দাকোপে ধরাছোঁয়ার বাহিরে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা

0
725

আজিজুর রহমান, দাকোপ :
সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযানে খুলনার দাকোপ উপজেলায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও মাদকের পৃষ্ঠপোষকতা ব্যক্তি ও মাদক ব্যবসায়ীরা রয়েছে এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সরকারের তালিকা থেকে মাদক ব্যবসায়ী ও তাঁদের পৃষ্ঠপোষকের নাম পাওয়া গেছে। এর সাথে পুলিশ, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তি জড়িত থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা দিনে দিনে ক্ষতাসীন হয়ে উঠছে। মাদক চোরাকারবারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তাকারী হিসেবে নাম রয়েছে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এএসআই সবুর হোসেনের। এক শ্রেণির যুবক ও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে কিছু নামধারী নেতাকর্মীরা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে। তালিকায় মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষক, আশ্রয়-প্রশ্রয়দানকারী হিসেবে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রতন কুমার মন্ডলের নাম রয়েছে। গত শনিবার কয়রা থানা পুলিশ তাঁকে আটক করে। রতনের নাম মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা থাকার শর্ত্বেও তাঁকে নারী অপহরণ মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ করেন দাকোপ থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাহাবুদ্দীন চৌধুরী মুঠোফোনে খুলনা টাইমসকে বলেন, মাদক এমন একটি জিনিস যা পজিশনে পাইতে হয়। মাদকের পৃষ্ঠপোষকতায় তার নাম আছে, কিন্তু সে কেনো অপহরণ মামলায় আটক হয়েছে জানতে চাইলে ওসি বলেন, পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে আলাদা জিনিস। তিনি বলেন কোন অবৈধ জিনিস সেই ব্যক্তির কাছে থাকলে তাকে অপরাধী হিসেবে আটক করা হবে। জানতে চাওয়া হয় সে তো অনেক দিন ধরে প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করলেও অপহরণ মামলায় কেন আটক হয়নি? এ সময় তিনি বলেন, আমরা তো তাকে আটক করার চেষ্টা করেছি। তাকে যখন পাওয়া গেছে তখন আটক করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাসিক সভায় তাকে দেখার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন না এটা ঠিক না।

সরকারের তালিকায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে সাহেবের আবাদ গ্রামের গৌতম সরকারের নাম রয়েছে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় শত্রæতামূলকভাবে ফাসানো হয়েছে। আমি মাদক ব্যবসা বা সেবনের সাথে জড়িত নয়। যারা এর মূল হেতা তাঁদের নাম কেনো আসছে না। তিনি আরও বলেন, আমি যেন মাদকের হয়রানি শিকার না হই। বিষয়টি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে দোষীকে আইনের আওতায় এনে সাজা দেন।

নাম আছে চালনার আঁছাভুয়া গ্রামের অমল কৃষ্ণ বিশ্বাসের ছেলে অনিমেশ বিশ্বাসের। তিনি বলেন, এ সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আরও আছে, চালনার আঁছাভুয়া গ্রামের নওশের আলী গাজীর ছেলে নূরুজ্জামান গাজী, চালনার আঁছাভুয়া গ্রামের পলি বেগমের ছেলে মেহেদী সরদার, চালনার আঁছাভুয়া গ্রামের মাহতাব কাজীর ছেলে মিলন কাজী, গোড়কাটি গ্রামের মহাদেব গোলদারের ছেলে সবুজ গোলদার, চালনা বাজারের পরিতোষ মন্ডলের ছেলে পলাশ মন্ডল, চালনা বাজারের আয়নাল হাওলাদারের স্ত্রী আসমা বেগম, চালনা বাজারের আয়নাল হাওলাদারের ছেলে উজ্জল শেখ, বাজুয়া চুনকুড়ি বাঁধের সেকেন্দার আলী শেখের মেয়ে জেসমিন আক্তার, বাজুয়া চড়ার বাঁধের আলোমতি বেগম, বাজুয়া চড়ার বাঁধের বিষ্ণুপদ রায়ের ছেলে কল্লোল রায়, বাজুয়া চড়ার বাঁধের রেণুকা রায়, বাজুয়া চড়ার বাঁধের জ্যেতিষের ছেলে ছোট বাবু, বাজুয়া চড়ার বাঁধের ডা. পুষ্প রায়ের ছেলে প্রণব রায়, বাজুয়া চড়ার বাঁধের ওয়াজিদ হালদারের ছেলে নিত্যনন্দ হালদার, বানিশান্তা পতিতা পল্লির সর্দারাণী জাহানারা পারভিন। অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ীরা আত্মগোপনে থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় প্রতিবেদনে তাদের স্বাক্ষতকার দেওয়া হয়নি।

সরকারের দেওয়া তালিকায় যাদের নাম রয়েছে অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ীরা আছে ধরাছোঁয়ার বাহিরে। তবে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মোট মাদক মামলার ১৫ জন আসামীর মধ্যে ১৩ জনকে আটক করেন থানা পুলিশ।

থানা সুত্রে জানা যায়, ১০টি মামলায় উদ্ধার করা হয়েছে ২১ পিচ ইয়াবা ও ৩ শত ২৫ গ্রাম গাজাঁ। অভিযান চালিয়ে সঞ্জয় সরকার, গাইস শেখ, মাহাবুবুর রহমান সীফাত, দীপংকর গাইন, প্রদীপ ঢালী, গোপাল মন্ডল, তরুণ বাছাড়, শেখ হাবিবুর রহমান (রনি), এসএম আব্দুস সালাম মিন্টু, আলম শিকদার, গিদিয়ান বিশ্বাস, দিপেশ রায়, অরিন্দম রায়কে আটক করলে ইসমাইল মোল্ল্যা ও সালাম গাজী পলাতক রয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ খুলনা টাইমসকে বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের তালিকায় পুলিশসহ যেসব ব্যক্তির নাম আছে, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।