দাকোপে সদস্যদের টাকা নিয়ে উধাও হচ্ছে একের পর এক এনজিও

0
757

আজিজুর রহমান, দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি :
খুলনার দাকোপ উপজেলা থেকে একের পর এক সদস্যদের টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে সুদ ব্যবসায়ী এনজিও। প্রতারণার শিকার হয়েছে বলে দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষের অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছরে দাকোপ থেকে টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে মুন ফাউন্ডেশন, কয়রা মহিলা উন্নয়ন সংস্থা এবং সম্প্রতি উধাও হয়েছে চলন্তিকা যুব সোসাইটি ও ডে নাইট পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থা নামের দু’টি সুদ ব্যবসায়ের এনজিও। এদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন করার জন্য কোনটির বৈধ অনুমোদন আছে আবার কোনটির নেই।

সম্প্রতি লাপাত্তা হওয়া এনজিও দু’টির কর্মীরা সদস্যদের কাছ থেকে দৈনিক ১০টাকা থেকে শুরু করে গ্রাহকের সাধ্য ও চুক্তি অনুযায়ী সঞ্চয় আদায় করত। প্রতি ১২ মাস পর ১৩ মাসে সদস্যদের মূল টাকাসহ সুদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও প্রথম প্রথম নিয়ম মাফিক হয়ে, পরে আর হয়নি।

চালনা লেকের পাড়ের হতদরিদ্র পঙ্গু নিরাপদ মিস্ত্রী খুলনা টাইমসকে বলেন, আমি ভিক্ষা করে দৈনিক ১০টাকা করে ৯মাস ধরে ডে নাইট সংস্থার কর্মীর কাছে সঞ্চয় জমা করেছি আমার টাকা আমি পাব তো? একই ধনণের প্রশ্ন নিরাপদ’র বিধবা বোন সবিতা মিস্ত্রীর। সবিতা মিস্ত্রী বলেন, আমি পরের বাড়ী খেটে ২০টাকা করে সঞ্চয় দিয়েছি আমার কষ্টার্জিত টাকা ফেরত দেবে তো?

চালনা বাজারের ঐশি মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক দীলিপ মন্ডল খুলনা টাইমসকে বলেন, আমি চলন্তিকা যুব সোসাইটিতে ১৭ হাজার টাকা সঞ্চয় করেছি।

চালনা বাজারের ফটোস্ট্যাট দোকানদার কিশোর বিশ্বাসের ৩৪ হাজার লেকের পাড়ের পূর্নিমা হালদারের ২টি সঞ্চয় হিসাবে রয়েছে। এমনি করে অগনিত সদস্যরা সংস্থা দু’টিতে সঞ্চয় করে প্রতারণার শিকার হয়েছে। এদিকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সংস্থা চলে যাওয়ায় বিপদে রয়েছে সংস্থার মাঠ কর্মীরা। কারণ এরা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা তাই সদস্যরা তাদের টাকার জন্য কর্মীদের সাথে ইতোমধ্যে বাক-বিতন্ডা শুরু করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মীরা বলেন, এমনটা হবে আমরাও ভাবতে পারিনি চাকুরী করতে এসে এখন বিপদে পড়েছি। সংস্থা দু’টির শাখা ব্যবস্থাপকরাও স্থানীয়, তাই তাঁরা রয়েছেন আরও ঝুঁকির মধ্যে।

মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করে সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি চলন্তিকা যুব সোসাইটির উপজেলা শাখা ব্যবস্থাপক গৌতম বিশ্বাসের সাথে।

এ বিষয়ে জানার জন্য ডে-নাইট পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার উপজেলা শাখা ব্যবস্থাপক সুফলা মন্ডলের মুঠোফোনে কল দিলে রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় জেনে কথা না বলে ফোন বন্ধ করে দেয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মারুফুল আলম খুলনা টাইমসকে বলেন, আমি সামাজিক যোগাযোগ (ফেসবুক) মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি, এখনও কেউ অভিযোগ করেনি তার পরও আমি সংস্থা দু’টির বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি।
অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক চলন্তিকা যুব সোসাইট ও ডে নাইট পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থায় তাদের টাকা সঞ্চয় করেছিল তাই উপজেলার বাজুয়া এবং চালনা পৌরসভাতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি যখন তখন সহিংসতায় রূপ নিতে পারে বলে আশংকা করছেন এলাকাবাসী।