দাকোপে ছাত্রলীগ সাধারণ সস্পাদককে পদে পূনর্বহালের দাবি

0
864

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনাটাইমস :
খুলনার দাকোপ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক স্বর্ণদ্বীপ জোয়ার্দ্দারকে তার পদে পূনর্বহালের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি বরাবর লিখিত আবেদন দায়ের করেন বলে জানা গেছে।

এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে স্বর্ণদ্বীপকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন। সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্নভাবে দাবি জানাচ্ছে ওই ছাত্রলীগ নেতার সমর্থকরা।

দলীয় সুত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২১ জুলাই দাকোপ উপজেলা ছাত্রলীগের দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজগর হোসেন বাপ্পিকে সভাপতি ও স্বর্ণদ্বীপ জোয়ার্দ্দারকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি করা হয়েছিল।

আবেদন সুত্রমতে, কমিটি গঠনের চার মাস পর বাজুয়া সুরেন্দ্রনাথ ডিগ্রী কলেজের মানবিক শাখার দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী বন্যা রায়ের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলায় দ্বিতীয় নম্বর আসামী করা হয় স্বর্ণদ্বীপকে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তাকে ওই পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার ও দলীয় কার্যক্রম না করার নির্দেশ দেন। মামলা থেকে বিজ্ঞ আদালত তাকে জামিন মঞ্জুর করলেও বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধিন রয়েছে।

মৃত্য বন্যার বাবা অনিমেশ রায় বলেন, প্রথমে পুলিশ বাদী মামলা হয়েছিল। পরে বন্যার মৃত্যুর আলামত খুজে পুলিশ কিছু মোবাইলের অডিও রেকর্ড ধারণ করা ও ছবি পেয়েছিল। সেখানে সংশ্লিষ্টদের কথা ও চিরকুট ছিল। এরপর ওই প্রমাণের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনা করায় মামলার আসামী করা হয়। তিনি আরও বলেন, টাকার বিনিময় মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য আসামী স্বর্ণদ্বীপের পক্ষ থেকে অনেকবার বলেছিল। অনিমেশ বলেন, আমরা গরিব তাই মেয়ে হত্যার মামলায় সঠিক বিচার পাচ্ছি না। মামলার আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় আইনের হাত থেকে পার পেয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক স্বর্ণদ্বীপ জোয়ার্দ্দার বলেন, কমিটি গঠনের পর থেকে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দলীয় সকল কার্যক্রম পালন করে যাচ্ছিলাম। কিন্তু দলীয় কোন্দল বা শত্রুতামূলকভাবে আমাকে ওই মামলায় আসামী করা হয়। মামলার প্রধান আসামী করা হয়েছিল উপজেলা বাজুয়া গ্রামের রবিন্দ্রনাথ মণ্ডল ওরফে রবির ছেলে অভিজিৎ মণ্ডলকে। তিনি বলেন, বন্যা ছাত্রীজীবনে তাদের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। বন্যার পিতা মাতা কাছে না থাকায় অভিজিৎ তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এক পর্যায়ে খারাপ আচারণ করায় অভির প্রেমে সাড়া দেয় কলেজ ছাত্রী বন্যা। শেষ পর্যন্ত অভিজিৎ বন্যার সঙ্গে প্রতারণা করলে মৃত্যুর পথ বেচে নেন।

ওই মিথ্যা মামলা থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে বেকসুর খালাস পাবেন বলে দাবি করেন তিনি। স্বর্ণদ্বীপ আরও বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগ সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর আবেদন করে তার ওপর আরোপিত সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানিয়েছি।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও দাকোপ থানার উপপরিদর্শক আল মামুন খুলনাটাইমসকে বলেন, তদন্তপূর্বক চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ঘটনার সংশ্লিষ্ট আসামীদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার মতো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। তাদের ভিতরে প্রেমের সম্পর্ক থাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান বিনয় কৃষ্ণ রায় মুঠোফোনে খুলনাটাইমসকে বলেন, পুলিশ টাকার বিনিময় স্বর্ণদ্বীপকে মিথ্যা মামলায় আসামী করে থাকে। মামলা দায়েরের পূর্বে আমরা প্রতিবাদ করলেও কোনো বাধা তারা মানেনি। পরে জানতে পারি কোনোভাবে সে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল না। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান ও পারিবারিক অবস্থান বিবেচনাপূর্বক তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে ওই পদে পূনর্বহাল করা হোক। যেহেতু সে ওই অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয় সেজন্য আবেদনের মাধ্যমে সুপারিশ করা হয়েছে।