তীব্র দাবদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন

0
632

কামরুল হোসেন মনি:

আজ ১৪ জ্যৈষ্ঠ। এপ্রিল-মে মাসের অধিকাংশ সময় কালবৈশাখী আর বজ্রঝড়ের পর কমে এসেছে বৃষ্টি; সেই সঙ্গে বাড়তে শুরু করেছে বাতাসের তাপমাত্রা। রোববার (২৭ মে) খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ৪ দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী ২-৩ দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম রয়েছে। এরকম আবহাওয়ায় অতিষ্ঠ জনজীবন। হাসপাতালে পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ডায়রিয়ায় শিশুসহ বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আমীরুল আজাদ বলেন, গত ২৪ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত ক্রমন্বয়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। তার দেওয়া তথ্য মতে, গত ২৪ মে খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনি¤œ ছিল ২৬ দশমিক সেলসিয়াস। এরপর থেকে বাড়তে থাকে তাপমাত্রা। ২৫ মে খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনি¤œ ছিল ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৬ মে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনি¤œ ছিল ২৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলিসিয়াস এবং ২৭ মে বাতাসের গতি একটু বেশি থাকার কারণে ওই দিন খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনি¤œ ছিল ২৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই আবহাওয়াবিদ বলেন, আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী দুদিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। সামান্য বাড়তে পারে রাতের তাপমাত্রাও। আর খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের কোথাও কোথাও মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। থার্মোমিটারের পারদ চড়তে চড়তে যদি ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে, আবহাওয়াবিদরা তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলেন। উষ্ণতা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি তাপপ্রবাহ। আর তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেলে তাকে তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করে আবহাওয়া অফিস। রোববার বৃষ্টি ছিল না কোথাও। এজন্য তাপমাত্রাও বাড়ছে। আরও দুদিন তা অব্যাহত থাকতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সাধারণত মে মাসের শুরু থেকেই গরম থাকে। এবার তা একটু দেরিতে এসেছে। বেশ বজ্রবৃষ্টি ও ঝড়ের দাপট ছিল অনেক দিন। মাঝে কয়েক দিন বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হচ্ছিল। এখন মেঘমুক্ত আকাশে তাপ আর গরমের তীব্রতা বেড়েছে।
এদিকে, দাবদাহ থেকে পরিত্রাণ পেতে অনেকেই রাস্তাঘাটে তৈরি ক্ষতিকারক মিশ্রিত রঙ দিয়ে শরবত পান করছে। এতে অনেকে ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছেন। রোজা রেখে অনেকেই ভাজাপোড়া খাওয়ায় কেউ কেউ ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছেন। খুলনা সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগের সূত্র মতে, গত দুইদিনে শিশুসহ বয়স্করা ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে এখানে ভর্তি হচ্ছে।
নিলা পাল (৪৮)। রোববার সকাল থেকে একাধিকবার পাতলা পায়খানার পাশাপাশি বমি হয়। তার ছেলে অভিজিৎ পাল জানান, দুপুরের পর থেকে তার মায়ের একাধিকবার পায়খানা হওয়ার পর দুর্বল হয়ে পড়েন। তাকে প্রথমেই খুলনা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর নগরীর মীরেরডাঙ্গা বক্ষব্যাধি হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। সেখানেও ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বেশি।