেকে খালটি বানিশান্তা ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে খেজুরিয়া পিনাক পানি স্কুল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ওয়াপদার পাশ থেকে ৮.৫০ শতক জায়গা ভরাট করায় খালে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের মধ্যে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে পাইলিং করা। এর ভিতরে বালু দিয়ে ভরাট করা। তার উপরে ইট ও ইটের খোয়া রাখা। বানিশান্তা বাজারের চায়ের দোকানদার জুধিষ্টি দেবের সামনে দিয়ে বয়ে গেছে খালটি। তিনি জানান, খালটি চেয়ারম্যান বাবু ভরাট করে ৯/৬ হাত মাপে প্রতিটি প্লট ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দরে বিক্রয় করছেন।
বানিশান্তা বাজারের নাসির উদ্দিন মোড়ল, রতন মন্ডল, সঞ্জয় দেব, সুরঞ্জন রায়সহ অনেকেই বলেন, এখানে আমরা খাল দেখেছি। খালটি উপজেলা থেকে প্রতিবছর ইজারা দেওয়া হত, খালে নৌকা নিয়ে মাছ ধরেছি। এখন এ জায়গাটি ভরাট করেছে চেয়ারম্যান। তাঁরা আরও বলেন, সরকারি খাল ভরাট করেছে পজিশন করে বিক্রয়ও করবে।
ই্উপি চেয়ারম্যান প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের একজন, তাই সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে চাইনি। তাদের মধ্যে কেউ ছিল মোটরগাড়ি চালক আবার কেউ ছিল দিন মজুরি। তারা বলেন বড় লোকের বড় বড় ব্যাপার, প্রশাসনের অনেক উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সাথে তাদের ভালো সম্পর্ক। আমরা তো দিন আনি দিন খাই। তার বিরুদ্ধে কথা বলে কি বিপদে পড়বো? এতে তার কি হবে?
বানিশান্তা গ্রামের দীপংকর বৈদ্য বলেন,  চেয়ারম্যান সুদেব মন্ডল ক্ষমতার বলে জায়গাটি দখল করে বালু দিয়ে ভরাট করেছে। তাছাড়া জায়গাটিতে দোকান নির্মাণের অবস্থান তৈরী করে ২ লক্ষ টাকা দরে এক একটি পজিশন বিক্রয় করেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরোজ খাঁ বলেন, শেখ রাসেল স্মৃতি সংঘের ক্লাব ঘর তৈরী করার জন্য জায়গাটি ভরাট করা হয়। দখল করে বিক্রয়ের বিষয় জানতে চাইলে উত্তেজিত হয়ে তিনি বলেন, ক্লাবের জন্য ভরাট করতে যে টাকা খরচ হয়েছে তা কোন বাবাই দিবে। অকথ্য ভাষায় তিনি বলেন পজিশন বিক্রি না করলে খরচের টাকা আসবে কোথা থেকে। এ পর্যন্ত বালু তুলতে খরচ হয়েছে ১২ লক্ষ টাকা। এ টাকা কই পামু, দিবে কে? বিক্রি করব না তো করব কি?
উপজেলা সার্ভেয়ার মোঃ তৌফিক মাহফুজ বলেন, সরকারী খাল দখলে নিয়ে ভরাট করার জন্য কাউকে অনুমোতি দেওয়া হয়নি। চেয়ারম্যান তাঁর নিজের ক্ষমতায় ভরাট করছে। যা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দখল করছে।
বানিশান্তা ইউপি চেয়ারম্যান সুদেব রায় বলেন, রাসেল স্মৃতি সংঘের জন্য জায়গাটি ভরাট করেছি। তাছাড়া বাজারের পাশে থাকার কারনে অফিসের জন্য কিছু দোকান বরাদ্ধ করে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, ওয়াপদার পাশ দিয়ে সরকারি জায়গা ইচ্ছামত দখল করে নিচ্ছে শত শত দখলদাররা। তাই একটি অফিস ঘর তৈরী করার জন্য এমপি মহোদয় ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে বলে জায়গাটি ভরাট করি। খালটির আশপাশ জায়গা দখল হওয়ার কারনে আমার পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেই জায়গাটি ভরাট করে কিছু করা যায় কিনা। রাসেল স্মৃতি সংঘ নামে সংগঠনটি এখানে অনেক দিন যাবৎ আছে। কিন্তু ক্লাব ঘর তৈরীর জন্য কোন জায়গা নির্ধারণ করা ছিল না। তাই জায়গাটি ভরাট করে অফিসের পাশাপাশি দোকান নির্মাণ করে দিচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মারুফুল আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে সরকারী জায়গা কেউ যদি অবৈধভাবে দখল করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনুগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।