দাকোপে দেশি মদের আফগারী মালিক আটক : মদের দোকান নয় দাবি সুধীজনদের

0
1818

আজিজুর রহমান,খুলনাটাইমস:

খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভার দেশি মদের আফগারীর মালিক দীপংকর মণ্ডলকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে সমাজকে মাদকমুক্ত করতে বাংলা মদ বিক্রি বন্ধের দাবী স্থানীয় সুশিল সমাজের ব্যক্তিদের।

 

সুত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার উপজেলার চালনাতে ১৯৫২ সালে চালনা বন্দর স্থাপন করেন। বন্দরটি ১৯৫৮ সালে চালনা থেকে স্থানান্তর করে মোংলা বন্দর করা হয়। বন্দর থাকায় উক্ত স্থানে দেশি (বাংলা) মদের আফগারীর লাইসেন্স দিয়ে থাকেন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর। আরও জানা যায়, চালনা বন্দরটি মোংলায় স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে বাংলা মদের আফগারীটি স্থানান্তর বা বন্ধ আজও করা হয়নি।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, আফগারীর বৈধ মালিক ছিলেন হরিপদ ঘোষ। তিনি মৃত্যু বরণের কিছুকাল পূর্বে জাল জালিয়াতী করে দীপংকর মণ্ডল লাইসেন্সের মালিক হয়। দীপংকর মণ্ডল ছিলেন আফগারীর কর্মচারী, রক্তের কোন সম্পর্ক ছিল না মালিকদের সাথে। বর্তমান আফগারীর মালিক দীপংকর স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে যুবসমাজকে দেশি মদ খাওয়ার ভূয়া লাইসেন্স ম্যানেজ করে দিয়ে অবাধে বিক্রয় করে যাচ্ছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, যখন বন্দর ছিল, তখন বন্দরের স্বার্থে এখানে আফগারীর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এখন তো আর বন্দর নেই, তাহলে এমন শান্তিপূর্ন উপজেলাতে মদের আফগারীর কোন প্রয়োজনও নেই। আফগারী থেকে আমাদের ছেলে-মেয়েরা প্রতিনিয়ত মদ পান করছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে সমাজ। বাড়ছে পারিবারিক কলহ।

 

দাকোপের তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি ও জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি কানাই মণ্ডল বলেন, চালনায় যখন বন্দর ছিল, সে সময় একটি পতিতা পল্লি ও বাংলা মদের আফগারী ছিল। যখন বন্দরটি চালনা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া হয় তখন এ স্থানের পতিতা পল্লিটি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আফগারীটি এখন বন্ধ হয়নি। তিনি আরও বলেন, এ আফগারী থেকে খুব সহজে মদ পায় স্থানীয় শিক্ষর্থীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, দীপংকর মণ্ডল যুবসমাজের কাছে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার বাংলা মদ বিক্রয় করে যাচ্ছে। সরকার যাদের কাছে মদ বিক্রয়ের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে, তাদের কাছে নামমাত্রা বিক্রয় করে যাচ্ছে তিনি। সরকারের আইন প্রয়োগকারী সকল দপ্তরের প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে এমন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে আজও পর্যন্ত। ইতিপূর্বে এখান থেকে ভেজাল মদ খেয়ে অনেকে মারাও গেছেন।

 

বিভিন্নভাবে দেখে যায়, চালনা বাজার আফগারীর বাংলা মদ দাকোপ উপজেলার কালাবগী সুন্দরবন থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকা ও সদর খুলনা জেলা, রামপাল উপজেলা, পাইকগাছা উপজেলা, কয়রা উপজেলা, বটিয়াঘাটা উপজেলা ও ডুমুরিয়া উপজেলা থেকে নানা বয়সের শ্রেণী পেশার মানুষ মদ পান করতে আসেন। শুধু তাই নয় উপজেলায় সরকারী, বেসরকারি, এনজিও প্রতিষ্ঠানে যে সকল ব্যক্তিরা চাকরি করতে আসেন তাঁদের অনেকেই আফগারীর বাংলা মদ পান করেন। কিছুদিন পূর্বে মদ্যপ অবস্থায় দাকোপ থানা পুলিশ একজন সরকারী কর্মচারীকে আটক করেছিলেন।

অবৈধভাবে বাংলা মদ বিক্রয়ের আপরাধে আফগারীর বর্তমান মালিক চালনা বাজারের মৃত নিরেন মণ্ডলেন পুত্র দীপংকর মণ্ডলের নামে দাকোপ থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং- ০৫, তারিখঃ ১৪-১২-১৭ ইং। মামলার হাজিরা দিতে গেলে খুলনা বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
স্থানীয় অভিভাবকমহল জোর দাবী করে প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, আফগারী ও লাইসেন্সের বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে আইনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। বন্দর না থাকায় তারা আরোও বলেন, আফগারীটি এ উপজেলায় কোন রকম প্রয়োজন নেই।

 

দাকোপ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাহাবুদ্দিন চৌধুরী মুঠোফোনে খুলনাটাইমসকে  বলেন, দীপংকর মণ্ডলের মদের দোকান আছে। সে অবৈধভাবে মদ পানের পারমিট দেয় এবং বিক্রয় করে থাকে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং সে কারাগারে আছে। তার বিরুদ্ধে আইনের প্রক্রিয়া চলছে।