দাকোপের কলেজ ছাত্রী জয়ী আত্মহত্যার প্ররোচক ইনজামামের আত্মসমর্পন, কারাগারে প্রেরণ

0
625

খুলনা টাইমস প্রতিবেদক:
দাকোপ উপজেলার এলবিকে মহিলা কলেজের মেধাবী ছাত্রী জয়ী মন্ডলের আত্মহত্যার ঘটনায় মূল আসামী ইনজামাম মির্জা রোববার দুপুরে খুলনার অতিরিক্তি মূখ্য ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পন করেছে। আদালতের বিচারক মারুফ আহমেদ তাকে জামিন না দিয়ে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে গন্যমাধ্যমকর্মীরা তার ছবি তুলতে আদালত চত্বরে গেলে ইভটিজার ইনজামামের পক্ষে আইনজীবী পারভেজ আলম সাংবাদিকদের আশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ছবি তুলতে বাঁধা দেন। পরে অন্যান্য আইনজীবী ও গনমাধ্যম কর্মীদের প্রতিবাদের মুখে তিনি সেখান থেকে সরে যান। আদালত আঙ্গিনায় বিভিন্ন সময়ে কুখ্যাত, ঘৃণিত আসামীর পক্ষে এ্যাডভোকেট পারভেজ আলমের এই ঔদ্ধত্যমূলক আচরণ নতুন নয়। তার এই ন্যাক্কারজনক আচরন সমাজে ইভটিজারদেরই উৎসাহিত করবে বলে মন্তব্য করেন অন্যান্য আইনজীবীরা। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে খুলনা টিভি রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দ।
সূত্র জানায়, গত ৬ নভেম্বর সোমবার বাজুয়া এস এন কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি ইনজামামুল হক মির্জার ইভটিজিং এর শিকার একই কলেজ ছাত্রী জয়ী মন্ডল (২০) আত্মহত্যা করে। সে বানীশান্তা ইউনিয়নের উত্তর বানীশান্তা গ্রামের কুমারেশ মন্ডলের কন্যা। সোমবার সকাল ৯টার দিকে বাজুয়া এস এন কলেজের হোস্টেলের কক্ষ থেকে ওই ছাত্রীরা ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ দেখতে পায়। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দাকোপ থানাকে অবহিত করলে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে। মেয়েটির পরিবার এ মৃত্যুর জন্য বাজুয়া এস এন কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি ইনজামামুল হক মির্জাকে দায়ী করছে আত্মহনন মামলা দায়ের করে। পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি এক বিবৃতিতে তাকে দল থেকে সাময়িক বহিস্কার করে।
জয়ীর ভাই দেবাঞ্জন মন্ডল বলেন, তাঁর বোন কলেজ হোস্টেল থেকে ফিজিক্সের শিক্ষক অরিন্দম স্যারের কাছে পড়তে আসার পথে উক্ত বাজুয়া এসএন কলেজের ছাত্রলীগ সভাপতি ইনজামামুল হক মির্জা তাকে প্রায় উত্যক্ত করতো। রোববার ইনজামামুল হক তার বোনের সাথে খারাপ আচরণ করলে বোন তাকে একটা থাপ্পড় দেয়। এতে ইনজামাম ক্ষিপ্ত হয়ে জয়ীকে মারধোর করে। এই ঘটনা সে তার বান্ধবীদের সাথে বলেছে। আর অপমান সইতে না পেরে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।