দাকোপে আ.লীগের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ

0
977

আজিজুর রহমান, দাকোপ থেকে :
খুলনার দাকোপ উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবুল হোসেনের সঙ্গে নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুনসুর আলী খানের বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার (৮ মে) বেলা ঢেড়টার দিকে মুনসুর আলীর ছেলে ইমরান খানের নেতৃত্বে আট থেকে নয় জন প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এরপরে হামলার প্রেক্ষিতে রাত নয়টার দিকে আবুল হোসেনের নির্দেশে ইমরান খানের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ইমরানসহ দুই জন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন।

প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, মাসুমের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে ইমরানের ভাগিনা বাঁধন বাক্কা লাগায়। এতেই শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা। এক পর্যায়ে উভয়ের ভিতরে দ্বন্দ্বের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের নিকট থেকে লিখিত অভিযোগ দাকোপ থানায় দায়ের হয়েছে।

মাসুমের অভিযোগ সুত্রমতে, ‘অগ্রণী ব্যাংক চালনা বাজার শাখা’ ভবনের ৩য় তলায় তার ঠিকাদারী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়। ঘটনার সময় মাসুমসহ কয়েকজন সহযোগী কার্যালয়কক্ষে অবস্থানকালিনে ইমরান খান(৩২) তার ভাগিনা মারুফ শেখের ছেলে বাঁধন শেখ(২৫), আকাশ মোল্যা(২৬) ও তপন সানা(২৫) সহ অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজন হামলাকারিরা দা, লাটি, ছোরা ও চাকু দিয়ে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক মাসুমের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে হামলা চালায়। এসময় তারা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যালয়ের দরজা ভাঙচুর করে ভিতরে প্রবেশ করে। হামলাকারিদের হাত থেকে রক্ষা পেতে মাসুম অফিসকক্ষের টয়লেটে আশ্রয় নেন। ডাকচিৎকারে রাস্তার লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এ দিকে প্রকাশ্যে ব্যাংক ভবনে হামলার ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন। এতে প্রায় ঢেড়ঘন্টা ব্যাংকের প্রধানফটক তালাবন্ধ করে সকল লেনদেনের কাজ বন্ধ রাখা হয় বলে জানা গেছে।

ইমরানের অভিযোগ সুত্রমতে, আবুল হোসেনের নির্দেশে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের নিজস্ব বাসভবনে ঘটনার দিন রাতে শেখ আবুল হোসেনের ছেলে মাসুম শেখ(৩৭), রফিকুল গাজীর ছেলে আরিফুল গাজী(২৬), সিরাজুল শেখের ছেলে আজগর হোসেন বাপ্পি(২৭), রবিউল ইসলাম গাজী(৩৮), পারভেজ(২৬), মহাসনি(২৮), মতিয়ার বিশ্বাস(৩৫), মহিবুল্লাহ শেখ(৩৮), আরাফাত আজাদ(২৮), ও মাসুম(২৭) সহ অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজন হামলাকারিরা বাসভবনের প্রহারিকে মারপিঠ করে ভবনের ভিতরে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। অভিযোগে আরও জানা যায়, লোহাররড়, শাবল, দাসহ দেশীয় অস্ত্রদ্বারা হামলাকারিরা হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারপিঠ করে প্রাণনাশের হুমকি দেন ইমরানসহ তার সহযোগিদের। এতে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বুধবার তাৎক্ষনিক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। হামলার প্রেক্ষিতে হামলার পর বৃহস্পতিবার (৯ মে) সকাল ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের আরও একটি অংশের পক্ষ থেকে ডাকবাংলো মোড়ে নিজস্ব কার্যালয়ে উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসিত বরণ সাহার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেন খুলনাটাইমসকে বলেন, হামলাকারিরা আমার ছেলের ওপর হামলার ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এমন মিথ্যা অভিযোগ করতে পারেন। যদি ইমরানের ওপর হামলা হতো তাহলে সে তো বৃহস্পতিবার (৯ মে) দিনভর মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে পারত না বলে দাবী করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আমাকে রাজনৈতিকভাবে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এমন মিথ্যা ঘটনা ঘটাতে পারে।

বিষয়টি জানার জন্য নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খানের মুঠোফোনে সন্ধ্যায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য তুলে ধরা সম্ভাব হয়নি।

দাকোপ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোকাররম হোসেন সন্ধ্যায় খুলনাটাইমসকে বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে দুই পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান তিনি।