দাকোপে পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা

0
708

আজিজুর রহমান,খুলনাটাইমস :

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এরই মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজে শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং ও সাজসজ্জার কাজ। এবার খুলনার দাকোপ উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে মোট ৭৯টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

 

উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ ননীগোপাল মন্ডল জানান, শুভ মহালয়া অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজা। ওই দিনে মণ্ডপে মণ্ডপে বেঁজে উঠবে ঢাঁকঢোল আর কাঁসরের শব্দ। তার সঙ্গে ১৯ অক্টোবর দশমী পূজা ও দশহরার মধ্যদিয়ে পাঁচ দিনব্যাপি দুর্গোৎসব শেষ হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নে দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ প্রস্তুত করা হয়। এর মধ্যে পৌরসভায় আটটি, পানখালিতে পাঁচটি, তিলডাঙ্গায় ১৮টি, দাকোপে পাঁচটি, লাউডোবে পাঁচটি, কৈলাশগঞ্জে ১০টি, বাজুয়াতে ১০টি, কামারখোলায় ছয়টি, সুতারখালিতে ছয়টি ও বানিশান্তা ইউনিয়নে ছয়টি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন মন্দিরে ভাষ্কর শিল্পীদের মূর্তি তৈরির কাজ চলছে বিরতিহীনভাবে। হাতে স্বল্প সময় থাকায় দিনরাত ব্যস্ত রয়েছে প্রতিমাশিল্পীরা। কোথাও দো-আঁশ মাটির প্রলেপ দেওয়া শেষ। আবার কোথাও রংতুলির আঁচড়ে সেজে উঠেছে প্রতিমা। সবকিছু মিলিয়ে উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে শারদীয় আমেজ। অন্যদিকে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ পূজা উপভোগ করতে জামা কাপড় কিনতে দোকানে দোকানে ভিড় করছে।

তবে প্রতিমা তৈরির আনুষঙ্গিক উপাদানের মূল্য বৃদ্ধিতে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন কারিগর ও মৃৎশিল্পীরা। তাঁরা জানান, আগের মতো পয়সা-কড়ি পাওয়া যায় না। সেই সঙ্গে মূর্তির কাঁচামালের দামও বেড়ে চলছে।
চালনা বৌমার গাছতলা সার্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরে প্রতিমা প্রস্তুত করছিলেন চালনা বাজারের গুরুপদ জোয়াদ্দার নামের এক কারিগর। তিনি জানান, বাবা-দাদার সময়কাল থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ করেন। এর পাশাপাশি তৈজসপত্র তৈরি করে জীবন ধারণ করে থাকেন। তাঁর সাথে চার জন শিল্পী আছে। কিন্তু এখন প্রতিমা তৈরিতে ব্যয় বাড়ায় আগের মত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না।
পানখালি বরণ পাড়া সার্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করছেন ভাস্কর বিশ্বজিৎ মন্ডল। তিনি বলেন, বটিয়াঘাটা উপজেলার শুকদাড়া গ্রাম থেকে তাঁরা কজন মিলে একটি দল এসেছে প্রতিমা প্রস্তুত করতে। এ পর্যন্ত আটটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করছেন। তিনি আরও বলেন, সাজসজ্জার ওপর নির্ভর করে প্রতিটি মণ্ডপ তৈরিতে ২৫ হাজার টাকা তাঁদের মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। কাঠামোতে মাটি দিয়ে প্রতিমার আকৃতি তৈরির পর মাটির প্রলেপ দেওয়া শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং, সাজসজ্জা ও অলঙ্করণের কাজ।

 

থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোকাররম হোসেন খুলনাটাইমসকে  বলেন, দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেবেন। এ সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। এখানে ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপ না থাকায় তিনি আশা করেন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।