দাকোপে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা

0
351

আজিজুর রহমান, দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি, খুলনাটাইমস:
খুলনার দাকোপ উপজেলায় পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনাকে নিয়ে পোষ্ট মাষ্টার শৈতাফ গাইনের নামে মামলা দায়েরের পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের ধোপাদী গ্রামের গাইন বাড়ি গত শুক্রবার (২৪ ফেব্রæয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টায়।
সরেজমিনে জানাযায়, বাড়ির পথের জায়গা নিয়ে স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সদস্য রূপক গাইনের পরিবারের সাথে সৈতাফ গাইনের পরিবারের বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটনার দিন স্থানীয় শালিস বিচারে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। শালিসদারদের কথা না শুনে রূপক গাইন সৈতাফ গাইনকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালি শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এসময় রূপকের স্ত্রী স্বাধীনতা গাইন স্বামীকে আড়াল করতে গেলে প্রতিপক্ষের বাঁশের চটার আঘাতে মৃদু আক্রান্ত হয়।
অভিযোগ করে পোষ্ট মাষ্টার সৈতাফ গাইন বলেন, আমার বড় ভাইকে নিয়ে অশালীন ভাষায় গালীগালাজ করলে আমি রূপকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বেড়ায় থাকা বাঁশের চটা দিয়ে মারতে গেলে তার স্ত্রীর কাঁধে আঘাত লাগে। তবে কোন রকম কাটেনি বা ফাটেনি। সাথে সাথে রূপকের স্ত্রীর জন্য গ্রাম্য ডাক্তারকে বাড়িতে আনা হয়। ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চলে যান। তবে আমার নামে ষড়যন্ত্রভাবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ধোপাদী গ্রামের একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হলে। তাঁরা জানান, বাড়ির জায়গার বেড়া নিয়ে বসাবসি হলে রূপক গাইন ও তাপস গাইনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এরমাঝে রূপক খারাপ ভাষায় উত্তেজিত হয়ে তাপস গাইনের উপর চড়াও হলে তাপসের ছোট ভাই রূপককে বাঁশের চটা দিয়ে আঘাত করতে গেলে তার স্ত্রীর গায়ে লাগে। কিন্তু কোন রকম রক্তাতজখম হয়নি। শুধু হাতের তালু একটু ফুলে ওঠে।
জানতে চাইলে গ্রাম ডাক্তার মনোরঞ্জন রায় বলেন, রূপকের স্ত্রীর শরীরের কোন জায়গায় ফাটিনি বা কাটেনি। সে প্রাথমিক চিকিৎসায় স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে রূপক গাইনের সাথে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার স্ত্রীর মাথা এবং শরীরের কোন জায়গায় ফাটেনি। শুধুমাত্র আঘাত লাগার কারনে ডাক্তার তার মাথায় বান্ডেজ লাগিয়ে ভায়োডিন ব্যবহার করেছে।
দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাহাবুদ্দীন চৌধুরি মুঠোফোনে বলেন, নিজেদের ভিতরে হাতাহাতি হয়েছে এবং আমার কাছে একটি অভিযোগ এসেছে। সেটি তদন্ত পূর্বক আইনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিষয়টিকে বড় আকারে রূপ দেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহল আঘাত প্রাপ্ত নারীর ছবি আপলোড করে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে বলে প্রচার চালাচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং অনেকে এই উশকানীমূলক প্রচারনাকে নিন্দা জানিয়েছেন।#