দাকোপে তরমুজ চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

0
920

আজিজর রহমান, দাকোপ :
আমন ধান কাটার পর থেকে ফাকা বিল ছিল পড়ে। তারপর থেকে তরমুজ চাষের পরিকল্পনায় ব্যস্ত কষকেরা। তবে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে খলনার দাকোপ উপজেলায় গতবারের তলনায় এবছর বেশি তরমুজর চাষ করেছে কষকেরা।
সবুজ সোনার আশায়, আমন ধান কাটা শেষ হতে না হতেই শুরু হয়েছে তরমুজ লাগানোর প্রস্তুতি। বার বার চাষ দিয়ে দ্রæত মাটি শুকিয়ে রোপন করা হয় তরমুজের বীজ। কৃষকরা মনে করেন আগে লাগালে আগে তরমুজ পাওয়া যায় এবং ভাল দামে বিক্রি করা যায় এ ধারনা থেকেই উপজেলার কৃষি জমিতে ব্যাপক হারে শুরু হয়েছে তরমুজের চাষ। নারী পুরুষ সবাই মিলে সারাদিন শ্রম দিচ্ছে তরমুজ খেতে।
গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার ৩টি পোল্ডার ঘুরে দেখা যায়, দিগন্তজোড়া তরমুজ চাষের প্রস্তুতি। উপজেলার ৩১, ৩২ এবং ৩৩ পোল্ডারে অবস্থিত ৯টি ইউনিয়ন গিয়ে দেখা গেছে পূর্বে শুধু ৩৩ নং পোল্ডারের ৫টি ইউনিয়ন বাজুয়া, কৈলাশগঞ্জ, লাউডোব, দাকোপ এবং বানীশান্তায় তরমুজের চাষ হতো। কিন্তু এবার ৩১ ও ৩২ নং পোল্ডারেও তরমুজের চাষ করতে শুরু করেছে কৃষকরা। ইতিমধ্যে সকলের বীজ রোপন কাজ শেষ করেছেন। দেখা গেছে গতবারের তুলনায় এবার তরমুজের চাষ অনেক বেশী হচ্ছে।
সুত্রে জানা যায়, গতবার তরমুজ লাগানো হয়েছিল ১৫০০ হেক্টর জমিতে সেখানে এ বছর ২০০০ হেক্টর ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছে উপজেলা কৃষি অফিস। কৃষি অফিসের তথ্যমতে গতবার উপজেলা থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন হয়েছে।
উপজেলা কৃসি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এসএম এনামুল ইসলাম বলেন, লবণাক্ত এসব জমিতে পাকিজা, বাদশা, বিগ ফ্যামিলি, জাম্বু জাগুয়া, হান্টার, ড্রাগন, বøাক মাষ্টার জাতের তরমুজ ভাল হয় তাই কৃষকরা বীজতলা তৈরী করে এসব জাতের বীজ রোপন করছেন।
কঁচা গ্রামের চাষি সুনিল মন্ডল বলেন, গতবার তরমুজে ভাল লাভ হয়েছে তাই এবার বেশী করে চাষ করছি।
মাষ্টার শেষ করে প্রথমবারের মত ৫বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন লাউডোব গ্রামের তপক মন্ডল তপু। তিনি জানান, বেকারত্ব দূর করতে আত্মকর্মসংস্থান হিসেবে কৃষি কাজ বেছে নিয়েছি। তরমুজে বেশি লাভজনক এজন্য তরমুজ চাষ দিয়ে কর্মসংস্থান শুরু করেছি।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্ত্যত ২৫ জন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, এক বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করতে ব্যয় হয় ১০ হাজার টাকা। ফসল ভাল হলে বিক্রি হয় প্রতি বিঘা ৩০ থেকে ৩৫হাজার টাকা। লাভের আশায় পরিশ্রম করে, মাত্র ৬০দিনের ফসল তাই পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে মাঠে সকাল থেকে সন্ধ্যা কাজ করছি। পরিশ্রম করে লাগাতে পারলে অনেক টাকা লাভ হবে এ আশায়।
লাউডোব ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সফল চাষী শেখ যুবরাজ বলেন, দাকোপের তরমুজ আকারে যেমন বড়, স্বাদেও তেমনি মজাদার তাই এর চাহিদা গোটা পূর্ব বাংলা ছাড়িয়ে এখন দেশের বাইরে। কৃষকদের জন্যও লাভজনক। অল্প দিনের ফসল কিন্তু লাভ অনেক, তাই কৃষকরা তরমুজ চাষ করতে বেশী আগ্রহী হয়েছে।
উপজেলার শ্রেষ্ট কৃষক বাজুয়ার ইউপি চেয়ারম্যান রঘুনাথ রায় বলেন, ৮০ দশক পর্যন্ত এ এলাকার কৃষকরা মারাত্মকভাবে দারিদ্র্যতায় ভূগেছে। পরবর্তী সময়ে কৃষি অফিসের সহায়তায় তরমুজ সহ অন্যান্য নতুন নতুন ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে তারা আজ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পেরেছে। তিনি আরও বলেন, দাকোপের এক ফসলী জমিতে এখন তিনটি ফসল হচ্ছে এবং দিন যত যাচ্ছে এর প্রসারও তেমন বাড়ছে। এ সম্ভাবনাকে আরও ফলপ্রসু ও গতিশীল করার জন্য, সার্বিক সহায়তার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, শুষ্ক, উষ্ণ ও প্রচুর আলোযুক্ত স্থানে তরমুজ সবথেকে ভাল জন্মে। বৃষ্টিপাত ও অধিক আদ্রতা তরমুজের জন্য ক্ষতিকর। তরমুজের খরা ও উষ্ণ তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতা খুব বেশী।পানি নিস্কাশনের সুব্যবস্থা আছে এমন বেলে দো-আঁশ থেকে দো-আঁশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। সেদিক বিবেচনা করলে দাকোপের ৩টি পোল্ডারের ৯টি ইউনিয়নের মাটি তরমুজ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তিনি বলেন, মাঠে গিয়ে কৃষকদের হাতে-কলমে তরমুজ চাষ সম্পর্কে ধারনা দেওয়া হচ্ছে। মাটি তৈরী থেকে বালাই দমন পর্যন্ত এমনকি তরমুজ বিক্রির আগ মুহুর্ত পর্যন্ত সকল চাষিকে সহায়তা করা হচ্ছে। মাঠ দিবসের মাধ্যমে কৃষকদের সাফল্য তুলে ধরা হচ্ছে, সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য অনুপ্রাণীত করা হচ্ছে। কৃষির মাধ্যমেই কৃষকের ভাগ্য উন্নয়ন করা আমাদের লক্ষ্য।